#সিলেট বিভাগ

সিলেটে প্যাকিং হাউজ ও সার্টিফিকেশন ল্যাব নির্মাণ করা হবে : কৃষিমন্ত্রী।

সিলেট প্রতিনিধি :
দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রপ্তানির জন্য সম্ভাবনাময় সিলেটে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সহজীকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার নগরীর আমানউল্লাহ্ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিনিয়োগ বিষয়ক এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী, এমপি ও এফবিসিসিআই এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম. এ. মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি তাহমিন আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সিলেটকে কৃষি পণ্য উৎপাদনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা উল্লেখ করে বলেন, সিলেটের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি উৎপাদন ও উন্নয়নে ২২৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় উচ্চফলনশীল ধান, খাদ্যপণ্য, ফল বিশেষ করে কমলালেবু, আনারস এবং কফি চাষ সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষ করে সিলেট আনারস উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফিলিপাইন থেকে উন্নতমানের আনারসের চারা আমদানি করে ব্যাপক হারে সিলেটে সরবরাহ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে হলে পণ্যকে নিরাপদ রাখতে হবে। ‘নিরাপদ খাদ্য’ এর জন্য প্যাকিং হাউজ ও সার্টিফিকেশন ল্যাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সিলেট থেকে যাতে বিদেশে কৃষিপণ্য সঠিক প্রক্রিয়ায় বিদেশে রপ্তানি করা যায় সে লক্ষ্যে ঢাকার শ্যামপুরের মত সিলেটে প্যাকিং হাউজ এবং সার্টিফিকেশন ল্যাব দ্রুত চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখনো ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে যারা কোন না কোনভাবে কৃষির সাথে জড়িত। তাই দেশের উন্নয়ন করতে হলে কৃষির আধুনিকায়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানুযায়ী কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। বিশেষ করে ধান জাতীয় খাদ্যে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রæতি সহ এমডিজি ও বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি অর্জন করে শেখ হাসিনা এখন ‘বিশ্বে মাথার মুকুট’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও অহংকারের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, সরকারের ১২ বছরে আমরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি। খাদ্যে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষিমন্ত্রীর দূরদর্শীতায় দেশে প্রতিবছর ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে। এখন আমরা খাদ্যের জন্য চিন্তা করি না, আমরা এখন বিদেশে খাদ্যপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছি। এসব খাদ্যপণ্য রপ্তানির জন্য সিলেটে প্যাকিং হাউজ খুবই প্রয়োজনীয়। দেশে এখন অনেক খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে, প্যাকিং হাউজ হলে রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা কয়েকধাপ এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। তার নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন, সিলেট-তামাবিল ৪ লেন ও বাদাঘাট বাইপাস সড়ক অনুমোদিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কারণেই সিলেটে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আমাদের কাছ থেকে খাদ্যপণ্য নিতে খুবই আগ্রহী। ফুড সিকিউরিটির আওতায় তারা সবজি এবং বিশেষ করে আম সরাসরি কার্গো বিমানে নিতে চায়। তারা এগুলো তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে ২২টি দেশেও রপ্তানি করবে। এ ব্যাপারে সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *