#সিলেট বিভাগ

সিলেট বিভাগে ন্যায্য মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ) থেকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) -এর চারটি পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। পেঁয়াজসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পণ্য চারটি হচ্ছে-পেঁয়াজ, চিনি, ডাল ও সয়াবিন তেল।

টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, প্রথমদিনে সিলেট বিভাগের জন্য চারটি পণ্য মিলিয়ে ৩৩ হাজার ৬শ’ কেজি/লিটার পণ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য ১৬ টি ট্রাকে করে সকাল-সন্ধ্যা বিক্রি করা হয়। ভোক্তারা করোনাকালের এই দুঃসময়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে টিসিবি’র পণ্য কিনতে পারায় খুবই আনন্দিত। ন্যায্যমূল্যের টিসিবি’র এসব পণ্য শুক্র ও শনিবার ব্যতিত প্রতিদিন বিক্রি করা হবে। আগামী পয়লা অক্টোবর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।
জানা যায়, গতকাল রোববার প্রথমদিনে বিভাগের ৪ জেলায় ৩ হাজার ২শ’ কেজি পেঁয়াজ, ৯ হাজার ৬০০ কেজি চিনি, ৮ হাজার কেজি ডাল ও ১২ হাজার ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ করা হয়। খোলা ট্রাকে টিসিবি’র এসব পণ্য বিক্রির প্রথমদিনে ক্রেতাদের তেমন ভিড় পরিলক্ষিত হয়নি।

টিসিবি সূত্রমতে, গতকাল সিলেট বিভাগে ১৬ টি ট্রাকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় হয়। এর মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫টি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা সদরে দু’টি করে ৬টি। এছাড়া সিলেটের ওসমানীনগর ও দক্ষিণ সুরমা এবং মৌলভীবাজারের জুড়ি, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলায় খোলা ট্রাকে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি হয়। ভোক্তারা ৩০ টাকা দরে দু’কেজি পেঁয়াজ, ৫০ টাকা দরে দু’কেজি চিনি ও দু’কেজি ডাল এবং ৮০ টাকা লিটার দরে ৫ কেজি সয়াবিন তেল।

নগরীর সুরমা পয়েন্ট এলাকায় গতকাল দুপুর থেকে টিসিবি’র পণ্য কিনতে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষকে। লাইন অনেকটা কম লম্বা হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ, চিনি, ডাল ও তেল ক্রয় করতে পারেন দিনমজুর কুদ্দুছ মিয়া। এ সময় তার চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ লক্ষ করা যায়। হকার সুরুজ আলী বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি টিসিবি বিক্রি করছে ৩০ টাকা দরে । সরকার কম দামে ইতা (পেঁয়াজ, চিনি, ডাল ও তেল) বিক্রি করায় আমরা খুব খুশি।’ কাপড় ব্যবসায়ী এখলাছ উদ্দিন বলেন, সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি সারাবছর টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে, আজ সোমবার সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ, আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স, রেজিস্ট্রারি মাঠ, আলমপুর টিটিসি প্রাঙ্গণ ও আম্বরখানা এলাকায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করা হবে। এছাড়া, সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, কোম্পানীগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও কমলগঞ্জ উপজেলায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রি হবে। বিভাগের অপর ৩ জেলা সদরের প্রত্যেকটিতে দু’টি ট্রাকে করে খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি করা হবে।

টিসিবি এর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের কার্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মজুমদার। এ সময় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমদিন হওয়াতে টিসিবি পণ্য কিনতে গতকাল মানুষের ভীড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে, মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় জনগণ জানতে পারছে। এজন্য প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে ভোক্তাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকবে। তিনি বলেন, টিসিবি পণ্য বিক্রির খবরে পেঁয়াজের বাজার এখন স্থিতিশীল। আগামীতে এসব পণ্যে প্রভাব পড়বে-যোগ করেন টিসিবি’র এ কর্মকর্তা।

অপরদিকে, সিলেটের বাজারে এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে, গত ৩-৪ দিন থেকে পেঁয়াজের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি পেঁয়াজ বড় ৪০ ও ছোট ৪৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্রহ্মময়ী বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, কম দামে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি হলেও এখনো বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। ক্রেতারা আগের মতো পেঁয়াজ ক্রয় করায় বিক্রি ভালো হয়েছে।
নগরীর খুচরা বাজারে শাকসবজি ও মসলা জাতীয় নিত্যপণ্যের দাম প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। এমনকি অস্থিতিশীল পণ্যের মধ্যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ ও গাজর ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *