বিশ্বনাথে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ২ ।
সিলেট প্রতিনিধিঃ
বিশ্বনাথে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে আটক ২ বৃদ্ধকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা হচ্ছে লামাকাজী বাজারের নৈশপ্রহরী উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের কমলা মিয়া ও দৌলতপুর ইউনিয়নের সত্তিশ গ্রামের রইছ আলী।
শনিবার দিবাগত রাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মখলিছুন বেগম (৩২) নামের ওই নারী। তিনি উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৩ (তারিখ- ২১.০৮.২২ইং)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মখলিছুন বেগম স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। বাবা দরিদ্র হওয়ায় তিনি লামাকাজী বাজারের নৈশপ্রহরী মির্জারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কমলা মিয়ার বাসায় বেশ কিছু দিন ঝি এর কাজ করেন। এ সুবাদে মখলিছুন বেগমকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কমলা মিয়া তার সত্তরোর্ধ্ব বিয়াই উপজেলার সত্তিশ গ্রামের রইছ আলীর সাথে তার (মখলিছুন) বিয়ে দেন। বিয়ের কয়েক দিন পর রইছ আলী জানতে পারেন, তার নব-বিবাহিতা স্ত্রী মখলিছুন বেগম অন্তঃসত্ত্বা । পরে দুই বিয়াই মিলে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করান তার। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর রইছ আলী মখলিছুন বেগমকে নিজের ঘরে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে (মখলিছুন) তার পিতার বাড়িতে রেখে যান দুই বিয়াই (কমলা-রইছ)। এদিকে, মখলিছুন বেগমের শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হলে পুলিশের সহায়তায় গত ২০ আগস্ট শুক্রবার তাকে (মখলিছুন) ফের হাসপাতালে পাঠান তার বাবা। ওই দিন রাতেই কমলা মিয়া ও তার বিয়াই রইছ আলীকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। শনিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মখলিছুন বেগম।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কমলা মিয়া ও রইছ আলীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।





