#সিলেট বিভাগ

তামাবিল বর্ডার দিয়ে পাথর আমদানী বন্ধ।

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটের তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে অটো এসএমএস পদ্ধতিতে পাথর আমদানির সরকারি সিদ্ধান্তের পর গত শুক্রবার থেকে পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে। অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং লোকসানের আশঙ্কায় আমদানী বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে, প্রতিদিন যে বন্দর দিয়ে সাত থেকে আটশ ট্রাক দিয়ে পাথর আমদানী হতো, সেখানে গত ৩দিন থেকে কোনো পাথর আসছে না। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি এ ব্যবসার সাথে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে রয়েছেন।

পাথর আমদানীকারকদের অভিযোগ, তামাবিল স্থল বন্দরের বাংলাদেশ ও ভারত দুই পাশে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিতা দিয়ে মেপে পাথর আমদানী করা হয়। গত শুক্রবার থেকে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বাংলাদেশ স্থল বন্দরে অটো এসএমএস সফটওয়্যার চালু করা হয়। এতে প্রতিটি গাড়ি স্কেলে উঠার পর ব্যাংকের নামসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু লিখে দিতে হবে। এরপর অটো এসএমএস আমদানীকারকের মোবাইলে পৌঁছার পর গাড়ি স্কেল থেকে নামানো হবে। এতে প্রতিটি গাড়ির সময় ক্ষেপন হবে ৫ মিনিটের অধিক। ফলে নির্ধারিত সময়ে ২০০ বেশি গাড়ি বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বেন।

এছাড়া, ভারতের ব্যবসায়ীরা পাথর রপ্তানি করে থাকেন ফিতা দিয়ে মেপে। ফিতা দিয়ে মাপা বোল্ডার পাথরের সঙ্গে থাকা পানি ও মাটি ওজনে হেরফের হয়। ফলে ভারত থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কাগজ নিয়ে এসে বাংলাদেশ বন্দরে বেকায়দায় পড়তে হবে আমদানিকারকদের। সব তথ্য নতুন করে দেওয়ার সাথে ওজনের তারতম্যের জন্য গুণতে হবে জরিমানা। ওজনে কম হলেও দিতে হবে নির্ধারিত ওজনের টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবী হচ্ছে, যেহেতু ভারত অংশে স্থল বন্দরের নির্মাণ কাজ চলছে। ভারতের স্থল বন্দর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশের স্থল বন্দরের সমন্বয় হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ বন্দরে অটো এসএম এস সফটওয়্যার পদ্ধতি বন্ধ রাখতে হবে।

আমদানীকারক হাজী সরোয়ার হোসেন জেদু বলেন, একপাশ থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এনে অন্য পাশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাপ কখনও সমান হবে না। এছাড়া, প্রতিদিন ১ থেকে ২শ গাড়ি বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। এভাবে লোকসান করে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তাই কোনো সমাধান না দেখে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি।

পাথর আমদানিকারক জালাল উদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীরা ডিজিটালাইজেশনের পক্ষে। কিন্তু, তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা প্রধান পণ্য পাথর হওয়ায় দু’দেশের সমন্বয় প্রয়োজন। ভারতের বন্দর কাঠামো সম্পন্ন হয়ে গেলে সেখান থেকেই পূর্ণ তথ্য নিয়ে দেশে আসবে পণ্যবাহী গাড়ি। এতে তথ্য প্রদানে সময় কমবে, ওজনের তারতম্যও থাকবেনা।

তামাবিল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মো. মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তামাবিল স্থল বন্দরে গত ৭ জানুয়ারী থেকে অটো এসএমএস সফটওয়্যার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতদিন শুধু ওজন মাপার স্কেল চালু ছিল। এখন ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে অটো এসএমএস পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে করে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছানো আরও তরান্বিত হবে।

তামাবিল কয়লা-পাথর আমদানীকারক গ্রুপের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, স্থল বন্দর ডিজিটালাইজেশনে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে, পাথর আমদানী পদ্ধতি ভিন্ন বিষয়। এখানে দুই দেশের ব্যবসা চলছে। তাই এক দেশে ডিজিটাল পদ্ধতি এবং অন্য দেশে ম্যানুয়াল পদ্ধতি হলে পাথর আমদানীতে সমস্যা হবে। আমরা বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হবো। তাই স্থল বন্দরের দুই দিকে একই পদ্ধতিতে অটোমেশিন চালু হলে সমস্যা নেই। ব্যবসায় আমাদের লস হবেনা। এর জন্য ভারত অংশের স্থল বন্দর নির্মাণ এবং অটোমেশিন পদ্ধতি চালুর আগ পর্যন্ত আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমাদের দিকটা খেয়াল রাখতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *