গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়র রাবেল বরখাস্ত।
সিলেট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সোমবার উপ সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
তার বিরুদ্ধে ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে জনহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।
এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে এবং তা দ্রুত কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক।
উল্লেখ্য, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল এক সময় ছিলেন লন্ডন যুবলীগ নেতা। সেখান থেকে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন । এরপর গত বছরের নির্বাচনে তিনি পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফর করছেন মেয়র রাবেল। সেখানে তিনি এক অনুষ্ঠানে গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দের কথা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী এবং মন্ত্রী-সচিবদের নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে এলাকায়। নানা সমালোচনা, আলোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন তিনি। তার এই বক্তব্যে ক্ষেপেছেন নিজ দল আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলররাও।
লন্ডনের গ্রেটার সিলেট ডেলেপমেন্ট কাউন্সিল এই মতবিনিময় সভা মেয়র রাবেল বলেন, ‘বাংলাদেশে যে ইলেকশনগুলো হচ্ছে, সেখানে আমি নৌকার বিরুদ্ধে দু’বারই পাস করেছি। আমি একবার মেয়র ছিলাম বলে মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। পরের বার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা জানেন নির্বাচনে যে দলীয় প্রতীক পাবেন তাকে পাস করাতেই হবে। এর মাঝেও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় নৌকা, ধানের শীষ থেকে ৫-৭ গুণ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। একজন প্রবাসী হিসেবে মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি প্রবাসীদের মুখ উজ্জ্বল রাখতে কাজ করছি।’
গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ে মেয়র রাবেল জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আমি এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকার কাজ করেছি। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডকে আমি সাজিয়েছি। লাইটিং করেছি। আরিফ ভাই যেভাবে টাউনকে উন্নত করেছেন আমি সেভাবে গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন করেছি। আমরা প্রবাসী থাকায় বাংলাদেশের মতো মন-মানসিকতার নয়। এ কারণে কাজ করতে পেরেছি।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে রাবেল অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবকে গিয়ে বলেছিলাম আমি একজন প্রবাসী নির্বাচন করবো। কিন্তু তিনি দেননি। ‘প্রবাসে যাও’- বলে দিয়েছিলেন। আমি তখন চ্যালেঞ্জ করে উনাকে বলেছিলাম- আপনারা যে প্রার্থীই দেন; আমি পাস করবো। আপনার বাংলাদেশি প্রার্থী পাস করাতে পারবেন না। এরপর তিনি আমাকে মনোনয়ন দেননি। আসলে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র এখনো ঠিক হয়নি।’ দেশের উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু দুর্নীতি কমছে না- এমন বক্তব্যে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দেশ খুব সুন্দর এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আরও উন্নত হোক- এটা আমরা আশা করি। একজন ভালো মানুষ গোটা দেশকে ভালো করবে সেটি সম্ভব নয়। দেশে এখনো প্রচুর পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, আমরা তো গিয়ে ফান্ডিং আনি। আমরা মন্ত্রণালয়ে যাই। সচিবালয়ে সচিবদের সঙ্গে মিটিং করি, এলজিইডি মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করি। তাদের কাছ থেকেই আমাদের ফান্ড আনতে হয়। ওখানে বিরাট একটা পার্সেন্টিজ দিয়ে আনতে হয়। আপনি ১০০ কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসলেন। সেখানে ৫ পার্সেন্ট আগেই দিয়ে আসতে হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তব দিক। একটি বরাদ্দ তিনি ৫ পার্সেন্ট টাকা দিয়ে আনতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।’ মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলের বক্তব্য গতকাল শুক্রবার এলাকায় ভাইরাল হয়েছে। তার বক্তব্য নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনাও।





