#সিলেট বিভাগ

আবারও বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি।

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটে আবারও বাড়ছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি। বুধবার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পানি বেড়েছে। চলমান বন্যার পানি এখনও পুরোপুরি নামেনি। তাছাড়া এখনও প্লাবিত উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা। এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ফের পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধিতে আমুড়া, বুধবারীবাজার, বাদেপাশা, শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকা নতুন করে আবারও প্লাবিত হয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার রাতের ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে এসব ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা। খাগাইল, আমকোনা, বানিগ্রাম, বাগলাসহ কিছু এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এতে ফের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের। পানি আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে অনেকের।

কাদিপুর এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘মঙ্গলবার আতঙ্কে আমরা কেউ ঘুমাতে পারিনি। জেগে রাত কাটিয়েছি। রাতে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘টানা ১০ দিন পর মাত্র দুদিন আগে ঘর থেকে পানি নেমেছে। এখন আবার ঘরে পানি উঠলে দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকবে না।’ লালনগর এলাকার বাসিন্দা আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বারবার এভাবে পানি ঢুকে পড়ছে গ্রামে। আমরা কী করব, কোথায় যাব কিছুই বুঝতে পারছি না।’তবে বুধবার সকালে ঘর থেকে পানি নেমেছে বলে জানান তিনি।

গোলাপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ইনতাজ আলী জানান, এক সপ্তাহ আগে বাসাবাড়ির পাশাপাশি পানি ঢুকে পড়েছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, গত সোমবার দোকান থেকে পানি নেমেছে। আবার পানি ঢুকলে কান্না করা ছাড়া এখন আর কিছুই করার নেই। আমাদের যে কী ক্ষতি হচ্ছে তা বলে বোঝানো যাবে না।’

গোলাপগঞ্জের আরও বাসিন্দা জানান, এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে পানি ঢুকেছিল। আবারও পানি কমার সাথে ভারি বৃষ্টিতে বাড়ি পানি উঠার আশষ্কা রয়েছে। এবং রাস্তার পাশে পানি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। আবার আনকে বলেছে বন্যার হবার আশষ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বলেন, ‘সিলেটের পাশাপাশি উজানেও বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। সব জলাধার পানিতে টইটুম্বুর থাকায় নদী পানি টানতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি নামার জায়গা পাচ্ছে না’।

তথ্যসূত্র : দৈনিক সিলেট।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *