#সাহিত্য ও সংস্কৃতি

হিংসা – আমিনা তাবাস্সুম

হিংসা নাকি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আমি নিজে হিংসা পছন্দ করিনা কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যাপারটা আমার ঘাড়ে এমন ভাবে চেপে বসে যে অনেক কসরত করেও তাকে ঘাড় থেকে নামাতে পারিনা। সকল ধর্মগ্রন্থে মনে হয় হিংসা, রাগ, ক্রোধ এসব থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে চরিত্রের এই দিকগুলি সৃষ্টি করারই কি দরকার ছিল? মানব চরিত্রের এই খারাপ দিকগুলি সৃষ্টি করা হয়েছে, তারপর সেগুলোকে মানব চরিত্রের সহজাত প্রবৃত্তি করে দেওয়া হয়েছে, আর তারপর বলা হয়েছে হিংসা করা বারণ। ব্যাপারটা কেমন জানি হয়ে গেলো না?

আমার শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে ঢাকার এক কলোনীর ফ্ল্যাটে। সেই কলোনীর জীবন অনেক আনন্দের ছিল। সকাল বেলা সব ছেলেমেয়েরা মিলে দল বেঁধে হেঁটে স্কুলে যেতাম, আবার একসাথে গল্প করতে করতে স্কুল থেকে ফিরতাম। বিকাল হতে না হতেই সবার ছটফট শুরু হয়ে যেত। আবারও একসাথে মাঠে সবাই জড়ো হয়ে শুরু করতাম খেলাধুলা, খুনসুটি, হাসি ঠাট্টা আর ঝগড়া। এক্কা দোক্কার কোর্টটা কে আগে পৌঁছে দখল করতে পারবে, ক্রিকেটের পিচটা পাশের পাড়ার ছেলেরা এসে দখল করে না নিয়ে যায়, সুমি আপা আর মাসুদ ভাইয়ের প্রেম প্রেম ভাব আগে কার নজরে পড়ে, রাস্তার মোড়ের চালতার আচার আর কতবেল চাচার কাছ থেকে চালতা কেনার টাকা কিভাবে জোগাড় করা যায় এধরণের নানাবিধ জটিল ব্যাপার স্যাপার মিলিয়ে জীবনটা ছিল বিশেষ মধুর। এই মধুময় কৈশোরটা আরও মধুময় হয়ে উঠতে পারতো, যদিনা মনের মধ্যে হানা দিতো এই অলুক্ষণে হিংসা।

আমাদের ফ্ল্যাটের নিচের তলায় থাকতো আমার থেকে দুইবছরের বড় রানা ভাই। পড়াশুনায় ভালো আর স্বভাবচরিত্রে সুবোধ হবার কারণে পাড়ার বাবা মায়েদের কাছে সে বিশেষ স্নেহভাজন ছিল। সবাই তাকে ভালো বলতো দেখেই হোক আর যে কারণেই হোক, আমারও তাকে খুব ভালো লাগতো। আমি মনে হয় তখন ক্লাসএইটে পড়ি। আমার জীবন তখন আবর্তিত হতো সেই রানা ভাইয়ের কল্পনায়। সারাটাদিন ধরে চলতো নানান পরিকল্পনা। কি করে তার একটু কাছাকাছি থাকা যায়। রোজার ছুটিতে ফ্ল্যাটের সব ছেলে মেয়েরা মিলে লুডু খেলার টুর্নামেন্টের আয়োজন করতাম। সেটা ছিল আমার সবচেয়ে আনন্দের সময়। তার অনেক কাছাকাছি বসে লুডু খেলা যেত। অবশ্য কথাবার্তায় আমার এই ভালবাসার মনোভাব কখনও প্রকাশ হতে দেইনি। সব ভালোই চলছিল কিন্তু হঠাৎ যখন খেয়াল হলো যে রানা ভাইয়ের সাথে তার সহপাঠী আমাদের ফ্ল্যাটেরই লীনা আপার বন্ধুত্ব তখন আমার একেবারে মাথা খারাপ হবার অবস্থা। সহপাঠী হবার কারণে তারা দুইজন একটু বেশি কাছের ছিল আর শুধু এইটুকু কারণে আমার জীবনের সব কিছু অসহনীয় হয়ে উঠলো। সারাটাদিন আমার খেয়াল, তারা কত কাছাকাছি হেটে স্কুলে যায়, কি কথা বলে, তাদের সাধারণ কথাও আমার কাছে রোম্যান্টিক শুনাতো। লীনা আপাকে মাত্রাতিরিক্ত ঢংগী আর ন্যাকা মনে হতো। এর পরের দুই বছর, আমার কৌশোরের সেই স্বর্ণ অধ্যায়, আমি সেই লীনা আপাকে মনে মনে হিংসা করে আমার সুন্দর মুহূর্তগুলো নিজের অজান্তেই বিষিয়ে তুলেছিলাম। সেই লীনা আপার এইচ এস সি পাশ করার পরপরই কুয়েত প্রবাসী এক ইঞ্জিনিয়ারের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। সেই বিয়ের সময় আমরা কলোনীর ছেলে মেয়েরা অনেক আনন্দ করি আর বন্ধু হিসেবে রানাভাই তো জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব করে সব আয়োজনের তদারকির দায়িত্ত্ব নিয়ে নেয়। ইতিমধ্যে সেই রানাভাই ইউনিভার্সিটি শুরুর সাথে সাথেই সুন্দরী এক গার্লফ্রেন্ড জোগাড় করে পাড়ায় একেবারে হিরো বোনে গিয়েছিল।

আমাদের পাড়ারই শেষ মাথায় ছিল আমার এক খালার বাড়ি। আমার মায়ের খালাতো বোন সুবাদে খালা। সেই খালার মেয়ে কলি আমার সমসাময়িক। ছোটবেলা থেকে আমরা দুইজন একেবারে হরিহর আত্মা। সব কিছু আমাদের একসাথে করা চাই। একমাত্র কলিই রানা ভাইয়ের ব্যাপারটা জানত। সে আমাকে প্রায়ই বলত যে লীনা আপার সাথে রানা ভাইয়ের শুধুই বন্ধুত্ব। এই নিয়ে আমি অকারণ অশান্তি করছি। আমি কলির কথা পাত্তা দেইনি। কলি আর আমার পছন্দগুলোও যেন একই রকম ছিল। ঈদের সময় আমরা একই ফ্যাশনের জামা পড়তাম, একই স্টাইলে চুল বাঁধতাম, একই ধরণের বই পড়তে আমাদের ভালো লাগতো আর আমাদের চিন্তা ধারাটাও ছিল এক ধরণের। ঠিক করেছিলাম যে ইউনিভার্সিটিতে আমরা একই বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করবো। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে সেই বিষয়ে কলি চান্স মেয়ে গেলেও কোনো এক কারণে আমি চান্স পেলামনা। সেই থেকে আমাদের ভালোবাসা আর বন্ধুত্বে যেন একটা সূক্ষ্ম ফাটল ধরে গেলো। কলি কিন্তু ঠিক আগের মতোই ছিল। আপন, সাবলীল আর ভালোবাসায় টইটুম্বুর। কিন্তু সূক্ষ্ম হিংসার জাল নিজের অজান্তেই আমার মনে বিস্তার করে সেই ভালোবাসা গ্রহণে অন্তরায় তৈরি করে দিয়েছিলো। এরপর একে একে কলির জীবনে আসে নানান সার্থকতা। চারিদিকে শুধু কলির জয়জয়কার। ভালো রেজাল্ট, ভালো চাকরীলাভ, ভালো বিয়ে আর আমার জীবন যেন থমকে ছিল। কোনোরকমে পড়াশুনা শেষ করে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছি। সারাদিন আমি কলির সাথে নিজের তুলনা করি। আর যতই তুলনা করি, ততই কলির খারাপ দিকগুলো চোঁখে পড়ে। মনে হয় কলি বেশি বাচাল, স্বার্থপর এবং চতুর প্রকৃতির। নিজের চতুরতা দিয়ে জীবনে সব ঠিকঠাক বাগিয়ে নিয়েছে আর আমি সরল মানুষ জীবনের কুচক্র গুলো বুঝতে না পারার কারণে আজ আমার এই অবস্থা। আমি আমার নিত্যসঙ্গী হরিহর আত্মা কলিকে অনেক মিস করি। কলিকে ছাড়া জীবন দুর্বিষহ আর কলিকে কাছে পেলেও জীবন অসহ্যকর। আর কলি আমাদের নিত্যকারের সাধারণ সম্পর্ক আর ভালোবাসাটুকু বজায় রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়েছে যে আমি যেন কলির সাথে কিছু একটা ঠিক করছিনা। কিন্তু তারপর আবার মনে হয়েছে এমন তো হবার কথা ছিলনা। আমাদের তো সব একরকম হবার কথা ছিল। হঠাৎ আমাকে পিছে ফেলে আরেকজন কেন এতো এগিয়ে যাবে? ভাগ্যের এই পরিহাস মেনে নেওয়া আমার কাছে তখন ভীষণ কষ্টের ছিল।

কলির বিয়ের বছর তিনেক পর আমারও যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। ইংল্যান্ডে এসে নতুন সংসার ভালোই লাগছিলো। আমার স্বামী এসিসিএর পড়াশুনা করছে, আর তার পাশাপাশি একটা সুপারস্টোরে কাজ করে। আমিও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এখানে নামমাত্র এক কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি এক দোকানের কাজ নিয়ে নিলাম। দুই বেডরুমের ছিমছাম এক বাসায় আমরা আর শাম্মী-মইন দম্পতি শেয়ার করে থাকি। আমরা দুই দম্পতিই বয়স, সামাজিক অবস্থা, আর্থিক অবস্থা সবদিক থেকেই সমভাবাপন্ন। দুই দম্পতির জীবন ধারা, জীবনের লক্ষ্যে, গন্তব্যস্থল একই ধারায় প্রবাহিত। আমাদের একসাথে জীবনটা খুবই সুন্দর কেটে যাচ্ছিলো। আমরা চার জনে যে যার কাজের পরে ভাগাভাগি করে রান্না করি, শাম্মী আর আমি ঘর গুছিয়ে পরিপাটি করে রাখি, বাড়ির পিছনে এক চিলতে বাগানে ফুল-ফলের গাছ লাগাই। কখনও চার জনের কাজের ছুটি একদিনে পড়ে গেলে দূরে কোথাও বেরিয়ে আসি, সিনেমা দেখতে যাই নতুবা পছন্দের কোনো রেস্টুরেন্টে খেয়ে আসি। অবসরে চার জন মিলে আড্ডা দেই। আড্ডার বিষয়বস্তু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কবে আমাদের এদেশে পার্মানেন্ট রেসিডেনসি হবে, ভালো চাকরি নেবার সুযোগ হবে, পরিবারে ছোট ছোট মানুষ আসবে, নিজের একটা বাড়ি হবে আর আমরা তখন একে অপরকে বাড়িতে দাওয়াত করে কি খাওয়াবো এই ধরণের কখনও ভারী, কখনও হালকা আলোচনায় ঘন্টার পর ঘন্টা চলতো আমাদের আড্ডা।

হঠাৎই যেন মইন ভাইয়ের ভাগ্য খুলে যায়। তিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করার পাশাপাশি একটা টেলিকম কোম্পানিতে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছিলো। বিনা বেতনের কাজ হলেও ভবিষ্যতে চাকরি পেতে সাহায্য করবে সেই আশায় এই আলগা খাটুনি। সেই কোম্পানি মইন ভাইয়ের কাজে এতটাই মুগ্ধ যে তার ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা করে সেখানে স্থায়ী চাকরি প্রদান করে দিলো। সেই সাথে বদলে ঘুরে গেলো তাদের ভাগ্যের চাকা। শাম্মীরা আলাদা বাসা নিয়ে উঠে গেলো, জীবনে স্বচ্ছলতা আসার কারণে শাম্মী মোটামুটি একটি ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করে কোন একটা কম্পানিতে অ্যাডমিনের কাজ শুরু করলো আর তাদের ঘর আলো করে আসলো ফুটফুটে একটা ছোট মেয়ে।

আর অপরদিকে আমরা প্রতিনিয়ত কামলা খেটে যাচ্ছি। বসে আছি দশ বছরের আশায়। দশ বছর এদেশে থাকলে পাকাপোক্ত ভাবে একটা থাকার ব্যবস্থা করা যাবে। তখন নিশ্চয়ই ফুল টাইম কোন ভালো চাকরির ব্যাবস্থা করা যাবে। শাম্মীদের ঘরটা ভাড়া নিয়েছে আরেক ছাত্র। সে বাড়িঘর এলোমেলো করে নিজের মতো থাকে। আমার একেবারে অসহ্য লাগে। তবে সবচেয়ে অসহ্য লাগে শাম্মীদের। প্রতিদিন ওদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে, পুতুলের মতো মেয়েটাকে নিয়ে ভিডিও কল করে আড্ডা দেবার চেষ্টা করে, ছুটির দিনে একসাথে বাইরে বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা করতে থাকে, ওর যন্ত্রনায় একেবারে অস্থির লাগে আমার। ওদের এখন সুখের সময়, হেসে খেলে, বেরিয়ে আড্ডা দিয়ে জীবনযাপন করা ওদেরই মানায়। আমাদের কামলার জীবনে এসব সাজেনা। আমি ধীরে ধীরে শাম্মীর কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকি। শাম্মীর প্রতিটা ব্যাপার আমার কাছে লোক দেখানো বা অহংকার মনে হয়। বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করলে মনে হয়, নিজেদের আলাদা বাড়ি নিয়ে শো অফ করছে। কিন্তু শাম্মী ছাড়ার পাত্রী না। ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে প্রায়ই চলে আসে আমার বাড়িতে। ওর নাকি আমার সাথে সময় কাটাতে না পারলে দম বন্ধ হয়ে আসছে। অনেক কথার মাঝে ওদের নতুন জীবনের গল্পও চলে আসে। আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মনে হয় দম বন্ধের নাম করে নিজেদের সাফল্যের কথা শুনাতে আসছে। আমার মনে হয় ছোট বেলা থেকেই আমার ভাগ্যটা খারাপ। আমার নাকের ডগার উপর দিয়ে একে একে সাফল্যের দ্বারে পৌঁছে যায় আর আমি পড়ে থাকি আস্তাকুড়ে। এই নিয়ে আমার স্বামীর সাথেও চলে খুটখাট অশান্তি। সে অশান্তি এড়াতে আরও কাজ করে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। শাম্মী আর মইন ভাইও ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে ধীরে ধীরে দূরত্বটা মেনে নেয়।

শাম্মীদের আলাদা বাড়ি নেবার বছর চারেক পর আমার স্বামীর এদেশে থাকার দশ বছর পূর্ণ হয়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে ব্যবস্থা হয় সেই প্রতীক্ষিত পার্মানেন্ট রেসিডেন্টশিপের। তবে অন্য কোনো চাকরির আর ব্যবস্থা করে উঠতে পারেনি আমার স্বামী। সেই সুপারস্টোরেই ফুল টাইম কাজ করে যাচ্ছে আর এতেই আমরা ছোটোখাটো একটা আলাদা বাসায় সংসার পেতে বসেছি। এখনও মাঝে মাঝেই শাম্মী ফোন করে আমাদের খোঁজ খবর নেয়। ওর নিজের কথা খুব একটা বলেনা কিন্তু অনেকের কাছেই জানতে পেরেছি যে মইন ভাই চাকরিতে অনেক উন্নতি করেছে। ফেসবুকে দেখতে পাই যে দামি বাড়ি, গাড়ি, জিনিষপত্র, হলিডে, সবকিছুতে জীবন পরিপূর্ন তাদের। শাম্মীর কথা মনে করলেই আমার বিরক্ত লাগে। ওদের আনন্দের জীবনে ওরা আনন্দে থাকুক। শুধুশুধু কেন আমার সাথে যোগাযোগ রেখে অশান্তি বাড়ানো।

অবশেষে আমার ঘর আলো করে আসলো ফুটফুটে একটা ছেলে। স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে অনেক সুন্দর সময় কাটাবো, অনেক আনন্দ করব। কিন্তু বাস্তবে দেখলাম কিছুই ভালোলাগেনা। খালি কান্না পায়। কলির কথা মনে হয়, শাম্মীর কথা মনে হয়। নাহ, ওদেরকে কাছে পাওয়ার কথা মনে হয়না। ওদের ভাগ্যের কথা মনে হয় আর আমার নিজের ভাগ্যের কথা মনে করে কষ্ট হয়। আমার স্বামী একা হাতে কাজ, সংসার, ছেলে সামলানো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। আর আমার কিছুই ভালোলাগেনা, আমি মনমরা হয়ে বসে থাকি।

ছেলে হবার পর থেকে আবারও বাড়িতে শাম্মীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ছেলে দেখতে আসার নাম করে গাদাখানিক উপহার নিয়ে শাম্মী আর মইন ভাই একদিন হাজির। আমার স্বামী তো পুরোনো বন্ধুদের ফিরে পেয়ে মহা আনন্দিত। আমার দেখে আরও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু এর পর থেকেই সুযোগ পেলেই শাম্মী চলে আসে। কখনও রান্না করে নিয়ে আসে, কখনও বাড়িতে এসে টুক টাক কাজ করে দেয়, শাম্মী আর ছোট্ট মেয়েটা মিলে আমার ছেলেটাকে আদর করে, ওর সাথে খেলে, এর মাঝে শাম্মী আমার সাথে টুকটাক গল্প করার চেষ্টা করে। শাম্মীর কাছে শুনতে পাই ওর মেয়ে হবার সময়কার গল্প। আমাদের ছেড়ে গিয়ে একা একা থাকার গল্প। মেয়েটি হওয়ার পর ও নাকি খুবই ডিপ্রেশনে ভুগে। সেসময় নাকি ওর খালি কান্না পেতো। মনে হতো আমার সাথে একটু মন খুলে কথা বললে হয়তো একটু ওর ভালো লাগবে। সেই ডিপ্রেশন কাটাতে ওর অনেক সময় লেগেছে। ও চায়না ও যেই কষ্ট পেয়েছে আমি সেই কষ্ট পাই। আমি যেন ছেলেটাকে নিয়ে হাসি আনন্দে জীবন শুরু করতে পারি। আমি কিছু বলিনা। আমার কিছু ভালো লাগেনা। আমার শুধু কান্না পায়।

আমি ভাবি শুধুমাত্র মনের মধ্যকার কি একটা সূক্ষ্ম অনুভুতির কারণে আমার জীবনের কিছু সুন্দর এবং আনন্দের সময় চিরকালের মতো অসুন্দর হয়ে গেলো। এই সূক্ষ্ম অনুভুতিটা না থাকলে আমি যে জীবনে বিশাল কিছু করে ফেলতাম তা না। এখন যা আছি তাই থাকতাম। কিন্তু যখন পিছনে তাকাই তখন মনে হয় এই একই জীবনটাকে হয়তবা আরও একটু সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারতাম। মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা যদি আবার প্রথম থেকে শুরু করতে পারতাম। কিন্তু প্রথম থেকে শুরু করলেও হিংসা কে যে এবার জয় করতে পারতাম তার কি আসলেই কোনো নিশ্চয়তা আছে?

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *