আমার মা — সারোয়ার চৌধুরী
আমার মা
সারোয়ার চৌধুরী
ঘুম ভেঙ্গে যায় আবার ঘুমিয়ে যাই- মোয়াজ্জেম এর আজানের ধ্বনি শোনা যায়। অরুন্ধতী কথা রেখেছে , সে এসেছে আমার ক্লান্তিকে মোহনীয় করে দিতে।
ঊষালগ্নে চা বা কফি কিছুই দিতে পারবো না বসো সোফাটায় অন্ধকারে মুখোমুখি , আমি আমার মায়ের মৃত্যু নিয়ে থিসিস করছি।
বাহ্ বেশ তো! চোখগুলো মার্বেলের মত গোল করে আমার শূন্য চোখে কি যেন খুঁজতে লাগলো।
সেই কিশোরী বয়স থেকে রঙিন নীল পাড় সাদা শাড়ির মেয়ে আমার মা- শুভ্রতার প্রতীক। পাহাড়সম বিশ্বাস বুকে ধরেই আমাকে মানুষ বানানোর প্রচেষ্টায় কি কঠিন বেদনা পুষে রেখেছিলো । কি আশ্চর্য আমি তো মানুষ হয়েই জন্মেছিলাম !
মা জানতেন মানুষ হয়েও মানুষের ভীড়ে বেঁচে থাকা কতটা কষ্টের কতটা যন্ত্রণার কতটা আক্ষেপের । কালের প্রবাহে কারও জন্ম অকালেই হারিয়ে যায় কেউ কেউ কালের স্রোতে টিকে থাকে বিকৃত বা বিবর্তিত হয়ে।
ভাবনার মোড় নব্বই ডিগ্রী ঘুরে যাচ্ছে – আত্মস্থ হলাম। ভাবছিলাম মায়ের মৃত্যু নিয়ে – ওনার তখন চলে যাওয়ার সময় হয় নি । তবে কি মা আমাকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন !
তুমি ঝরা পাতার শূণ্যতা জেনেছো- দেখেছো কতখানি গাছের মৃত্যু বেদনা। এটাই মহাজাগতিক নিয়ম এখানে কালের প্রবাহে কিছু জন্ম অকালেই হারিয়ে যায় ।
আমি হারালাম না কেন ! একবার নাড়ী কেটে মা আমায় মুক্ত করেছিলেন আবার চলে গিয়ে আমায় মুক্ত করে দিলেন ?
হাঁ। মা চেয়েছিলো – তোমার শৃঙ্খলমুক্তি। বিস্তীর্ণ হউক তোমার প্রান্তর । তোমার জীবনে নেমে আসুক সোনালি রোদের সকাল – রাঙা বিকেল , ঝুম বৃষ্টি আর মায়াবী জোৎস্নার রাত। মা জানতেন একদিন তোমার মনে এ প্রশ্ন জাগবে তাই উত্তর রেখে দিয়েছিলেন আমার কাছে ।
কিন্তু আমি তো রাতজাগা শহরের উল্লাসে বোবা জড় শরীর নিয়ে ঘোর দুঃস্বপ্নের মাঝে দীর্ঘশ্বাস চেপে শেষ গানটার বুকে শুধু – মা’কেই খুঁজি।
প্রতিটি দিবসই যে আমার মায়ের- প্রতিটি রাত্রিই যে আমার মায়ের। অরুন্ধতী – তুমি কেমন করে ভুলে থাকো তোমার অভিযোগ আর অনুযোগ ! কোন যাদুবলে! শিখিয়ে দেবে আমায় ?
আজ যে আর সময় নেই। আবার আসবো আমি। সেদিন চাঁদের সাথে কথা বলবো চিৎকার করে , হাওয়ায় উড়িয়ে দেবো ওড়না আর তোমার টি-শার্টটি , ঘাসের মোলায়েম স্পর্শ নেবো নগ্ন বুকে , ছিন্নভিন্ন করে ফেলবো সব সামাজিক বাঁধন , হাসবো অনর্গল সে যাদুবলে ।





