#রাজনীতি

জটিল সমীকরণে হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থিতা নির্বাচন !

চলে এসেছে হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। ২০২১ সালের পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের জন্যে হবিগঞ্জের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারী। নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে চলছে স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ।তবে এখনো প্রার্থিতা চূড়ান্ত না হলে ও, সরকার দলীয় নেতাদের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে চলছে ব্যাপক গণসংযোগ। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সরগরম প্রার্থী হতে ইচ্ছুক আওয়ামীলীগের নেতারা।

অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপি পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে ৩টি পৌরসভায় জয় পাওয়া বি এন পি বেশ উজ্জীবিত থাকলেও হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ কৌশলে এগোচ্ছে।বিএনপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের হাই কমান্ডের প্রথম পছন্দ সাবেক মেয়র ও বিএনপির হবিগঞ্জের কান্ডারী ও প্রভাবশালী নেতা জি কে গউছ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জি কে গউস বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উনার কোনো ইচ্ছে নাই। কিন্তু দলীয় হাই কমান্ড ও তারেক রহমান যদি সিদ্ধান্ত দেন তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আছে, তারা হলেন বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট নীলাদ্রি শেখর,জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান,ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুদ্দিন বুলবুল। বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পর ও উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়ে নির্বাচিত হন বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে আরও ছিলেন, এডভোকেট নীলাদ্রি শেখর,সৈয়দ কামরুল হাসান ও মর্তুজ আলী। আতাউর রহমান সেলিম একবার দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেলেও জয়ী হতে পারেন নাই।

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, হবিগঞ্জ জেলার ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে যথাক্রমে নবীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুরে বিএনপি জয় পাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিতে খুবই সুবিধা জনক অবস্থানে আছে বি এন পি। যা এখন আওয়ামীলীগের স্থানীয় রাজনীতি তথা জেলা আওয়ামীলীগের জন্যে ও মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই কঠোরভাবে যাচাই বাছাই করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি সামগ্রিক কর্মকান্ড ও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি আর ও বলেন, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় নীতি বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।যার ফলশ্রুতিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলীয় আদেশ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের মনোনয়ন দেয়া থেকে দল বিরত থাকছে।

এদিকে নতুন প্রার্থীদের মধ্যে সুবিধা জনক অবস্থানে আছেন হবিগঞ্জ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুদ্দিন বুলবুল। নুরুদ্দিন বুলবুলের ক্লিন ইমেজ ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। কোরোনার প্রথম ধাপের সময় নুরুদ্দিন বুলবুলের গরিব ও দুঃস্থদের জন্যে করা নিরলস পরিশ্রম ও সাহায্য সহযোগিতা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলো।এছাড়া ও ছাত্রজীবনে মুজিব আদর্শের সৈনিক হয়ে তৎকালীন রাজপথের আন্দোলনে একজন অকুতোভয় নেতা হিসেবে তিনি এখন ও হবিগঞ্জে তরুণ সমাজের কাছে আদর্শের মাপকাটি হিসেবে বিবেচিত হন ।

সময় যতো ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির সমীকরণ ও ততো জটিল হচ্ছে। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় সর্ব মহল। শেষ জয় কার হয় তা দেখার অপেক্ষায় হবিগঞ্জবাসী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *