#পাঠক সমাচার

এই দেশটা কাদের অভয়ারণ্য?

সৈয়দ এনায়েতুর রহমান :
১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হানাদার বাহিনীর ১,২০,০০০নিয়মিত ও মিলিশিয়া বাহিনী মোতায়েন ছিল।তারমধ্যে অবশ্য রাজাকারের সংখ্যা ধরা হয়নি।১৬ই ডিসেম্বর আত্নসমর্পণের পর সিমলা চুক্তির অধীনে ৯৮,০০০ সৈনিক ও কর্মকর্তা পাকিস্তান ফিরে যায়।একটি স্রেফ হিসাব দেখাচ্ছি,ভেবে দেখার অনেক কিছু ই পাবেন।এই স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের ৩০ লক্ষ নিরপরাধ লোককে হত্যা করা হয়।যদি ওই ৩০লক্ষকে ১লক্ষ২০হাজার দিয়ে ভাগ করেন,তবে জনপ্রতি ২৫জন বাঙ্গালী হত্যার দায় হানাদার বাহিনীর ভাগে পড়ে! এটা কেবলই অঙ্কের অনুমান।
অথচ মেজর(অবঃ)সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ওসি প্রদীপ কক্সবাজারে তাঁর চাকুরীকালীন সময়ে মোট ১১৩জন লোককে নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করেছেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন!

আরো অবাক ব্যাপার এই,মেজর সিনহার হত্যাকান্ডের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ তরফে সিদ্ধান্ত হয় ক্রস-ফায়ারে হত্যা এটাই শেষ!ঠিক তাই,গত সেপ্টেম্বর পুরোটাই ক্রসফায়ার বিহীন মাস ছিল।চলতি মাসেও এ রকম ঘটনার কথা শোনা যায় নি!তবে কী আমরা ধারণা করব পুলিশী হেফাজত নিরাপদ? উহু,সেটা যে হবার নয় তা দেখা গেল,সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে এক যুবককে নির্যাতনে হত্যার ঘটনায়।

এদিকে”ধর্ষন”নামক জঘন্য অপরাধ ঘটেই চলেছে!সুধীজনরা এক্ষেত্রে বিচারহীনতা ও সরকারের প্রশ্রয়কেই দায়ী করছেন।কথাটার সত্যতা শতভাগ।কিন্তু আমাদের আবেগপ্রবণতার কাছে যুক্তি নিদারুণ ভাবে হেরে যাচ্ছে।ধর্ষকদের ফাঁসির দাবীতে আমরা সবাই পথে নেমে প্রতিবাদ করছি।সেটা ভাল কথা।কিন্তু বাস্তবতা কী বলে? আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭টি ধারায় আসামীর মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এর বিধান আছেই।

সরকারের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান করে নতুন আইন অধ্যাদেশ জারী করা হচ্ছে।এতে কী হল? স্রেফ আরেকটা আইন যোগই হল।আমাদের দাবী করা উচিৎ,বিচারে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ,অপরাধীর দলীয় পরিচয়কে উপেক্ষা করা,এই জঘন্য অপরাধের আশ্রয়/প্রশ্রয়দাতাকেও আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।এই দাবীকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলা।

আমাদের রক্তে দিয়ে কেনা বাংলাদেশ যেন এসব জঘন্য অপরাধীর অভয়ারণ্য না হয়!আর আমরা যেন ছেলেভুলানো প্রতিশ্রুতির প্রতি সহজে বিশ্বাস স্থাপন না করি!
#Stop_rape_ensure_justice.

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *