#পাঠক সমাচার

ইরানে শিক্ষিত সমাজের বিবাহ ব্যবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কর্তৃপক্ষ এভাবে বিয়ে দিয়ে দিবে এটা অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্র চিন্তা না করলেও যাদেরকে আমাদের অনেকেই মুসলিম বলে স্বীকৃতি দিতে কুন্ঠা বোধ করে সেই ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের বিয়ে প্রতি বছর সম্পন্ন হয়। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০০ ছাত্রছাত্রীর বিয়ে অতিসম্প্রতি একইদিনে এভাবেই সম্পন্ন হয়েছে । অর্থাৎ ৩০০ জোড়া নর নারী পবিত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবন সাগরে তরী ভাসিয়েছে ।

এ ধরনের বিয়ের উদ্দেশ্য, যাতে কেউ কোন অবৈধ সম্পর্কে না জড়ায়, ফালতু চিন্তা না করতে হয়, প্রেম, ছ্যাকা এসব ভুলে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে পারে। নিশ্চয়ই একটা মহৎ চিন্তাধারা থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে ২২ তম বারের মতো ৬০০ ছাত্র-ছাত্রী বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই বিয়ের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন প্রতিনিধি এবং বর-কনেদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদের মধুময় দাম্পত্য জীবনের জন্য ইসলামের দিকনির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া, নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিয়ে অনুষ্ঠানের পর নবদম্পতিরা হানিমুন করতে যান ইরানের ধর্মীয় নগর মাশহাদে।

পাঠক একটু ভেবে দেখুন কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা মাতার জন্য এ ব্যবস্থা কতটা উপকারী ও সহজ সমাধান। আবার বরের পিতা মাতাকেও কোরবানির গরু পছন্দ করার মতো উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে বের করার দুশ্চিন্তা ও গলদঘর্ম হওয়া থেকে বেঁচে যাওয়ার কি সুন্দর ও সহজ সমাধান।

ছবিতে লক্ষ্য করে দেখুন বর-কনে বিয়ের আগে পবিত্র কুরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াত পড়ে একে অপরকে জীবন সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করার শপথ নিচ্ছে আর তাদের মাথার ওপর কনের মা এবং বরের পিতা কাপড় ধরে আশীর্বাদের ছায়া হয়ে ঢেকে রেখেছে । কুরআনের প্রতি যাদের এরকম দৃঢ় আস্থা তারা কি কখনো বিপথগামী হতে পারে ?

বিয়ের আসরে কন্যাপক্ষ এবং বরপক্ষের অযথা অপব্যয় করার যে প্রবনতা আমাদের সমাজে জেঁকে বসেছে তা থেকে বের হয়ে আসার দুর্দান্ত সমাধান এটি নয় কি ???

লেখক : এফ চৌধুরী

 

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *