‘খনার কথা-২’ – শামীমা এম রিতু।
দুই পর্বের ধারাবাহিক লেখার আজকে শেষ পর্ব :
খনার বচন :
কিভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী একজন মহিলার মুখ থেকে উচ্চারিত বাণী শুধু বাংলাদেশে নয়,ভারতবর্ষের একটা বিরাট অংশে ছড়িয়ে পড়লো আর যুগ যুগ ধরে তা মানুষের স্মৃতিতে জেগে রইলো? খনার বচনের প্রাদুর্ভাব আসাম থেকে কেরালা পর্যন্ত বিস্মৃত।হোরাশাস্ত্র সম্পর্কিত গ্রন্থগুলোতে খনার বচনগুলোতে এর প্রমাণ মিলে।আবহাওয়া সম্পর্কিত খনার বচনগুলো বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যাতে প্রায় একই রকম। বিহারে কিছু বচন আঞ্চলিক ভাষায় রচিত হলেও মূলতঃ এগুলো খনার বচনেরই অনুবাদ মাত্র।এইগুলো নিয়ে বিহারে একাধিক সংকলনও প্রকাশিত হয়েছে। খনার মৃত্যুর প্রায় চারশ বছর পর বাঙালি জ্যোতিষী প্রজাপতি দাসের ‘পঞ্চস্বর’ ও ষষ্ঠী দাসের গ্রন্থে খনার বচনের উল্লেখ দেখা যায়। খনার সমসাময়িক কিংবদন্তী রাজা বিক্রমাদিত্য এ কথাও আজ প্রমাণীত।খনার ঢিপি থেকে উদ্ধারকৃত প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন থেকে জানা গেছে এগুলো গুপ্তযুগের। এখানে প্রাপ্ত মুদ্রা এবং দেয়ালের গায়ে রাজা-রাণীর উৎকীর্ণ বিবাহ চিত্র প্রভৃতি তা ই নির্দেশ করে। কিন্তু ১৪শ’ এবং ১৫শ’ শতকের রচিত কিছু গ্রন্থে খনার বচনের উল্লেখ দেখা যায়,এতে মনে হয় খনা চতুদর্শ এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর পূর্বের লোক ছিলেন। তিনি তাহলে কি চতুদর্শ এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর ও আগে কযেক শতাব্দী ডিঙিয়ে গিয়েছেন হয়তো এমনটাই হবে, না হলে খনার বচনে বৈষ্ণব মতবাদ,ভক্তিবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে ছিটেফোঁটা ইঙ্গিতও নেই, সেন আমলের জ্যোতিষ শাস্ত্র ছিলো ধর্ম নির্ভর কিন্তু খনার বচনে দেবদেবীর উল্লেখ নেই, আধ্যাত্মবাদও তার বচনে অনুপস্থিত, ব্রাহ্মণবাদের প্রতি তীব্র কটাক্ষ, মায়াবাদ ও সন্ন্যাসবাদের কোনো প্রভাব নেই। এ কারণে অনেক গবেষক মনে করেন খনার কাল ছিলো মাধবাচার্য এবং শংকরাচার্যেরও পূর্বে। তা না হলে বৈদিক ধর্ম প্রচারের প্রবল তোড়ে খনার বচনগুলো ভেসে যেতো। গবেষকদের ধারণা খনা সপ্তম শতাব্দীর লোক যখন বৌদ্ধ, জৈন, শাক্ত, শৈব, সাহজিয়া, বাউল, তান্ত্রিক,নাথ এবং চার্বাক-নাস্তিকবাদের ঘোরে সমাজ তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিলো তখন খনার উদ্ভব। খনার বচনে অলৌকিকত্ব নেই। কুসংস্কার ও খনার বচনকে আবিষ্ট করতে পারেনি। বচনগুলো অধিকাংশই বাস্তবধর্মী ও ভাষাগত ব্যাকরণভিত্তিক। উড়িয়া এবং বাঙালিরা উভয়েই খনার বচনকে তাদের নিজস্ব সম্পদ বলে মনে করে। উড়িয়া ভাষায় খনার বচনের সংখ্যা ও প্রচলন বাংলা ভাষার চেয়ে বেশি।মৈথিলী ভাষাও বহু খনার বচনকে আত্মসাৎ করেছে, অন্যান্য ভাসায়ও রূপান্তরিত হয়ে খনার বচন প্রচলিত আছে, নেপালী সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষায় অনেক প্রবচন দেখা যায়- সেগুলো খনার বচনের ভাষান্তর মাত্র।
মূলত কৃষি উৎপাদন এবং প্রকৃতি ভিত্তিক বিভিন্ন উপদেশই খনার বচনের মুল উপজীব্য। তাছাড়াও বর্ষপঞ্জী,জ্যোতিষ গণনা, বিধি নিষেধ,স্বাস্থ্য সহ নানা পরিসরে রয়েছে খনার বচনের ব্যাপ্তি।
যেমন –
=> ভালর পিরিত সোনার বাসন ভাংলেও গড়া যায় ,খলের পিরিত মাটির বাস ফাটিলে ফেলায়।
অর্থ – ভালো মানুষের সাথে ভাংলেও জোড়া লাগে/ফল ভাল হয় আর মন্দের সাথে সম্পর্ক ভাংলে কখনই জোড়া লাাগতে নাই/ফেলে দেয়াই উত্তম।
=> কলা রোয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।
অর্থ – কলাগাছের পাতা না কাটলে তাতে কলার ফলন ভালো হয়।
=> নারিকেল গাছে নুনে মাটি, শীঘ্র শীঘ্র বাধে গুটি।অর্থ – নারিকেল গাছের গোড়ায় লোনা মাটি দিলে নারিকেলের ফলন ভালো হয়।
=> হাত বিশেক করি ফাঁক,আম কাঠাল পুতে রাখ।
অর্থ – বিশ হাত ফাঁক করে আম কাঁঠাল গাছ না বুনলে গাছে ভালো ফল আসে না।
=> ডাক দিয়া বলে মিহিরের স্ত্রী শোন পতির পিতা,
ভাদ্র মাসে জলের মধ্যে নড়েন বসুমাতা।
রাজ্য নাশ গো নাশ হয় অগাধ বান,
হাতে কাঠা গৃহী ফিরে কিনতে না পায় ধান।
অর্থ – ভাদ্র মাসে ভুমিকম্প হওয়া বড় বন্যা এবং ফসলের বড় ক্ষতির লক্ষণ।
=> শুক্লপক্ষে ফসল বুনে, ছালায় ছালায় টাকা গুনে।অর্থ – চাঁদের শুক্লপক্ষে ফসল বুনলে ফলন ভালো হয়।
=> আষাঢ় শ্রাবণে টুটে পানি, তার মর্ম পাছে জানি।
অর্থ – আষাঢ় শ্রাবণ মাসে বর্ষা কম হলে পরে বন্যা হয়।
=> মানুষ মরে যাতে,
গাছলা সারে তাতে।
পচলা সরায় গাছলা সারে,
গোধুলা দিয়ে মানুষ মারে।
অর্থ – যে স্থান মানুষ বাসের অযোগ্য সে স্থানে গাছ ভালো হয়।পচা দুর্গন্ধ মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও গাছের জন্য তা উপকারী।
=> বাপ বেটায় করবে চাষ, তাতে পুরবে মনের আশ।অর্থ -নিজের আত্মীয়/ আপনজন ব্যতিত সম্পূর্ণ অন্যের উপর চাষের ভরসা করলে চাষাবাদের ক্ষতি হয়।
=> ক্ষেতের কোনা,বাণিজ্যের সোনা।
অর্থঃ কৃষিকাজ বাণিজ্যের থেকে উত্তম।
=> কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, বাঁশে/পাকলে করে ঠাস টাস।
অর্থ – সময়ের কাজ/চাষ সময়ে না করলে ফসল/কাজ অনিশ্চিত।
=> সাত হাত তিন বিঘতে, কলা লাগায় মায় পুতে।
অর্থ -সাত হাত পর পর তিন বিঘা গর্ত খুড়ে কলাগাছ লাগাতে হয়।
=> খনা বলে চাষার পো,আশ্বিনের শেষে সরিষা রো।অর্থ – আশ্বিন মাসের শেষে সরিষা বুনতে হয়।
=> ষোল চাষে মুলা,তার অর্ধেক তুলা
তার অর্ধেকে ধান, বিনা চাষে পান।
অর্থ – মুলাতে সবচে বেশী চাষ দিতে হয় আর চাষ ছাড়াই পান উৎপাদন করা যায়।
=> গাই দিয়া বায় হাল, দুঃখ তার চিরকাল।অর্থ – গাই দিয়ে হাল বাইতে হয়না,তাতে অমংগল হয়।
=> কচু বনে ছড়ালে ছাই, খনা বলে তার সংখ্যা নাই। অর্থ – ছাই কচুগাছের জন্য উপকারী তাতে প্রচুর ফলন হয়।
=> দিনে জল রাতে তারা, এই দেখবে খরার ধারা।
অর্থ – বর্ষার শুরুতে যদি দিনে বৃষ্টিপাত হয় আর রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকে তাহলে সে বছর খরা হবে।
=> আষাঢ় নবমী শুক্ল পক্ষা, কি কর শ্বশুর লেখা জোখা
যদি বর্ষে মুষল ধারে, মাঝ সমুদ্রে বগা চড়ে
যদি বর্ষে ছিটে ফোটা, পর্বতে হয় মীনের ঘটা
যদি বর্ষে রিমঝিমি, শস্যের ভার না সহে মেদেনী
হেসে সূর্য বসেন পাটে, চাষার বলদ বিকোয় হাটে ।
অর্থ – আষাঢ় মাসের প্রথম চাঁদের শুক্ল পক্ষের নবমীর দিন অর্থাৎ চন্দ্র মাসের নয় তারিখে যদি মুষল ধারে বৃষ্টি হয় তাহলে বর্ষা কম হবে। যদি সামান্য ছিটে ফোটা বৃষ্টি হয় তাহলে বর্ষা বেশী হবে। সেদিন মাঝারী বৃষ্টিপাত হলে ফসলের উৎপাদন ভালো হবে আর যদি আদৌ বৃষ্টি না হয় তাহলে সে বছর ভালো ফসল হবেনা।
=> স্বর্গে দেখি কোদাল কোদাল মধ্যে মধ্যে আইল
ভাত খাইলাও শ্বশুর মশাই বৃষ্টি হইবে কাইল। অর্থ – যদি ছোট ছোট খন্ড খন্ড মেঘে আকাশ ভর্তি থাকে তাহলে পরদিন বৃষ্টি হবে।
=> চৈতে কুয়া ভাদ্রে বান, নরের মুন্ড গড়াগড়ি যান। অর্থঃ চৈত্র মাসে কুয়াশা অথবা ভাদ্রমাসে বন্যা দেখা দিলে মহামারী হয়।
=> যদি ঝরে কাত্তি, সোনা রাত্তি রাত্তি ,যদি ঝরে আগন, হাতে কুলায় মাগন। অর্থ -কার্তিক মাসে বৃষ্টি হলে ধানের উৎপাদন ভালো হয়। আর অগ্রহায়নে বৃষ্টি হলে ধান নষ্ট হবে।
=> জৈষ্ঠ্যে শুখা আষাঢ়ে ধারা, শস্যের ভার সহে ধরা।অর্থ – জৈষ্ঠ্যমাসে প্রচন্ড খরা হলে আষাঢ় মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং সে বছর প্রচুর ফসল ফলবে।
=> পশ্চিমে ধনু নিত্য খরা, পূর্বে ধনু বর্ষে ধারা।
অর্থ – পশ্চিমে রংধনু দেখা গেলে সেটা খরার লক্ষণ আর পুবে রংধনু দেখা গেলে বৃষ্টিপাতের লক্ষণ।
=> দূর সভা নিকট জল, নিকট সভা রসাতল।
অর্থ – চন্দ্রসভা বা চাঁদের চারিদিকে মেঘের বৃত্ত বড় হলে তাড়াতাড়ি প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আর চন্দ্রসভা ছোট আকৃতির হলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
=> ধানের গাছে শামুকের পা, বন বিড়ালী করে রা ।
গাছে গাছে আগুল জ্বলে, বৃষ্টি হবে খনায় বলে।
অর্থ – শামুক ধান গাছ বেয়ে উপরে উঠতে থাকলে শীঘ্রই প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে।
=> আমে ধান, তেতুলে বান।
অর্থ – যে বছর আম বেশী ফলে সেবছর ধানও বেশী হয়। যেবছর তেতুল বেশী ফলে সে বছর ঝঢ় বন্যা বেশী হয়।
=> বিয়ানে আউলি বাউলি, দুপুরে বাউ, দিনে বলে খরানের ঘর যাও।
অর্থ – সকালে মেঘলা আকাশ দুপুরে প্রবল বাতাস খরার লক্ষণ।
=> চাঁদের সভায়বসে তারা,জল পড়ে মুষল ধারা।
অর্থ – চন্দ্রসভার ভেতরে তারা দেখা গেলে মুষল ধারায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ।
=> আগে পাছে ধনু চলে মীন অবধি তুলা
মকর মুম্ভ বিছা দিয়া কাল কাটায়ে গেলা।
অর্থ – পৌষ মাসের ৩০ দিন কে ১২ ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগে আড়াই দিন করে পড়ে। এর প্রথম ও শেষ সোয়া দিন পৌষের জন্য রেখে প্রথম সোয়া দিনের থেকে প্রতি আড়াই দিন ক্রমে মীন অর্থাৎ চৈত্র মাস থেকে প্রতি মাসের জন্য গণনা করতে হবে।পৌষের এই ভাগ সমুহের ক্রমে যে আড়াই দিনে যেরূপ আবহাওয়া থাকবে সেই মাসেও তদ্রুপ আবহাওয়া হবে।
=> জর ভিটায় তুলে ঘর, সে আসে তারই জর।
অর্থ – অপরিচ্ছন স্যাতসেতে জায়গায় ঘর করলে সে ঘরে অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে।
=> পীড়ে উঁচু মেঝে খাল, তার দুঃখ চিরকাল।
অর্থ – ঘরের মেঝে চারদিকের ভিটির চাইতে নিচু হলে সে ঘর স্বাস্থ্য সম্মত নয়।
=> আলো হাওয়া বেঁধ না, রোগ ভোগে মরো না।অর্থ – বদ্ধ ঘর স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
=> পুবে হাঁস পশ্চিমে বাঁশ , উত্তরে বেড়ে(কলা) দক্ষিনে ছেড়ে ঘর করগে পুতা জুড়ে।
অর্থ – হাস মুরগীর খামার বাড়ির পুব দিকে রাখতে হয় আর বাঁশ ঝায় পশ্চিমে করতে হয়। কলা বাগান উত্তরে এবং দক্ষিণ দিক খোলা রাখতে হয়।
=> দক্ষিণ দুয়ারী ঘরের রাজা,
পুব দুয়ারী তাহার প্রজা
পশ্চিম দুয়ারীর মুখে ছাই,
উত্তর দুয়ারীর খাজনা নাই।
অর্থ – স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে দক্ষিণ দুয়ারী ঘর সবচে বেশী ভালো তারপর হচ্ছে পুব দুয়ারী ঘর। পশ্চিম দুয়ারী এবং উত্তর দুয়ারী ঘর ভালো না।
=> নিম নিসিন্দা যথা, মানুষ কি মরে তথা।অর্থ – নিম নিসিন্দা গাছ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও রোগব্যাধি কম হয়।
=> বক বকুল চাপা, তিন পুতোনা বাপা।অর্থ – বক বকুল চাপা এই তিনটি গাছ একত্রে বুনতে নেই।
=> উনা ভাতে দুনা বল, অতি ভাতে রসাতল।
অর্থ – অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
=> অধিক খেতে করে আশ,এর নাম বুদ্ধিনাশ। অর্থ -মাত্রারিক্ত খেলে বুদ্ধিনাশ ঘটে।
=> আঁতে তিতা দাঁতে নুন, উদর ভরো তিন কোন।
অর্থ -পাকস্থলির চার ভাগের এক ভাগ খালি রেখে খেতে হয়।
=> বারো মাসে বারো ফল, না খেলে যায় রসাতল।
অর্থ – সব মৌসুমেই কিছু কিছু মৌসুমি ফল খেতে হয়।
=> জল খেয়ে ফল খায়, যম বলে আয় আয়। অর্থ – জল খেয়ে ফল খেতে নেই, তাতে রোগের প্রকোপ বাড়ে।
=> বেল খেয়ে খায় জল, জির(কৃমি) যায় রসাতল। অর্থ – বেল খেয়ে জল পান করলে কৃমি নাশ হয়।
=> খালি পেটে কুল, ভরা পেটে মূল। অর্থ – কুল খালি পেটে আর মূলা ভরা পেটে খাওয়া ভালো।
=> খেতে বসলে কিসের দায়, পাকনা ধান কি জলে যায়।
অর্থ – নিশ্চিন্ত মনে আহার করা উচিত।
=> খানা খায় করে শব্দ, অলক্ষী খুশী লক্ষী জব্দ।
অর্থ – খাবার সময় মুখে শব্দ না করে খাদ্যগ্রহন করতে হয়।
=> তপ্ত অম্ল ঠান্ডা দুধ, যে খায় সে নির্বুধ।
অর্থ – ঠান্ডা দুধ স্বাস্থ্যে জন্য ক্ষতিকর। (এখানে অম্ল বলতে টক্ খাদ্য বোঝানো হয়েছে) ।
=> খেয়ে উদাইম্যা ভাত, শইল করে উৎপাত।
অর্থ – শারীরিক পরিশ্রম না করলে খাদ্য হজম হয় না এবং স্বাস্থ্যে সমস্যা হয়।
=> দুগ্ধ শ্রম গংগা বারি, এ তিন উপকারী।
অর্থ – দুধ, শারীরিক শ্রম এবং স্রোতস্বিনী নদী স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
=> ভোরের হাওয়া লাখ টাকার দাওয়া।
অর্থ – লাখ টাকার ঔষুধের চাইতে ভোরের হাওয়া উপকারী।
=> শাক অম্বল পান্তা, তিনো অসুখের হন্তা।
অর্থ -শাক,অম্বল ও পান্তা নিয়মিত খেলে অসুখ কম হয়।
=> ঘোল কুল কলা, তিনে নাশ গলা।
অর্থ – গলার অসুখ হলে ঘোল কুল ও কলা খেতে নেই।
=> মাংসে মাংস বৃদ্ধি, ঘৃতে বৃদ্ধি বল /দুগ্ধে বীর্য বৃদ্ধি, শাকে বৃদ্ধি মল।
অর্থ – মাংস খেলে মাংস বাড়ে, ঘিতে শক্তি বাড়ে, দুধে বীর্য বাড়ে এবং শাক খেলে কোষ্টকাঠিন্য হয় না।
=> তেল তামাকে পিত্ত নাশ,যদি হয় তা বারো মাস।
অর্থ – সারা বছর তৈলাক্ত খাবার এবং তামাক সেবন করলে পিত্তের প্রভূত ক্ষতিসাধন হয়।
=> আহারান্তে চোখে জল, দৃষ্টি শক্তির বাড়ে বল।
অর্থ – খাবার পর চোখে জল ছিটানো চোখের জন্য ভালো।
=> সকালে সোনা, বিকালে লোনা।
অর্থ – সকালের স্নান উত্তম আর বিকেলে স্নান করলে ত্বক মলিন হয়ে যায়।
=> প্রভাত কালে উঠে যে খাবে ঠান্ডা জল,
তাহার ঘরে বদ্যি না যাবে কোন কাল।
অর্থ – সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা জল পান করলে অসুখ হয়না ফলে ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে খনার বচন এভাবেই ভারতবর্ষের কৃষি ও সংস্কৃতিতে অপরিহার্য ভূমিকা রেখে চলেছে। খনার বচনকে এজন্যই গকেষকরা বেদবাক্যের মতেই বলেছেন , যুগ যুগ ধরে যার ভাবার্থ ও বাস্তবিকতা একই রয়ে গেছে। সময়ের স্রোতে অনেক খনার বচর হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। প্রাচীন এক বিদুষী রমনী লীলাবতী/ খনা আমাদের গর্ব আর সেই গর্ব কে ধারণ করা আমাদেরই দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র : ভারতবর্ষের ইতিহাস, অতুল চন্দ্র ও প্রণব কুমার এবং খনার বচন,কৃষি ও কৃষ্টি, ড.আলী নওয়াজ।





