#যুক্তরাজ্য

বন্ধ হচ্ছে সোনালী ব্যাংক ইউকে।

অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায়ে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১৬ আগস্টের পর আর কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে পারবে না বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশন অথরিটি (পিআরএ)’ এবং ‘ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ)’ সোনালী ব্যাংক ইউকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক ইউকেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবা দিতে ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম শুরু করে সোনালী ট্রেড অ্যান্ড ফাইন্যান্স। পরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের লাইসেন্স নিয়ে ২০০১ সালের তা ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়। নাম দেওয়া হয় সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড। প্রবাসী আয়ের সঙ্গে ঋণপত্রের নিশ্চয়তা দেওয়া শুরু করে। পাশাপাশি ব্যাংকটি আমানত সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রম চালু করে। এতেই ঘটে বড় দুর্ঘটনা। ব্যাংকটির মালিকানার ৫১ শতাংশ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের হাতে। আর ৪৯ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের হাতে। কয়েক দফায় দেশ থেকে মূলধন জোগান দেওয়ায় এখন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের মূলধনের পরিমাণ ৬ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ (প্রতি পাউন্ড ১০৯.২৮ পয়সা) ৬৯৭ কোটি টাকা। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৬ কোটি ডলার ঋণও দেওয়া হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত বন্ধ করার নির্দেশনায় বাংলাদেশের সব বিনিয়োগই জলে পড়েছে যুক্তরাজ্যের মাটিতে। এখন সোনালী ব্যাংক ইউকে’র বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বিষয়টির সুরাহা করতে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছে আর্থিক বিভাগ। দেওয়া হয়েছে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপিল, সোনালী ব্যাংক ইউকের পরিবর্তে যুক্তরাজ্যে দুটি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এজন্য লাইসেন্স নিতে বাংলাদেশ থেকে আরও ১০ লাখ পাউন্ড মূলধন জোগান দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়, ২০১৬ সালে নন-কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সোনালী ব্যাংক ইউকের পাশাপাশি ব্যাংকটির তৎকালীন সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধানকে (বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন) তার দায়িত্বে অবহেলা, সুপারভাইজরি ঘাটতি ও অন্যান্য কারণে ৭৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড জরিমানা করে। ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর আতাউর রহমান প্রধানের বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তির সিদ্ধান্ত এফসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই সোনালী ব্যাংক ইউকের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি শুধুই ট্রেড ফাইন্যান্স ও রেমিট্যান্স হাউজ হিসেবে সচল রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি আতাউর রহমান প্রধানকে জরিমানা করা হলেও বাংলাদেশে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১৬ সালে আতাউর রহমান প্রধানকে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দেয় সরকার। এরপর ২০১৯ সালে তাকে সোনালী ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে আতাউর রহমান প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ ব্যাংকটির এমডির দায়িত্বে রয়েছেন। সোনালী ব্যাংক ইউকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *