#যুক্তরাজ্য

শোকের মাতন লন্ডনের প্রতিটি বাঙালি পরিবারে।

লন্ডনের প্রায় প্রতি‌টি বাঙালী পরিবারে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এসব পরিবারের কেউ না কেউ বিগত দুই মাসের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।মুস‌লিম গোরস্থানগুলোতে মর‌দেহ সমা‌হিত কর‌তে রী‌তিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গোরস্থা‌নগুলো‌তে মেশিনে মাটি কেটে একের পর এক মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। মর্গগুলোতে লাশের সারি। বেঁচে থাকা মানুষের চোখে উদ্বেগ। সন্তান নিয়ে উদ্বেগ বাবা-মায়ের। আবার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে সন্তানদেরও উদ্বেগ চরমে।

যুক্তরাজ্যে নতুন ধরণের করোনা ভাইরাস চরমভাবে পর্যুদস্ত করেছে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে যার মধ্যে লন্ডনের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। মারা গেছেন কমিউনিটির পরিচিত মানুষগুলো। গত ক‌য়েক‌দি‌নে ক‌রোনায় পরপারে চলে গেছেন বাংলা টাউনের সমাজকর্মী তছির আলী, খলিলুর রহমান, সোনালী অতীতের ফুটবলার আখলিছ, বদরুল আমিন, সমাজসেবী মজুমদার আলী, বিশ্বনাথের সিরাজ উদ্দিন, শোয়েব খালিছাদার, ডার্বির সমাজসেবী হারুন মিয়া, কিলবার্নের হাজী আব্দুল কাদির, কবি দেওয়ান হাবিব চৌধুরী, রাজনীতিবীদ আবু লেইস মিয়া ও তার আপন ভাই হাজী আকদ্দছ আলী, ইনাতগঞ্জের আবুল বশর, ছৈলার আবু শাহাদাত কালাই, ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল বাতিন, কাজী আবু খালেদ, সোয়ানসীর দুই ভাই কবির উদ্দিন ও বদরুল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জের কবির মিয়া, নিউহ্যামের আলমসহ শতাধিক মানুষ।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জনমত পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, ইস্ট লণ্ডন মসজিদের ইমাম শায়েখ আব্দুল কাইউম, মারকাজি মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ রফিক, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা আব্দুস সালামসহ শত শত মানুষ। অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

‌যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান বিভা‌গের তথ্য অনুযায়ী ক‌রোনায় ২০২০ সা‌লে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। স‌রকার এখন পর্যন্ত ফা‌র্লো স্কি‌মের (বিশেষ কর্মসূচি) মাধ্যমে দেশ‌টির কর্মজীবি মানুষের বেত‌নের ৮০ ভাগ‌ যোগান দিয়ে যাচ্ছে।‌ এ স্কিম চালু থাকায় বেকারত্বজ‌নিত বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্রটি সাম‌নে আসছে না। ক‌রোনায় ঠিক কত লাখ মানুষ ব্রিটে‌নে চাকুরী হারা‌বেন, সেটা বোঝা যা‌বে সরকারের প্রনোদনায় বেত‌নের চলমান ফা‌র্লো স্কিম বন্ধ হবার প‌রে।

ক‌রোনাভাইরাস মহামা‌রি‌তে স্মরণকা‌লের সব‌চে‌য়ে বড় সংক‌টের মু‌খোমু‌খি হয়েছেন ব্রিটেনের আট লক্ষাধিক বাংলা‌দেশি। ব্রিটে‌নের ব্ল্যাক অ্যান্ড মাইনোরিটি এথ‌নিক (বিএমই) কমিউনিটিগুলোর ম‌ধ্যে ক‌রোনায় বাংলা‌দেশি‌দের মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *