রানির মরদেহ ওয়েস্টমিনস্টার হলে রাখা হয়েছে।
ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহ স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মরদেহবাহী গাড়িবহর রানির প্রিয় বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছায়। সেখানে রাজা চার্লস ও রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা প্রয়াত রানির কফিন গ্রহণ করেন। রানির কফিন আসা উপলক্ষে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে এ সময় রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে লাখো মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এডিনবরা থেকে একটি সামরিক বিমানে করে লন্ডনে পৌঁছায় রানির কফিন। তাঁর মরদেহ গ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ আরও অনেকে। এ সময় রানির কফিনের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে প্রিন্সেস অ্যান।
রানির মরদেহ বহনকারী গাড়িবহর আসার খবরে বিমান ঘাঁটি থেকে বাকিংহাম প্যালেসের সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে বাকিংহাম প্যালেসের দূরত্ব ১৪ মাইল। পুরোটা পথের দুই ধারেই মানুষ আর মানুষ ছিল।
বুধবার লন্ডনে হাজার হাজার লোক শ্রদ্ধা জানানোর আগে রাজা চার্লস তৃতীয় তাঁর মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিনের একটি শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। মৃত্যুর ছয় দিন পর রানি এলিজাবেথের মরদেহ তাঁর বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে ঘোড়ায় টানা গাড়িতে করে ওয়েস্টমিনস্টার হলে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী সোমবার রানির শেষকৃত্যের আগ পর্যন্ত চার দিন তাঁর মরদেহ সেখানে রাখা হবে।
রাজধানীর রাস্তা দিয়ে কফিন নিয়ে যাওয়ার সময় রাজা ও রাজপরিবারের অন্য প্রবীণ সদস্যরা শবযানের পেছনে নীরবে হাঁটেন এবং তারপর ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের ১২ শতকের ক্যাভারন্স হলে পৌঁছান। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।
জনসাধারণকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। শোকাহতদের এরই মধ্যে সতর্ক করা হয়েছে যে, তাঁদের ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করতে হতে পারে। দর্শকের এই ভিড় ৫ মাইল বা ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
রানির শবযাত্রা দেখতে সবার আগে সোমবার সন্ধ্যা থেকে সম্মুখ অবস্থানে থাকা শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত ৫৬ বছর বয়সী প্রশাসনিক সহকারী ভেনেসা নান্থাকুমারান বলেছেন, এটি আবেগপ্রবণ মুহূর্ত হতে চলেছে এবং আমি জানি না প্রথম একজন হিসেবে সেখানে গিয়ে কেমন অনুভব করব।





