#যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার !

যুক্তরাজ্য জুড়ে গাড়ির জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাঁচামাল ও জ্বালানির (তেল-গ্যাস) দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন শীতকালীন মৌসুমে গৃহস্থালির রান্নার জ্বালানি গ্যাসের দাম আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। লরি চালক ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে দেশব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কর্মী সংকটে বড় বড় গ্যাস সরবরাহ কোম্পানিগুলো স্টেশন বন্ধ করে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি শ্রমিক ভিসা এখনই সহজ না করলে শ্রমিক সংকটে উৎপাদনমুখী খাতগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও ব্রিটেন সরকার বলছে, এ মুহূর্তে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।

যুক্তরাজ্যের পেট্রোল কোম্পানিগুলোর তিনটি বড় অপারেটর বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী কিছু ফোরকোর্টে (স্টেশন) জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, দেশব্যাপী লরিচালকদের তীব্র অভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের জ্বালানি পরিশোধন ও সরবরাহকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিপি বলেছে, তাদের অন্তত ১০০টি ফোরকোর্টে (স্টেশন) কমপক্ষে এক গ্রেড জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহের সমস্যার কারণে বেশ কয়েকটি স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল।

আর অন্যতম কোম্পানি ইসো বলেছিল, সরবরাহ সমস্যার কারণে টেসকো এক্সপ্রেস স্টোরের পাশাপাশি কয়েকটি স্টেশন প্রভাবিত হয়েছে। এমনকি সুপারমার্কেট সাইটের নিজস্ব ব্র্যান্ডগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, সরবরাহ সমস্যায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি শীত মৌসুমে যুক্তরাজ্যে সংকট সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটকেও ছাড়িয়ে যাবে। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল।

যদিও বরিস জনসনের কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে, ‘কোনো জ্বালানি সংকট বা ঘাটতি নেই।’ ব্রেক্সিট-পরবর্তী ও করোনা মহামারির কারণে দেশজুড়ে দক্ষ শ্রমিক ও সরবরাহ বিপর্যয় নিয়ে সরকার চাপে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্রেক্সিট-পরবর্তী নতুন ‘ভিসা প্রোগ্রাম’ চালু করতে হবে। অন্যথায় কারখানা, পরিবহন ও খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হবে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থা দ্য রোড হাউলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রড ম্যাককেনজি সরকারের মন্ত্রীদের অভিযুক্ত করে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ‘ক্রমেই পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখা যায়। তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট দূরীকরণে ‘খুব স্বল্প সময়ে’ বিদেশি শ্রমিকদের ‘মৌসুমি ভিসা’ প্রদান করতে হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ব্যাংক অব ইংল্যান্ড) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, আসন্ন শীতে গৃহস্থালির জ্বালানি বিল বেড়ে মূল্যস্ফীতি চার শতাংশের ওপর হবে, যাতে গত এক দশকের মধ্যে বাসাবাড়ির জ্বালানি খরচ সবচেয়ে বেশি হবে।

আগস্টে যুক্তরাজ্যের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হওয়া সত্ত্বেও বেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, গ্যাস ও বিদ্যুতের পাইকারি দাম পরবর্তী বছরের মধ্য সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জনসনের এক মুখপাত্র জানান, তেল-গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিক ভিসা ইস্যুতে চলতি সপ্তাহে শিল্পমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে তিনি বলেছেন, জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই, কারণ মানুষ নিয়মিতই জ্বালানি কিনতে পারছেন।

তবে সরকারের এ আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে পারছে না বিরোধী শিবির। বিরোধী মন্ত্রীরা সরকারকে ‘তিরস্কার’ করে বলছেন, পরিস্থিতি ধরতে সরকার ব্যর্থ। পরিবহনবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী জিম মেকমোহন শ্রমিক সংকটে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উল্লেখ করে বলেন, একটি দ্রুততর ক্রমবদ্ধমান সংকট, যা সরকারকে এক দশক সতর্কীকরণেও ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, স্টিকিং প্যালাস্টারের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। ৯০ হাজার চালকের ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তথ্যসূত্রঃ দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *