বৃটেনে বৈধ কাগজপত্র হীনদের বৈধতাকরনে এই মূহুর্তের একটু চেষ্টা আনতে পারে ভালো ফলাফল
বৈধ কাগজপত্রহীনদের নিয়ে কাজ করা Help the helpless নামক একটি সংগঠন এই মতামত প্রকাশ করেছে
ব্রিটেনে বৈধ কাগজপত্র হীনদের বৈধতাকরনে এই মূহুর্তের একটু চেষ্টা আনতে পারে ভালো ফলাফল
,অনেকেই অনেক উপায়ে এই ইস্যুতে চেষ্টা করছে কিন্তু সঠিকভাবে চেষ্টা না করার কারনে আশানুরূপ ফল আসছে না , তাহলে কি হওয়া উচিত এই সঠিক উপায় ? উত্তরটা হলো লোকাল এমপি দের সাথে বারবার চিঠি , ইমেইল বা সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে বৈধতাকরনের চেষ্টা করার জন্য অনুরোধ করা , লোকাল জনগণের অনুরোধ পেয়ে বেশিরভাগ এমপি ই চেষ্টা করে তার ফলাফল এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই লক্ষণীয় তাই সবাইকে লোকাল এমপিদের সহিত ইমেইল বা সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের দীর্ঘদের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য তাদের বৈধতাকরনের চেষ্টা হিসেবে গত ২৪ জুন বেশকিছু এমপি পার্লামেন্টে একটি মোশন উদ্ধাপন করেছেন ।
https://edm.parliament.uk/early-day-motion/57173/leave-to-remain-status
ইতিমধ্যেই ৪২ জন এমপি এই মোশনটিকে সমর্থন করেছেন যার ফলে এটি পরবর্তী ধাপে যাওয়ার রাস্তা সহজ হয়েছে । এই উদ্যোগটি সফল হলে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের দুর্ভোগের লাঘব হবে ।
যেই ৪২ জন এমপি ইতিমধ্যে এই মোশনটিকে সমর্থন করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো লাইম হাউস এন্ড পপলারের এমপি আফসানা বেগম । লাইম হাউস এন্ড পপলারের এই এমপি ইতিমধ্যেই এই ইস্যুটি পার্লামেন্টে একাধিক বার উপস্থাপন করেছেন নতুন এমপি হয়ে এই অসহায় বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরনের এই অব্যাহত চেষ্টার কারনে আফসানা বেগম এমপি বিশেষ প্রশংসা পাবার যোগ্যতা রাখেন আশা করা যাচ্ছে আরও অনেক এমপি অতিসত্ত্বর তারমত এই ইস্যুতে সোচ্চার হবেন , ইতিমধ্যে রুপা হক এমপি ও রুশনারা আলী এমপি ও লেস্টার ইস্ট এর ক্লাউদিয়া ওয়েবই এমপিও এই বৈধ কাগজপত্র হীনদের বৈধতাকরনের ইস্যুতে পার্লামেন্টে সরব রয়েছে ।
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণের জন্য পৃথিবী এক দুঃসময় অতিবাহিত করছে ব্রিটেনেও এর বিরাট প্রভাব পড়েছে । এই দুঃসময়ে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা আছে বিরাট বিপদে কারন এদের জন্য কোনো সরকারি সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব নয় তাই এই দুঃসময়ে সকলের সহযোগিতা এদের জীবন বদলে দিতে পারে কিন্তু বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা ত্রান বা ভিক্ষা চায়না বৈধকরণের জন্য সবার সহযোগিতা চায়। এই দুঃসময়ে অনেকে ইচ্ছা করলেই তাদের লোকাল এমপি দের কাছে সরাসরি যোগাযোগ বা ইমেইল করে এদের বৈধকরণের জন্য সহায়তা করতে পারে লোকাল এম পিরা যদি তাদের লোকাল জনগণের অনুরোধ পায় তবে অবশ্যই এই ইস্যুটি জরুরী ভিত্তিতে সরকারের কাছে তুলে ধরবে । এম পি রা যদি এই ইস্যুটি নিয়ে সোচ্চার হন তবে পর্তুগাল ও ইতালির মতো বৃটেনেও এই আপদকালীন সময়ে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরন সম্ভব হবে ।
একটা প্রবাদ আছে ভালো কাজ করুন আপনার ভালো হবে । বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব এক দুর্যোগময় মুহূর্তে আছে ব্রিটেনে এই রোগের দ্বিতীয় ধাপের কারনে ইতিমধ্যে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে সরকার আবার লক ডাউন ঘোষণা করে বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে , সরকারের তরফ থেকে দেশের নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থা করা হয়েছে কিন্তু বৈধ কাগজপত্রহীন কাগজপত্রহীন মানুষগুলি আর্থিক সহায়তাতো দূরের কথা ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পাবে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা দেয়াও হলেও অনেকে ভয়ে যায় না যা স্বাস্থ্য খাতে মারাত্মক হুমকির কারন হতে পারে ।
ব্রিটেনের দীর্ঘদিন বসবাসকারী বৈধ কাগজপত্রহীন লক্ষ লক্ষ অভিবাসীরা অপেক্ষা প্রহর গুনছেন কবে তাদের বৈধকরনের বিশেষ পরিকল্পনা আসবে কারন ক্ষমতায় এখন তাদের পক্ষে কথা বলা প্রধানমন্ত্রী যিনি প্রায় দীর্ঘ একযুগ ধরে এই দীর্ঘ দিন কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধকরনের কথা বলে আসছেন
২০০৮ সালে প্রথমে তিনি দীর্ঘদিনের বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতা দেয়ার দাবীটি করেছিলেন , ২০০৮ সালে লন্ডন মেয়র নির্বাচনের আগে চ্যারিটি সংগঠন সিটিজেনের একটি অনুষ্ঠানে , ২০১৩ সালে এলবিসির অনুষ্ঠানে , ২০১৬ সালের ১৯শে জুন ব্রেক্সিটের ভোটাভুটির ঠিকআগে তিনি একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যার প্রভাব ব্রেক্সিটের ভোটাভুটিতে গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রেখেছে , প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি এই সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কথা ভুলে যাননি তাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদে তার প্রথম দিন ২০১৯ সালের ২৫ শে জুলাই রুপা হক এমপির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দীর্ঘদিন কাগজপত্রবিহীন এইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে বলে
জানান ।
ব্রিটেনে বৈধকাগজপত্রহীনদের বৈধতাকরনের দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাইন চলছে , ২০০৮ সালের ২০ শে এপ্রিল এই দাবীতে প্রথম লন্ডনের ট্রাফলগর স্কোয়ারে এক বিরাট জনসমাবেশ হয়েছিল পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে এমপিদের সাথে এই দাবিতে যোগাযোগ করা হচ্ছে , ২০১৮ সালে বিসিয়ের নেতৃত্বে হাউস অফ কমেন্সের সামনে বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর সময় কয়েকশত লোকাল এমপিদের তাদের লোকাল জনগণের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরণের সহায়তা করার অনুরোধ করে ইমেইল করা হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে ইতিমধ্যে অনেক এমপি এই ইস্যুতে একমত পোষন করে সহায়তা করছেন যা ধারাবাহিক ক্যাম্পাইনের সফলতার ফসল ।
ব্রিটেনে দীর্ঘদিন বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা এখন এই দুর্যোগের মুহুর্তে অপেক্ষার প্রহর গুনছে তাদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার।জ এটাই সঠিক সময় তাদের বৈধকরনের কারন এদের বৈধকরন করা হলে এরা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ব্রিটেনে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতাকরন করলে সরকারের কি লাভ হবে এবং তাদের বৈধতাকরন না করার কারনে সরকারের কি ক্ষতি হচ্ছে নিম্নে তার বিবরন দেয়া হলো :
দীর্ঘদিনের বৈধ কাগজপত্র হীন অভিবাসীদের বৈধতা দিলে সরকারের লাভ সমূহ :
১, বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতাকরনের আওতার নিয়ে আসলে প্রথমেই হোম অফিস ফী বাবদ বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে ।
২, NHS সার্চ চার্জ হিসেবে বিপুল অর্থ সরকারী স্বাস্থ খাত আয় করবে ।
৩, সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে সরকারি রাজস্ব খাত এই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন বাড়বে ।
৪, এই অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ব্রিটেন থাকার কারনে তারা প্রায় সবাই বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ তাই সুযোগ পেলে তারা তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটেনে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে ।
বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতা না দেয়ায় সরকারের ক্ষতি সমূহ :
১, বৈধ কাগজপত্রহীনদের পিছনে ইম্মিগ্রেশন রেইড বা তাদের ধরার জন্য যে বাহিনী রয়েছে তাদের জন্য সরকারকে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে যা দেশের জনগনকে ট্যাক্সের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে ।
২, এই সমস্ত অভিবাসীদের রাখার জন্য বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার রয়েছে যার ব্যয় বাবদ সরকার কে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে । বৈধ কাগজপত্রহীনদের বৈধতা দেয়া হলে সরকারের এই বিপুল পরিমান অর্থ সাশ্রয় হবে ।
তাই উপরোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রিটেনে বসবাসকারী বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসী যাদের কোন খারাপ রেকর্ড নেই তাদের অতি দ্রুত বৈধতা দেয়া এখন সময়ের দাবী ।





