ক্যারিবিয়ানের অনেক দেশ কেন রানিকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে চায়?
এই বছর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্তিতে নানা দেশে উৎসব যখন চলছে, তখন কয়েকটি কমনওয়েলথ দেশ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে তারা রানিকে সরিয়ে দেয়ার কথা ভাবছে। যদিও সবাই চায় না যে, রানিকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হোক।
কমনওয়েলথে যুক্তরাজ্য ছাড়াও আরও ৫৩টি দেশ রয়েছে। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ এই দেশগুলোয় বসবাস করে, যা এক সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে লন্ডন থেকেই শাসন করা হতো।
যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর বেশিরভাগ দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর পরও ১৪টি কমনওয়েলথ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে এখনো রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথই রয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বর মাস রানিকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে পুরোপুরি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় বার্বাডোস। আরও অনেক দেশেই এরকম দাবি উঠেছে।
ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর মধ্যে এখন আটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে রয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার মধ্যে অন্তত ছয়টি দেশ জানিয়েছে, তারা প্রজাতন্ত্রে পরিণত হতে চায় এবং রানিকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
রানির সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যখন রাজপরিবারের সদস্যরা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সফর করেন, তখন এ ধরনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। যদিও এসব সফরের প্রতি অনেকের সমর্থন রয়েছে, কিন্তু দাসত্ব থেকে রাজপরিবার কীভাবে সুবিধা পেয়েছে সেটা স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা কমনওয়েলথ দেশগুলো জুড়েই জোরালো দাবি তুলেছেন।
বেলিজে জনসেবা, সংবিধান এবং রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ক মন্ত্রী হেনরি চার্লস আশার ঘোষণা করেছেন, কীভাবে দেশ শাসন করা হবে, সেই বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা তৈরির জন্য তহবিল বরাদ্দ করা হবে।
একইভাবে জ্যামাইকা, বাহামা, গ্রানাডা, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসও রানিকে রাষ্ট্রপ্রধান পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি।





