#যুক্তরাজ্য

করোনা ভ্যাকসিন দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী।

প্রতি সপ্তাহে ৭ লাখেরও বেশি লোককে টিকা দিতে বৃটিশ সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরের সৈন্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ডিফেন্স সেক্রেটারী বেন ওয়ালেস টাইমস রেডিওকে বলেছেন, সারাদেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনীর ২৫০ টি দল প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি এনএইচএস এর কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়া যায়, তাহলে দিনে ১ লাখ মানুষকে টিকা দিতে তারা সক্ষম হবেন। এবং আমরা এই সংখ্যাকে আরো বাড়ানোর ব্যাপারেও পরিকল্পনা করে যাচ্ছি।

এদিকে, টিকার দ্বিতীয় ডোজ ৩ সপ্তাহের স্থলে ১২ সপ্তাহ পর দেয়ার সিদ্ধান্তে জিপি সার্জারির ডাক্তাররা খুব ক্ষেপেছেন। এরই মধ্যে ৫ লাখ মানুষ টিকা পেয়েছেন, যাদেরকে দ্বিতীয় ডোজ এর জন্য নতুন করে এপয়েন্টমেন্ট দেয়া, ফোন করে জানানো, ইত্যাদি প্রশাসনিক কাজে অহেতুক সময় নষ্ট, রোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি “অনৈতিক’ বলে তারা মনে করছেন।

ডিফেন্স সেক্রেটারী মি. ওয়ালেস বলেন, অধিকাংশ সেনা-চিকিৎসক এরি মধ্যে এনএইচএর সাথে কাজ করছেন। তবে শত শত কমব্যাট মেডিকস অর্থাৎ যুদ্ধের মাঠে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল কোর এর সদস্যরা প্রস্তুত হয়ে আছেন কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলার কাজে ভূমিকা রাখতে।

প্রতি সপ্তাহে ২ মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার আশা করছে এনএইচএস। এই হিসেবে তারা মে মাসের মধ্যে ৩০ মিলিয়ন লোককে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

ওষুধ নিয়ন্ত্রকরা বলছেন, অক্সফোর্ড/এস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিনের একটি ডোজ ৭০ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে, তাই প্রথম ডোজটি যাতে বেশি সংখ্যক লোককে দেয়া যায়, সেজন্য দ্বিতীয় ডোজ ৩ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জানুয়ারীর শেষ নাগাদ পূর্ণ গতিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৮০ বৎসর ও তার বেশি বয়সী, কেয়ার হোম এবং এনএইচএস ও কেয়ার স্টাফরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম দুই গ্রুপে প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষকে টিকা দেয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারীর মধ্যেই এনএইচএস সপ্তাহে দুই মিলিয়ন লোককে টিকা দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের মেডিক্যাল ডিরেক্টর, স্টিফেন পয়েস বলেন, উৎপাদকরা যখনই ভ্যাকসিন আমাদের কাছে পৌঁছে দেবে, তখনই স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তা মানুষের বাহুতে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এপ্রিলের ইস্টার হলিডের মধ্যেই পরিস্থিতিকে অনেক অনেক উন্নত করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আমরা এই সময়টাকে আরো এগিয়ে আনার জন্য যা যা করার করে যাচ্ছি।

করোনা ভ্যাকসিন দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী।

স্বাগতম ২০২১ !

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *