#বিশেষ সমাচার

সিলেকটিভ মিউটিজম – তৃপ্তি পোদ্দার।

আজকের বিষয়টি একটু ভিন্নতর কিন্তু শিশুদের মধ্যে বিদ্যমান। শিশুর বয়সসীমা যখন ২ বছরের উর্ধ্বে তখনই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার শিশুটি সিলেকটিভ মিউটিজমে ভুগছে কিনা। প্রশ্ন আসছে আপনার মনে, আমি অটিজম বলতে গিয়ে মিউটিজম বলছি না তো; না একদম নয়, আমি মিউটিজম সম্পর্কে বলছি।

সিলেকটিভ মিউটিজম কী?

সিলেকটিভ মিউটিজম হলো শিশুর শৈশব কালীন সময়ের একটি জটিলতর Anxiety Disorder. এই প্রতিবন্ধকতার কারনে শিশু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বা কোনো কোনো স্থানে কথা বলার বা যোগাযোগ স্থাপন করার সামর্থ্য থাকে না; যেমনঃ বিয়ে বাড়িতে অনেক মানুষের ভীড়ে, বাড়িতে অনেক অতিথিদের সামনে, নতুন কোনো স্থান, স্কুলে অথবা বাসার বাইরে গেলে। কিন্তু এই শিশুরা যখন পরিচিত লোকজনের সামনে অথবা পরিবারের মানুষের সাথে অর্থাৎ নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে কথা বলা বা যোগাযোগ স্থাপনে সর্মথ হয়ে থাকে। এই ধরনের শিশুরা ঘরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে কথা বলতে এবং বেশিরভাগ সিলেকটিভ মিউটিজম শিশুদের এই প্রতিবন্ধকতা ধরা পরে ৩-৮ বছরের মধ্যে। বয়সের সাথে এই সমস্যাটি বাড়তে শুরু করে, যদি শৈশব কালীন সময়ে শিশুকে সঠিক ভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয় না।

কেন হয়ে থাকেঃ

• কথা বলতে ভয় পায়
• অন্যদের সাথে মিশতে ভয় পায়
• শিশুদের মনে হয় গলার মাঝে কিছু বেঁধে আছে। সে কথা বলতে পারছে না। যা কিনা তার মাসকুলার টেনশনের কারণে হয়ে থাকে।
• শিশু তাদের উদ্বিগ্নতার কারনে কথা বলা, যোগাযোগ স্থাপন করা অথবা ডাকলে সাড়া দেয় না। কিন্তু তারা যখন চাইছে তখন কথা বলছে।
• এই ধরনের শিশুদের মধ্যে Anxiety আছে। তারা যে উদ্বিগ্নতা সর্বদা দেখে বোঝা যায় না। যখন কোনো প্রশ্ন করা হয়, তাদের দেখলে মনে হয় শক্ত বা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।
এই সমস্যাটি অনেক অভিভাবক শিশুর বয়স যখন ৩-৪ বছর তখন বুঝতে পারেন না। তারা মনে করেন, কথা বলতে শিশু লজ্জা পাচ্ছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না তাদের শিশুর প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যাটি কোথায়।
কোনটি সিলেকটিভ মিউটিজম :
• শিশুটি সমর্থ নয় কথা বলতে, হলো সিলেকটিভ মিউটিজম। সে কথা বলতে প্রত্যাখ্যান করবে না।
• অটিজম এবং সিলেকটিভ মিউটিজম উভয় প্রকার শিশু সামাজিকতা স্থাপনে দুর্বল। তাই অনেক ক্ষেত্রে সিলেকটিভ মিউটিজম কে অনেকে অটিজম ধরে থাকেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে সিলেকটিভ মিউটিজম শিশুরা কথা বলতে বা যোগাযোগ স্থাপন করতে সমর্থ নয়। কিন্তু তারা কথা শুনছে এবং প্রতিটি কথা/ আলোচনা তারা বুঝতে পারে। এমনকি তারা বাচনভঙ্গি এবং কথার মধ্যে প্রতিটি অনুভূতি বুঝতে পারে। অন্যদিকে অটিস্টিক শিশুরা ঘরে অথবা বাইরে সব জায়গায় কথা বলা বা যোগাযোগ স্থাপনের (Interpret Social Nuances) ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকে।
• Trauma: অনেকে বলে থাকেন, শিশুকে ভয় দেখানো হয়েছে বা ভয় পেয়েছে, এই কারনে সে সিলেকটিভ মিউটিজম। Post-Traumatic Stress Disorder (PTSD) হলেও এই ধরনের ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। যেখানে শিশু ঘুমানোর সমস্যা, দুঃস্বপ্ন দেখা, খেলতে চায় না এমন সমস্যাও হয়ে থাকে।

NHS (UK)যা অভিভাবকদের করতে বলেন এবং আমার কিছু মতামত:
• শিশুকে বুঝতে না দেওয়া, যে সে কোন কারণে উদ্বিগ্ন
• শিশু যখন প্রস্তুত তখনই কথা বললে. কথা বলছে না কেন? এই বিষয়টি নিয়ে নিজেকে প্রেসার না দেওয়া এবং শিশুকে প্রেসার না দেওয়া.
• শিশুকে আনন্দের মধ্যে রাখা এবং নতুন অতিথির সামনে বা নতুন পরিবেশে শিশুরা কি পারে না পারে তার পরীক্ষায় না দাঁড় করানো, আমরা কখনও ভেবেও দেখি না আমাদের যদি কেউ বলে তোমার কাকী/চাচী এসেছে একটু A B C D E F বলো তো, তোমার নাক কোথায় দেখায় তো? আমরা বড়োরা কি করবো? তবে ছোট শিশুদের আমরা প্রতিনিয়ত কেনো এভাবে অন্য পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তিদের সামনে আমাদের আচরণ নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন তুলছি।
• শিশুর ছোট ছোট অংশগ্রহণ কে প্রশংসা এবং মূল্যায়ন করা, যেমনঃ কিছু আপনাকে দিলো অথবা নতুন অতিথির সামনে আসলে শিশুর প্রশংসা করে শিশুকে আপনি পরিচয় করিয়ে দিন।
• শিশু অপরিচিতদের সামনে কথা বললে বা অন্য কোনো নতুন শব্দ বললে আপনার সারপ্রাইস হওয়া থেকে বিরত থাকুন
• শিশুকে সময় দিন এবং বুঝতে চেষ্টা করুন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *