আজ আলতাব আলী দিবস – – মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত আলতাব আলী ১৯৭৮ সালের ৪ঠা মে, এই দিনে পূর্ব লন্ডনে বর্ণবাদীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। আলতাব আলীর তপ্ত রক্তের উপরেই গড়ে উঠেছে বৃটেনে বিশাল বাঙালি কমিউনিটি। তাই তাঁর স্মৃতির প্রতি নমিত হৃদয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা।

যতদূর জানাগেছে—১৯৭৮ সালের ৪ঠা মে, স্থানীয় কাউন্সিলের ভোট ছিলো। আলতাব আলী ব্রিকলেনে কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ফিরছিলেন ঘরে। তখন ৩ কিশোর পেছন থেকে ছুড়িকাঘাত করে। এটি ছিলো বর্ণবাদী হামলা।
এই অবস্থায় আলতাব আলী দৌড়ে চলে যান হোয়াইটচ্যাপেল হাইষ্ট্রিটে বাস ষ্টপের সামনে।
সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। রাত প্রায় ১০টার দিকে মুত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়া এই মৃত্যুর খবরে আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসে উঠেন বাংলাদেশীরা।
এই ঘটনায় ফুসে উঠেন ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা। চলে হত্যাকারীর বিচারের দাবীতে সভা সমাবেশ।
সেই ঘটনার পর হত্যাকারী ৩ জনের বিচার হয়। সেইসময়ের দীর্ঘ আন্দোলনের কারনে বর্ণবাদ বিরোধী আইন সংস্কার করা হয়।

আলতাব আলীর মৃত্যু হয়েছিল যেখানে, পার্কের সেই জায়গায় ১৯৮৯ সালে আলতাব আলী এবং বর্ণবাদী হামলার শিকার সব মানুষের স্মৃতিতে একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়।
আলতাব আলী পার্ক এখনও বাংলাদেশীদের অধিকার আদায়ের জায়গায় পরিণত হয়েছে। যে স্থানে তাকে হত্যা করা হয় সেই পার্কের নাম পরিবর্তন করে আলতাব আলীর নামে করা হয়।
১৯৯৮ সালে এই পার্কের নামকরণ হয় আলতাব আলী পার্ক। সেখানেই গড়ে উঠেছে শহীদ মিনার।
২০১৫ সাল থেকে ৪ মে থেকে প্রতিবছর টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পালন করে আলতাব আলী ডে।
বিনম্র শ্রদ্ধা।
মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান
সাবেক অধ্যক্ষ : সৈয়দপুর আদর্শ কলেজ।





