সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ভুল করোনা রিপোর্ট প্রদানের নেপথ্য !
যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসা ১৫৭ জন যাত্রীর মধ্যে ২৮ জন যাত্রীর করোনা পজেটিভ থেকে ২৫ জনের নেগেটিভ হওয়ার নেপথ্যের কারন বেরিয়ে এসেছে, শুরু হচ্ছে তদন্ত। ২১ শে জানুয়ারী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে সিলেটে আসা যাত্রীদের সবারই ছিলো করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট, পজেটিভ পাওয়া ২৮ জন যাত্রীর ছিলোনা কোনো কোরোনার লক্ষন। তারপর ও নমুনা পরীক্ষায় সোমবার করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হলো । এই নিয়ে অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর ২৮ জনের তীব্র আপত্তিতে পরের দিন মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) এই ২৮ জনের আবার পুণঃপরীক্ষায় ব্যবস্থা করে সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জনেরই করোনা নেগেটিভ আসে।
এর কারণ হিসেবে জানা যায়, সীমান্তিক নামক একটি বেসরকারি সংস্থা এই কোরোনার নমুনার পরীক্ষা করে। তাদের ভুল পরীক্ষায় ২৮ জনের করোনা পজেটিভ ফলাফল আসে।পরবর্তীতে একই নমুনা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-এর ল্যাবে পাঠানো হলে, সীমান্তিকের টেস্ট ভুল প্রমাণিত হয় এবং ২৫ জনের নেগেটিভ আসে। এখানে উল্লেখ্য যে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-এর ল্যাব বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির মান সম্মত ল্যাব হিসেবে স্বীকৃত।
সীমান্তিক নামক এই প্রতিষ্ঠান করোনা পরীক্ষা জন্যে আসলে কতটুকু নির্ভরযোগ্য, তাদের আদৌ যোগ্য টেকনিশিয়ান আছে কি না, কিংবা এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের কিভাবে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন পায় এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় নি।তবে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন , সোমবার বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিকের পিসিআর ল্যাবে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসা যাত্রীদের কারো কোন উপস্বর্গ না থাকায় পুণরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে তাদের নমুনা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হলে পরীক্ষা শেষে রাতে ২৫ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।
তিনি আরও বলেন, দুই ল্যাবের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্টে কেনো এতো তফাৎ হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে ২৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে তাদের নমুনা পুণরায় সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।একই সাথে এই অসামঞ্জস্য সংখ্যা ও ভুল রিপোর্টের জন্যে সীমান্তিকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্ল্যেখ করেন।এই নমূনার সাথে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন স্ট্রেইনের মিল আছে কিনা তাও পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।





