#বিশেষ সমাচার

শিশুকে পেটের উপর শোয়ানো বা Tummy time ।

শিশু জন্মের পর অর্থাৎ হাসপাতাল থেকে বাসায় আসার পর থেকেই শিশুকে পেটের উপর শোয়ানোকে বলা হয় Tummy Time. শিশুর সাধারণ শোয়ানোর স্টাইল থেকে টামি টাইম একদম উল্টো। কেননা শিশুকে এ অবস্থায় পেটের উপর চাপ দিয়ে উল্টো করে শোয়ানো হয়।

বাবা মায়েরা অনেক সময় শিশুর belly button বা নাভি পরে যাওয়ার আগে শিশুটিকে tummy time দিতে ভয় পেয়ে থাকেন, তবে সে ক্ষেত্রে বাবা মাকে খেয়াল রাখতে হবে শিশুর নাভি (Umbilical cord) পরে যাওয়ার আগে তা অপরিপক্ক বা কাঁচা থাকে যার ফলে শিশু ব্যথা পেতে পারে তাই সেক্ষেত্রে বাবা মা অথবা পরিচর্যাকারী হাতের উপরে বা কাঁধে নিয়ে টামি টাইম দিতে পারেন।

পরামর্শ:

* বাবা মায়েদের প্রতি প্রথম পরামর্শ থাকবে শিশুর এই কর্ডটি পরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা যাতে একটু সাবধানে Tummy Time দিয়ে থাকবেন।

* শিশুর পেটে গ্যাস হয়, সেই ক্ষেত্রে বাবা মায়েরা অল্প সময়ের জন্য শিশুকে পেটের উপর চাপ দিয়ে শোয়ানো যেতে পারে আবার শিশুটিকে কোলে নিয়ে তাকে কমফোর্ট দিতে পারে। এভাবে আসতে আসতে শিশুটিকে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন।

* শিশুর বয়স যখন তিন মাসের উপরে বা তিন মাস হলে এক ঘন্টা পর্যন্ত টামি টাইম দেওয়া উঠিত, এক ঘন্টা এক সাথে নয়, কয়েকবার মিলিয়ে এক ঘন্টা হতে পারে।

* তবে বাবা মাকে কিংবা শিশুর পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই শিশুর সামনে থাকতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে শিশুর যাতে কোন অসুবিধা না হয়।

* টামি টাইম দেওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় বিছানার উপরে কোন কাপড় বা অন্য কিছু থাকলে, যা বাচ্চার মুখের কাছে থাকলে তার নিশ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। এই ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

* শিশুকে টামি টাইম দেওয়ার সময় সমান্তরাল জায়গায় রাখতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে, শিশুর আশেপাশে যাতে কোন কাপড় কিংবা অন্য কোনো প্রকারের প্রতিবন্ধকতা যাতে না থাকে।

কেন আমরা শিশুকে টামি টাইম দিব?

* বাড়ন্ত শিশুর জন্য টামি টাইমের ভূমিকা অপরিসীম। একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে তার দুইটি কাজ থাকে। সময়মত ঘুমানো ও খাওয়া। এর মধ্যে দিয়ে তার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি হতে থাকে। টামি টাইম শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। টামি টাইমের ফলে শিশুর মেরুদন্ড, ঘাড় ও কাঁধ শক্ত হয় ফলে তার শারীরিক বৃদ্ধি শক্তিশালী হয় ও তাকে তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

* টামি টাইম দেওয়ার সময় শিশু হাত পা অনবরত ছুড়তে থাকে এবং সাতার কাটার মত সামনে কিছু পেলে তা ধরার জন্য অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে একটি শিশু আসতে আসতে হাত, পা ছুড়তে ছুড়তে সে গড়ানো শিখে, হামাগুড়ি দেওয়া শিখে এবং আশেপাশে যা পাবে তা ধরতে শিখে। যার ফলে তার শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মানসিক বৃদ্ধিও সমানতালে বাড়তে থাকে। এবং সেই সাথে শিশুর অনুসরণ ক্ষমতাকেও বাড়াতে সাহায্য করে। কেননা টামি টাইম শিশুর ঘাড়ের পেশীকে শক্ত করে এবং মাথা ঘুরিয়ে চার পাশে তাকাতে সাহায্য করে।

* একটি শিশুকে চিৎ করে শোয়ানো হলে সে শুধু উপরের দিকে দেখতে পাবে কিন্তু টামি টাইমের ফলে সে চারপাশের সবকিছুকে মাথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে পাবে অর্থাৎ শিশু এই পর্যায়ে একটি পজিটিভ স্টিমুলেশন পাচ্ছে, সবাই তার আশে পাশে আছে এবং সে তাদেরকে দেখতে পারবে।

* এভাবেই একটি শিশু শারীরিক সমন্বয়ের পাশাপাশি তার দৃষ্টিশক্তি ও অনুসরণ করার ক্ষমতাও বাড়ে। শিশুর দৃষ্টিশক্তি ও অনুসরণ করার ফলে শিশুর যে মানসিক বিকাশ ঘটে তা শিশুকে আসতে আসতে অনুকরণপ্রিয় হতে সাহায্য করে।

* যে শিশুরা প্রতিনিয়ত টামি টাইম পাচ্ছে সেই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অন্যান্য শিশুরা যারা টামি টাইম পাচ্ছে না তাদের তুলনায় দ্রুত হয়। তবে বাবা মায়েরা যদি টামি টাইম দেওয়ার সময় বাচ্চা ডিস কমফোর্ট অনুভব করে, কান্নাকাটি করা আরম্ভ করে তবে বুঝতে হবে বাচ্চা এমনটি পেটে গ্যাস হ‌ওয়ার জন্য অসস্থিতে করছে তখন কিছু পেটের মেসেজ আছে যা করে নিলে গ্যাস দ্রুত কমে যাবে এবং বাচ্চা শান্ত হয়ে যাবে।

সুতরাং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য বাবা মায়েদের শিশুকে সময় মত টামি টাইমে অভ্যস্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে টামি টাইমের ভূমিকা অপরিসীম।
ভালো থাকবেন।

লেখকঃ তৃপ্তি পোদ্দার।
প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা বিশেষজ্ঞ।
লন্ডন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *