#বিশেষ সমাচার

নতুন মায়েদের জেনে রাখা ভালো :-

প্রথম মা হবার অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে যারা নতুন মা তাদের যদি সঠিক তথ্য জানা না থাকে, তবে প্রয়োজনে অবশ্য একজন আর্লি ইয়ার্স এক্সপার্ট, পুষ্টিবিধ অথবা শিশু বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে পরামর্শ নিন। আশেপাশের অনভিজ্ঞ অথবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেক সময়ে ভুল পরামর্শে আপনার বাচ্চার জন্য ভালো না হয়ে বরং ক্ষতিকর হতে পারে।

শিশুর খাবার:
শিশুর বাড়তি খাবার দেবার পূর্বে শিশুর উইনিং স্টেজটি সঠিক ভাবে পরিপূর্ন করবেন। শিশুকে কোন অবস্থায় ৬ মাস বয়সের পূর্বে বাড়তি খাবার দেওয়া যাবে না। শিশু ৬ মাস বছর পূর্ণ হলেই কেবল বাড়তি খাবার দেয়ার চেষ্টা করবেন। তার আগে কোনভাবেই দুধ ছাড়া অন্য কোন খাবার দেয়া যাবে না।

অনেকে মা অথবা পরিচর্যাকারী বুকের দুধ পায় না বলে ওটস, নরম ভাত,সুজি, চালের গুড়া, গরুর দুধ, পিউরি, কিশমিশ, খেজুর এবং অন্যন্যা খাবার দিয়ে থাকেন কিন্তু এর ফলে শিশুর বমি, বদহজম, পাতলা পায়খানা হতে শুরু করে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুর পেটের নাড়ী বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পরতে পারে।

উইনিং স্টেজ কি :
উইনিং স্টেজ হলো শিশুর বয়স ৬ মাস হলে তাকে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ এর সাথে সাথে নতুন সহজপাচ্য খাবারে অভ্যস্ত করা। শিশুকে নানারকম খাবার দিয়ে দেখা শিশু কোন খাবার সহজে হজম করতে পারে এবং কোনটি পারে না। এই সিদ্বান্তটি খুব কঠিন একজন মায়ের জন্য কিন্তু এই উইনিং স্টেজ এর ধাপ সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে শিশুর খাবারের প্রতি অনীহা বা খাবার থেকে তৈরী হওয়া বমি, বদহজম বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কমে গিয়ে শিশুকে স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করবে। শিশুকে কিভাবে বাড়তি খাবার শুরু করবেন।

উইনিং স্টেজ এর প্রথম স্টেজ কে বলবো প্রস্তুত হাওয়ার ধাপ বা গেটিং রেডি স্টেজ :
শিশুকে এই ধাপে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ এর সাথে সাথে নতুন সহজপাচ্য এবং নরম খাবার দেওয়া যাতে করে শিশু বাড়তি খাবার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া শুরু করে। এই ধাপে তাদের খাবারটি হলো বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ এর সাথে সাথে সহায়ক খাবার হিসাবে দিতে হবে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ এর “not as a replacement” পরিবর্তে নয়। এটিকে সহায়ক খাবার বা “complementary feeding” বলা যেতে পারে। এই পর্যায়ে শিশু জানবে বা শিখবে কিভাবে খাবার মুখে নিলে কি ধরণের অনুভূতি হয়, খাবারটি মুখে দিয়ে নাড়াচাড়া করা, একটু একটু চিবাতে সাহায্য করা এবং গিলতে সাহায্য করা। যেমন: শুধু গাজর সিদ্ধ (কোন লবন ছাড়া বা অন্য কোন উপাদান ছাড়া) .অনেকেই বুকের দুধ পায় না বলে সুজি, চালের গুড়া, গরুর দুধ আর ইদানিং পিউরি, কিশমিশ, খেজুর, ওটস শুরু করে দেন ( যেহেতু বাইরের অনেক দেশে চার মাসে উইনিং শুরু করতে বলে বা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেখে মায়েরা যুগের সাথে তাল মেলাতে বেতাল হয়ে যান!) এতে শিশুর বমি, বদহজম, পাতলা পায়খানা হতে শুরু করে পেটের নাড়ী বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সময়:
শিশুর এবং আপনার সময় অনুযায়ী দিনে বা রাতে যে কোন একটি খাবারের সময় নিধারণ করতে পারেন, মনে রাখতে হবে শিশু যেন খুব বেশি ক্ষুধার্ত না হয় এবং ক্লান্ত না থাকে। খাবার খাওয়া এবং শেখা একটি নতুন দক্ষতা আপনার শিশুর জন্য, শিশু খুব কম পরিমান খাবে এবং অনেক সময় নেবে খাবারের টেস্ট বুঝতে। শিশু যখন খাবার থু থু করে ছিটাবে বা হাত দিয়ে ফেলে দেবে তখন বুঝতে হবে শিশুর খাবারের প্রতি ইচ্ছে শেষ, ওই মুহূর্তে শিশুকে জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকবেন। শিশুকে কোনো প্রকার ভীতি প্রদান বা ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র দিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস করবেন না। শিশুর সাথে কথা বলে খাবার খাওয়ানোর সময়।

খাবারে অনীহা :
নতুন কোন খবরের স্বাধ, গন্ধ বা কি রকম খেতে এই টেস্ট বুঝে অভ্যাসে পরিণত হতে ১০ বার বা তার অধিক সময় লাগে। এই পর্যায়ে শিশু কিছু দিন বেশি খাবে আবার কিছু দিন কম খাবে আবার কোন কোন দিন একদমই খাবে না কিন্তু তাতে ভয়ের কিছু নেই। এই ধরণের আচরণ স্বাভাবিক , খুব বেশি চিন্তা বা অস্থির হবার কিছু নেই, স্থির হয়ে মনকে স্থির করে নানানস্বাধের খাবার খেতে দিন। অনেক ক্ষেত্রে শিশু খাবার খাবে না শুধু নাড়াচাড়া করবে, শিশুর এই খাবার নিয়ে যে নাড়াচাড়া করার ইচ্ছে, সেই ইচ্ছেকে উৎসাহ দিন। কারণ খাবার নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে সে এই খাবারের সাথে পরিচিতি লাভ করবে।

প্রস্তুত নাকি প্রস্তুত নয়:
কেন আপনি শিশুর ৬ মাস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। শিশুর জন্য ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ হলো সবচেয়ে বেশি উপকারী কারণ গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করে তারা রোগ জীবাণু দ্বারা কম সংক্রমিত হয়ে থাকে। মায়েদের অবশ্যই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টরি গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয়।

শিশুর জন্মের প্রথম ৬ মাসে শিশু তাকে বেড়ে ওঠার জন্য সময় নেয় যাতে করে শিশু বাড়তি খাবার খেয়ে হজম করতে পারে এবং অনেকটা নিজে নিজে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করে। তারা খাবার মুখে দিয়ে চিবানো এবং গিলে ফেলার পূর্বে খাবার নাড়াচাড়া করে। সে স্টেজ এ শিশুকে নরম, দানা দানা( lumpy) এবং হাতে নিয়ে খেতে পারে এই ধরণের খবর দিতে হবে। অধিকাংশ মায়ের অভিযোগ, বাচ্চা খিচুড়ি খেতে চায় না। এখানে বুঝতে হবে যে, আপনার বাচ্চা এতদিন বুকের দুধের মতো বর্ণহীন, পানসে তরল খেয়েছে, হুট করে একটা শক্ত খাবার নিতে ও বুঝতে তার সময় লাগবে। যেমন ধরুন আপনাকে যদি সিদ্ধ সবজি খেতে দেয়া হয় আপনি খেতে ইচ্ছে পোষণ করবেন না বা আনন্দ নিয়ে খাবেন না, খাবেন যদি অভ্যাস থাকে অথবা খাবেন খিধে লাগলে, আপনার হাতে আর কোন উপায় না থাকলে।

শিশু বাড়তি খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা তা তিনটি বিষয় লক্ষ্য করবেন, এই তিনটি বিষয় শিশু করতে সক্ষম কিনা-

১. শিশু বসতে পারে কিনা এবং মাথা সোজা হয়ে থাকে কিনা, শিশুর মাথা যদি নড়বড়ে থাকে বা একা াক বা কোন সাহায্যসহ বসতে পারে তাহলে শিশু এই স্টেজ এর জন্য প্রস্তুত।

২. চোখ, হাত এবং মুখ এই তিনটির সমন্নয় করতে পারে কিনা অর্থাৎ শিশু হাত দিয়ে ফিঙ্গারফুড টি মুখে তুলে খেতে পারে কিনা।

২. খাবার মুখে দিয়ে খাবার গিলে খেতে পারে কিনা, যদি সে গিলে খেতে না পারে সে প্রস্তুত নয়।

কিভাবে বুঝবেন সে প্রস্তুত:
–হাত পা মুখে দিয়ে চুষবে
–মায়ের বুকের দুধে পেট ভরবে না
–ক্ষুধার কারণে রাতে বার বার ঘুম থেকে উঠে যাবে
এইগুলো স্বাভাবিক আচরণ শিশুর মধ্যে প্রতীয়মান হয়ে থাকে, বাড়তি খাবার শুরু করলে শিশু রাতে ভালো ঘুমাতে শুরু করবে এবং মধ্যে রাতে একবার দুধ পান করলে শিশু সারারাত ভালো ঘুমাবে।

বাড়তি খাবার ও বয়সসীমা:
শিশুর বয়স ৬ মাস: দিন রাত মিলিয়ে একবার এবং এক ধরণের খাবার দিতে হবে, যে খাবারটি শিশু সহজে হজম করতে পারে, যেমন: ফল এবং সবজি শিশুর জন্য ভালো। খাবারটি নরম, ম্যাস এবং যেন ভালো সিদ্ধ হয়, কিছু খাবারের নাম: মৌসুমী ফল, আলু, ব্রকোলি, মিষ্টি আলু, গাজর, আপেল ইত্যাদি। সিদ্ধ ভাত ও শিশু যে দুধটি পান করছে সেটি মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
প্রথম দিকে যে কোন খাবারই অল্প পরিমান দিয়ে শিশুর এলারজি এবং ইন্টলারেন্সি দেখে নিতে হবে। শিশুর এলারজি এবং ইন্টলারেন্সি থাকলে শিশুর পায়খানা খুব নরম হবে/ কোষ্ঠ্যকাঠিন্য হতে পারে, শরীরে ঘামাচির মত বিচি উঠতে পারে আবার শিশু বমি ও করতে পারে। তাই খুব অল্প খাবার দিয়ে তার উইনিং স্টেজ শুরু করতে হবে।

৭-৯মাস:
শিশু এইসময়ের মধ্যে খাবার সম্পর্কে একটি ধারণা পেয়ে যাবে, এ ক্ষেত্রে শিশুর সাথে একসঙ্গে বসে খেতে দিতে হবে কারণ শিশুরা দেখে অনুকরণের মধ্যে দিয়ে ভালো শেখে।

ধীরে ধীরে শিশু একবার থেকে তিনবার খাবার খেতে শিখবে, যেমন: সকালের খাবার , দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার। এই পর্যাযে শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির দিকে লক্ষ্য রেখে নানারকমের রংধনুর রঙে খাবারের পেলেটটি সাজাতে হবে।

শিশুর খাবারে কোন বাড়তি লবন বা চিনি দরকার নেই। লবন শিশুর কিডনির জন্য ভালো না এবং চিনি মিশ্রিত খাবার দাঁতের জন্য ভালো নয়
১২ মাস বয়স শিশুর জন্য কোনো নাস্তা (snacks) দরকার নেই। যদি বাড়তি খাবার শিশুর জন্য যথেষ্ট না হয়ে থাকে তবে শিশুকে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে পারেন।

১০-১২ মাস :
তিনবার খাবার যেমন: সকালের খাবার, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার এবং বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ খাওয়ার সাথে শিশু অভ্যস্ত হয়ে যাবার কথা।
এই বয়সে শিশুকে দুপুরের খাবারের পরপর বা কিছুক্ষন পর তাজা ফল বা চিনি ছাড়া দধি দেওয়া যেতে পারে একটু মধু মিশ্রিত করে।

শিশুর খাবারে কোন বাড়তি লবন বা চিনি দরকার নেই। লবন শিশুর কিডনির জন্য ভালো না এবং চিনি মিশ্রিত খাবার দাঁতের জন্য ভালো নয়

১২ মাসের উর্দ্ধে :
এই বয়সে তিন বার খাবারসহ ২টি স্বাস্থ্যকর উইনিং নাস্তা দিতে হবে যেমন : ফল, তাজা সবজি লম্বা করে কাটা, ব্রেড টোস্ট, দুধ বা দধি ইত্যাদি।
শিশুর খাবারে কোন বাড়তি লবন বা চিনি দরকার নেই। লবন শিশুর কিডনির জন্য ভালো না এবং চিনি মিশ্রিত খাবার দাঁতের জন্য ভালো নয়।

এই ভাবে শিশুকে উইনটিং স্টেজ থেকে ৫বার খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে, শিশুকে সঠিক উপায়ে খাবার খাওয়ালে শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং পুষ্টিগত দিকটি ঠিক থাকে।

সাবধানতা:
প্রথমেই সুজি, সেরেলাক, চালের গুড়া, চিনি, মিছরি, সাবু, ওটস এ ধরনের খাবার দিয়ে শুরু করলে পরে শিশু ভাত ও অন্যান্য শক্ত খাবার খেতে চায় না। কারন, ঐ খাবার গুলো সহজেই আরামে গিলে ফেলা যায়, কষ্ট করে চিবাতে হয় না। ফলে শিশুর মধ্যে শক্ত খাবার খাওয়ার অনীহা জন্মায়।

এক বছরের নিচে চিনি জাতীয় খাবার দিতে নিষেধ করা হয় যদি সম্ভব হয় তাহলে ৩ বছর পর্যন্ত লবন এবং চিনি এড়িয়ে চলুন।

২ বছরের নিচে গরুর দুধ দিলে বাচ্চার এলার্জিসহ বদহজম, রক্তস্বল্পতা, কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
শিশুকে তরল খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন, খাবার ব্লেন্ড, পাটায় বেটে অথবা তরল করে খাওয়ালে শরীর দ্রুত হজম হয়ে যায়, যার ফলশ্রতিতে পুষ্টি হয় না। পরবর্তীতে শিশুকে শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে চায় না, বড় হয়েও তরল খাবারে অভ্যস্ত থাকে যা শিশুর সঠিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত করে।

বেশির ভাগ মায়েরাই এক খাবার নিয়ে সারাদিন শিশুর পিছনে ছোটাছোটি করে থাকেন। যেভাবেই হোক পেলেট এর সব খাবার শিশুকে না শেষ হওয়াপর্যন্ত যেন মায়েদের শান্তি মেলে না সেক্ষেত্রে মনে রাখবেন শিশুর হজমে সমস্যা এবং খাবারের প্রতি বিরক্তি চলে আসে।
কারণ শিশুর খাবার আধাঘন্টার মধ্যে যতটুকু খাবে ততটুকুই খাওয়ানো উচিত। কারণ, খাদ্যনালী থেকে খাবার হজম হওয়ার জন্য যে এনজাইম ও হরমোন নিঃসৃত হয় তা আধাঘন্টা পর্যন্ত থাকে।

কাটা চামচ দিয়ে ম্যাশ করে নরম করে শিশুকর খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে, পিউরি করে খাবার খাওয়ানো খুবই অস্বাস্থ্যকর।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ালে একসময় দেখা যাবে, ঐ সময় খাবার না দিলে শিশু নিজে খেকেই খেতে চাচ্ছে। এটাকে বায়োলজিকাল ক্লক বলে।
শিশুকে কোথায় খাওয়াচ্ছেন, কিভাবে খাওয়াচ্ছেন এর উপরও শিশুর খাওয়ার আগ্রহ নির্ভর করে। শিশুকে টিভি দেখিয়ে, মোবাইলে গান শুনিয়ে খাওয়ালে শিশুর আগ্রহ খাবারে না হয়ে গান বা টিভি বা অন্য কোন দিকে থাকে।

একটা নির্দিষ্ট জায়গায়, চেয়ার বা মোড়ায় বসিয়ে পেলেট, বাটি, গ্লাস, টেবিল এ সাজিয়ে খেতে দিলে ও নিজের হাতে খাওয়ার উৎসাহ দিলে শিশু খাবারে উৎসাহ পাবে ।

মা শিশুকে শোয়ানো অবস্থায় চামচ দিয়ে খাওয়াবেন না, কারণ তাতে শিশুর শ্বাসনালীতে খাবার ঢুকে যাওয়ার ভয় থাকে ও এতে শিশু মারাও যেতে পারে।
শিশুর খাবারে কোনো এলার্জি থাকলে নিউট্রিশনিষ্টের কাছ থেকে খাবারের চার্ট নিন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন, পেটের নাড়িতে কোন সমস্যা আছে কিনা তা জেনে নিন।

নবজাতক বা বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রেঃ
মায়ের গায়ের চামড়ার সাথে নবজাতককে ভালো করে ধরে বুকের দুধ দিতে হবে( Skin to skin contact)
নবজাতককে প্রতিটি স্তনে ৫/৭ মিনিট করে চুষতে দিতে হবে, কখন ও একটি স্তন পানের পার ফিডিং শেষ করবেন না।

নবজাতকের ফিডিং এর কিছু পূর্বে কোনো ধরনের ফিডার, চুষনী, প্যাসিফায়ার দেয়া যাবে না।
মায়ের বুকে দুধের পরিমান বেশি হলে আর যদি নবজাতক পান করে শেষ করতে না পারে তাহলে অরিতিক্ত ব্রেস্টমিল্ক ফ্রোজেন করে পরে শিশুকে দিতে পারেন।

মায়ের ব্রেস্ট এ ব্যথা হলে ব্রেস্ট এ ভেজলিন দিয়ে উষ্ণ ভেজানো তোয়ালে দিয়ে কিছুক্ষন রাখলে মা আরামবোধ করবেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ব্রেস্ট মিল্ক পাম্পের মাধ্যমে বের করা সহজ হয়ে থাকে।

মায়ের নিপলে ব্যথা থাকলে নিপল সিল্ড বা প্লাস্টিকের কভার নিপলের উপর দিয়ে চুষতে দেয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জীবানুর আক্রমণ, মায়ের ব্রেস্টে ইনফেকশন বা বুকের দুধ কম পাওয়ার মতো সমস্যাগুলো হতে পারে।
নবজাতক প্রথম দিকে ২/৩ ঘন্টা ব্যবধানে ফিডিং করে, ধীরে ধীরে সময়ের ব্যবধান বাড়তে থাকে

পানীয়:
শিশুকে শিশুবান্ধব কাপ দিন যাতে পানি ফেলে দিতে না পারে, ৬ মাস পরবর্তী সময়ে পানি পান করতে সাহায্য করুন।

দুই উর্ধ শিশুকে গরুর দুধ দিতে পারেন। শিশুকে কোনভাবে কোমল পানীয় বা চিনি দেওয়া সরবত দেওয়া যাবে না, দুধ দিয়ে তৈরী খাবার দেওয়া যেতে পারে কিন্তু চিনি না দেবার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

খাবারে তীব্র অনীহা:
• টডলার শিশুর ক্ষেত্রে, খাবার বা অন্য কিছু শ্বাসনালীতে গিয়ে বিষম খেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে পরবর্তীতে ভীতি থেকে খাদ্যে অনীহা তৈরী হয়। আবার মুখে বা জিহ্বায় আঘাত পেলে, দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকলে বা এন্টিবায়োটিক খেলে জিহবায় সাদা পর্দার মতো ময়লা জমে বা ফাংগাস জমে, এই কারণগুলোর কারণে খাবারের স্বাদ না পাওয়ায় খাদ্যে অনীহা জন্মায়। ফলে শিশুর খাবারের প্রতি ভীতি জন্মে, খেলে ব্যথা পায় বা গিলতে কষ্ট হলে অল্প খেয়ে আর খেতে চায় না।

• জন্মের পরবর্তী অসুস্থতার জন্য দীর্ঘ সময় নাকের নল দিয়ে খাবার দিলে/ কৃত্রিম শ্বাসের জন্য গলায় নল দেয়া থাকলে, মুখে ও গলায় ঘা হলে শিশু এবং নবজাতকের খাবার গেলা বা চোষার ক্ষমতা হ্রাস পায়।

লেখিকাঃ তৃপ্তি পোদ্দার।
প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা বিশেষজ্ঞ।
লন্ডন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *