#আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কাকে ২.৯ বিলিয়ন ঋণ দিতে সম্মত আইএমএফ।

আইএমএফ-এর কাছে অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সঙ্কট-বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে।

ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে আইএমএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, শ্রীলঙ্কার নতুন তহবিল-সমর্থিত কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ঋণের স্থায়িত্ব পুনরুদ্ধার করা। এ ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে আইএমএফ ৪৮ মাসব্যাপী আর্থিক ব্যবস্থার রুপরেখা দিয়েছে। ঋণ দান চুক্তিটি আইএমএফ ব্যবস্থাপনা এবং এর নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং পূর্বে সম্মত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভরশীল।

আইএমএফ এও বলছে ব্যক্তিগত ঋণদাতাদের সাথে একটি সহযোগিতামূলক চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার সরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে অর্থায়নের নিশ্চয়তাও প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কার ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ ত্রাণ এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত এবং অর্থায়নের ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্যে তা প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কায় খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ছাড়াও গত এপ্রিলে দেশটিকে ঋণ স্থগিতাদেশ দেওয়ায় এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ে। এর সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় ৬০ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও হ্রাস পাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটাতে তীব্র সংকটে পড়ে দেশটি। জ্বালানি সহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাধা সৃষ্টি ছাড়াও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ আরও বাধাগ্রস্ত করেছে। এবছর দেশটির অর্থনীতি ৮.৭ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমএফ বলছে এ পরিস্থিতিতে ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার কর্মসূচির লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, শ্রীলঙ্কার জনগণের জীবিকা রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য স্থল প্রস্তুত করা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি প্রচার করা। একই সঙ্গে আইএমএফ শ্রীলঙ্কাকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়ে বলেছে, বড় ধরনের কর সংস্কার বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে।

এই সংস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত আয়কর ও কর্পোরেট আয়কর এবং ভ্যাটের জন্য করের ভিত্তি প্রসারিত করা। প্রোগ্রামটির লক্ষ্য ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপির ২.৩ শতাংশ প্রাথমিক উদ্বৃত্তে পৌঁছানো। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভূত আর্থিক ঝুঁকি কমাতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের জন্য খরচ-পুনরুদ্ধার ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কথা বলেছে আইএমএফ। সামাজিক ব্যয় বাড়িয়ে দরিদ্র এবং দুর্বলদের উপর বর্তমান সংকটের প্রভাব প্রশমিত এবং সামাজিক সুরক্ষা নেট কর্মসূচির কভারেজ ও লক্ষ্যমাত্রা উন্নত করতেও বলেছে আইএমএফ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *