রাশিয়ার হামলায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছে।
রাশিয়ার হামলার কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে। তারা শরণার্থী হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সাত দিনে শরণার্থীর এ ঢল নামে বলে জানায় সংস্থাটি।
গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। তার এ নির্দেশের পরই ইউক্রেনে তিন দিক থেকে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। রুশ হামলার মাত্র ৭ দিনে ইউক্রেন থেকে ১০ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হলো।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ফলে সৃষ্ট শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি। টুইটারে দেয়া বিবৃতিতে তিনি ইউক্রেনে থাকা লাখো মানুষকে যাতে জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদান করা যায়, সে জন্য গোলাগুলি বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সংস্থাটির ধারণা এ যুদ্ধে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তাদের ত্রাণ প্রয়োজন।
এদিকে বিবিসির প্রতিবেদক লুইস গুডাল বলেন, বিশ্বে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটে ১৩ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনে চলমান সংঘাতের মাত্র সাতদিনে দেশটি থেকে শরণার্থী হওয়া মানুষের সংখ্যা ২০১৫ সালের সংকটকে প্রায় ছাড়িয়ে গেছে। ইউক্রেনের শরণার্থীরা মূলত পশ্চিম সীমান্তবর্তী দেশগুলোয় পালাচ্ছে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও মলদোভায় পালিয়েছে বেশিরভাগ ইউক্রেনীয় শরণার্থী।
জাতিসংঘ জানায়, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব দেশে ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় শরণার্থী প্রবেশ করেছে। পোল্যান্ড গ্রহণ করে ৪ লাখ ৫৩ হাজার শরণার্থী। পোলিশ সরকার জানায়, প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার শরণার্থী প্রবেশ করছে।
স্থানীয় বুধবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খারকিভ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মারিওপোল, উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ শহরে বিমান ও গোলা হামলা বাড়িয়ে দেয় রাশিয়া। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী খেরসন দখলে নিয়েছে তারা। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার প্যারাট্রুপার বা ছত্রীসেনারা নেমে শহরটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তথ্যসূত্র : ইউরো নিউজ।





