জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে চারজন নিহত।
জাপানের উত্তরপূর্বের উপকূলীয় অঞ্চল ফুকুশিমায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এ ভূমিকম্পটি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০৭ জন। ভূমিকম্পের ঘটনায় ফুকুশিমার দক্ষিণাঞ্চলসহ রাজধানী টোকিয়োর বেশি কিছু এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটিকে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে এটিকে সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার বলে ঘোষণা দিয়েছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, ফুকুশিমা উপকূলে ৬০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১০৭ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আজ সকাল পর্যন্ত পানিবিহীন ছিল অঞ্চলটির চার হাজার ৩০০ বাড়ি। ফুকুশিমার একটি শহরের বাসিন্দাদের লাইনে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিকের ট্যাংকে পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাস্তাঘাটে ফাটল ধরায় অঞ্চলটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই টোকিওর বহু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে, তবে ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে আসে। কিন্তু স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জাপানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে তহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির ২৪ হাজার ২৭০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও তবে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে এ সতর্কতা বাতিল করা হয়। দেশটির কিছু অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০১১ সালের ১১ মার্চ স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কবলে পড়ে জাপান। ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিও একই স্থানে মাত্র ২৯ কিলোমিটার গভীরে হয়েছিল। এ ঘটনায় সৃষ্ট সুনামিতে দেশটির একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিকল হয়ে পড়েছিল। এছাড়া একটি শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল এবং নিরাপত্তার জন্য ফুকুশিমায় প্রবেশের একটি প্রধান হাইওয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে দেশটির প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র : এনকে টিভি।





