আলোচনায় রাজি আর্মেনিয়া।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি আর্মেনিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত তারা।
বিতর্কিত নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী আজারবাইজানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার টানা ছয় দিন যুদ্ধাবস্থা চলে।
গত রোববার থেকে বিতর্কিত অঞ্চলটিতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। এ সংঘাতে দুই পক্ষেরই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চলে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের ঘটনা। দুই পক্ষই ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করেছে। নাগোরনো কারাবাখ নিয়ে অনেক বছর ধরে বৈরী সম্পর্ক আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। পার্বত্য অঞ্চল নাগোরনো কারাবাখ সোভিয়েত আমলে আজারবাইজানের অংশ ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এক যুদ্ধে আর্মেনিয়ার সহায়তায় জাতিগত আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। দুই দেশের সীমান্তে গত রোববার ইয়েরেভান ও আজেরি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও টানা ছয় দিন ধরে সেখানে যুদ্ধ চলছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়া যৌথভাবে ওই অঞ্চলে সংঘর্ষের নিন্দা জানায়। গতকাল পর্যন্ত আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওএসসিই মিনস্ক মেডিটেশন গ্রুপের সদস্য হিসেবে ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র গত বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। কিন্তু আলোচনায় এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি আজারবাইজান।
লড়াইয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আজারবাইনের সেনারা আরও সামনে এগোনের দাবি করেছেন। তাঁরা আর্মেনিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন। গতকাল আর্মেনিয়ার পক্ষ থেকে আজারবাইজানের সাতটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা বলা হয়। তবে আজারবাইজান তা অস্বীকার করেছে। আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তারা ওএসসিই মিনস্কের প্রস্তাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আজারবাইজানের ভূখ- থেকে আর্মেনিয়া সরে গেলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব।





