#আন্তর্জাতিক

শতবর্ষ পুরনো আটোমান টাকা ফেরত দিল ফিলিস্তিনী পরিবার।

১০৬ বছর আগের এক আটোমান সেনার গচ্ছিত আমানত ফেরত দিল ফিলিস্তিনের একটি পরিবার। পশ্চিমতীরের নাবলুস শহরে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাঘেব হেলমি আল-আলাউফের পরিবার তুরস্কের কনসাল জেনারেল আহমেদ রিজা ডেমিরের কাছে সুলতান সুলেইমানের আমলের এ টাকা ফেরত দেয়।

আল-আলাউফের প্রপিতামহ মুতি ছিলেন অটোমান সাম্রাজের একজন যোদ্ধা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তার প্রপিতামহের এক সহযোদ্ধা ১৫২ অটোমান লিরা (৩০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ) তাদের পরিবারের কাছে গচ্ছিত রেখে যান। এ সময় তিনি বলে যান, যদি ফিরে আসি তা হলে এ আমানতের টাকা ফেরত নেব।

সেই থেকে এ টাকাগুলো একটি লোহার সিন্দুকে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন ফিলিস্তিনি ওই পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন হয় ব্রিটিশদের কাছে। সেই থেকে ফিলিস্তিনি চলে যায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে।

১৫১৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ১৯১৭ সালে ব্রিটেনের কুখ্যাত ব্যালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিকে ইহুদিদের জাতীয় আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সে থেকেই ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু।

শত বছর ধরে ইহুদিরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল করে চলছে। টাকা ফিরত দেওয়ার অনুষ্ঠানে রাঘেব হেলমি আল-আলাউফ বলেছেন, তুর্কি সেনার এ আমানতের ব্যাপারে তার প্রয়াত দাদা তার বাবাকে বলে গিয়েছিলেন। তার বাবা তাদের বলে গেছেন।

অবশেষে ১০৬ বছর পর তারা এ আমানত তুর্কি সরকারের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। তুরস্কের কনসাল জেনারেল আহমেদ রিজা ডেমিরের বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব তুরস্ক ও ফিলিস্তিন জনগণের আত্মাকে আলাদা করতে পারেনি। আমরা এখন দুই দেশের হলেও এক জাতি। মনেপ্রণে আমরা এখনও এক আছি। ফিলিস্তিনি ওই পরিবারের প্রতি তুরস্কের জনগণের ভালোবাসা পৌঁছে দেন এ তুর্কী কূটনীতিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *