রুবলের দাম ৭ বছরে সর্বোচ্চ।
ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে রাশিয়ার অর্থনীতি অচল করে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে এসব দেশ। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের নাটকীয় উত্থান হচ্ছে। গত সোমবার ইউরোর বিপরীতে রুবলের মান ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে, প্রায় সাত বছর সময়ের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এদিকে ডলারের বিপরীতেও রুবলের মান বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, মূলধন নিয়ন্ত্রণ, তেলের উচ্চমূল্য ও মাসিক কর পরিশোধের সময় চলে আসার কারণে রুবলের মান বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় গত সোমবার বেলা ১টা ৩৮ মিনিটে ১ ইউরোর বিপরীতে রুবলের মান বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় ১ ইউরো সমান ছিল ৫৮ দশমিক ৭৫ রুবল। ২০১৫ সালের জুনের শুরুর দিকের পর ইউরোর বিপরীতে রুবলের মান কখনোই এতটা বেশি ছিল না। ডলারের বিপরীতেও রুবলের মান বেড়েছে। গত শুক্রবার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ মান বেড়ে ১ ডলার সমান ছিল ৫৭ দশমিক ৪৭ রুবল। ২০১৮ সালের মার্চের শেষ দিকে ১ ডলার সমান ছিল ৫৭ দশমিক শূন্য ৭ রুবল। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুবলের মান এর চেয়ে বেশি কখনোই ছিল না। শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুবলের মান তার কাছাকাছি চলে যায়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করে রুশ বাহিনী। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে পুরোদমে সংকট শুরু হয়। কিন্তু এরপরও চলতি বছর ডলারের বিপরীতে রুবলের মান প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ বছর সবচেয়ে ভালো করা মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে রুবল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে অর্থনীতিকে বাঁচাতে রাশিয়া কৃত্রিমভাবে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। তারই সুফল হচ্ছে রুবলের এই উত্থান।
মূলত রপ্তানিনির্ভর কোম্পানিগুলোর কারণে রুবলের মান বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অর্ধেক সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত জব্দ হয়ে যায়। কিন্তু পাল্টা পদক্ষেপ নেয় মস্কো। রাশিয়া শর্ত দেয়, রপ্তানির জন্য বিদেশি মুদ্রা অবশ্যই দেশীয় মুদ্রা রবলে রূপান্তর করে তারপর মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এতে রুবলের চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর মানও বেড়ে যায়। টিনকঅফ ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার যখন এসব শর্ত ও বিধিনিষেধ দিতে শুরু করে, তখন থেকেই মাঝারি পর্যায়ে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের মান বাড়তে শুরু করে।





