#আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আব্দুল্লাহ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। খবর বিবিসি।

পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পার্লামেন্টের কার্যক্রমও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে – পরিস্থিতি বিবেচনায় আগস্ট মাসের শুরু পর্যন্ত এ জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকতে পারে।

তবে, সমালোচকরা বলছেন – মালয়েশিয়ার রাজার এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনের নড়বড়ে ক্ষমতাকে খানিকটা শক্তিশালী এবং আগাম নির্বাচন করতে চাওয়া বিরোধীদের চাপকে কিছুদিনের জন্য ঠেকিয়ে রাখার আয়োজন।

এদিকে, মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে মুহিদ্দিন আগামী কিছুদিনের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জরুরি অবস্থা চলাকালীন মালয়েশিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসামরিক সরকার তার কাজ চালিয়ে যাবে। রাজা যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, তা সামরিক অভ্যুত্থান নয়। কোনো কারফিউও দেওয়া হবে না। জরুরি অবস্থার আওতায় সামরিক বাহিনী কেবল জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা পেতে পারে, পুলিশকেও দেওয়া হতে পারে অতিরিক্ত ক্ষমতা। নানান বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

পাশাপাশি, কোভিড-১৯ মহামারির ব্যাপকতা কমলে বা পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এবং নির্বাচন আয়োজন নিরাপদ – স্বাধীন বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে এমন গ্রিন সিগন্যাল পেলেই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুহিদ্দিন ইয়াসিন।

এর আগে, ২০২০ সালে মাহাথির মোহাম্মদের জোট সরকার ভেঙে পড়ার পর মার্চে পার্লামেন্টে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসেন মুহিদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যে অনিশ্চয়তা চলছিল, রাজার জরুরি অবস্থা জারি তা কিছুদিনের জন্য আড়াল করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে, জরুরি অবস্থা জারি থাকায় মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুসারে মুহিদ্দিনের সরকার এখন পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই আইন প্রবর্তনের সুযোগ পাবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই দেশজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং রাজধানী কুয়ালালামপুর ও পাঁচ রাজ্যে ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন।

করোনা সংক্রমণের মুখে তিন কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা এখন সংকটকাল অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

ওদিকে, গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো একদিনে তিন হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। সোমবার (১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় সরকারি হিসাব অনুসারে, করোনা আক্রান্ত মিলেছে এক লাখ ৩৮ হাজারের বেশি। একই সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে সাড়ে পাঁচশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *