#আন্তর্জাতিক

ভারতে করোনার সংক্রমণ ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভারতে করোনা সংক্রমণ ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ভাইরাস সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ২শ’ ৮৫ জন। মোট মৃত্যু ২ লাখ ১১ হাজারের বেশি। আর দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড প্রায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের করোনা শনাক্তে প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে। রাজধানী দিল্লি, মুম্বাইয়ের মত বড় শহুরগুলো এখন মৃত্যুপুরী। স্থানের অভাবে বহু জায়গাকে অস্থায়ী শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভয়াবহ খবর হলো দেশটিতে প্রকৃত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নাকি- বর্তমান সংখ্যার কয়েক গুণ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে সরকার প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের দিনে দেশটি করোনা আক্রান্ত ৫০ কোটিরও বেশি হতে পারে।
প্রথম ঢেউয়ের পর স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে ভারতীয় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও সমালোচনা করেন তারা।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী, ভারতে চলমান উচ্চ মৃত্যুহার আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বজায় থাকবে। দৈনিক মৃত্যুহার ১৩ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা বিশ্ববিদ্যালয়টির। হরিয়ানা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে বেড়েছে সংক্রমণ। আর বেশ কয়েকটি রাজ্যে করোনা ঠেকাতে আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

গতকাল বুধবার থেকে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার ও আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। খোলা থাকবে শুধু জরুরি সেবাগুলো। মঙ্গলবার কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই কারফিউ জারি করা হলো। কুম্ভমেলায় অংশ নেযা ২ হাজারের বেশি মানুষ এরইমধ্যে আক্রান্ত।

এদিকে দ্রুত সংক্রমণশীল নতুন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অন্তত ১৭টি দেশে মিলেছে। বি-১ ৬১৭ ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অনেকটাই দায়ি বলে মনে করা হয়। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের মত দেশ রয়েছে । ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় উদ্বিগ্ন সারা বিশ্ব। এটি এখন শুধু ভারতের নয়, বরং সবারই সমস্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথান বলেছেন, ‘ভাইরাসের কোনো সীমান্ত নেই, কোনো জাতীয়তা নেই। এর নেই কোনো বয়স, লিঙ্গ বা ধর্মভেদ। আজকে ভারতে যা হচ্ছে দুর্ভাগ্যবশত তা অন্য দেশেও হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, এই মহামারি বুঝিয়ে দিয়েছে সারা পৃথিবীতে আন্তঃযোগাযোগ কতটা শক্তিশালী। যদি একটি দেশ ভীষণভাবে সংক্রমিত হয়, তাহলে তা অন্য দেশেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

এমনকি, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, একাধিকবার পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন সত্ত্বেও সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে। কোনো সংক্রমিত এলাকা থেকে কেউ আসলে তার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে উচ্চমাত্রায়। সম্প্রতি, নয়াদিল্লি থেকে হংকংগামী এক ফ্লাইটে প্রায় ৫০ যাত্রীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে করোনার ‘বি-ওয়ান-সিক্স হান্ড্রেড সেভেনটিন’ নামের ভ্যারিয়েন্টটি সৃষ্টি করেছে নতুন আতঙ্ক। এর ‘ডাবল মিউটেশন’ হয়েছে বলেও বলছেন অনেকে। গবেষণাগারেও দেখা গেছে, একে প্রতিরোধ করতে অ্যান্টিবডিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *