#আন্তর্জাতিক

ফাহিম সালেহকে খুন : একজন গ্রেফতার

ফাহিম সালেহকে খুন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। পেশাদার খুনি শুরু থেকে বলা হলেও পেশাদার খুনি কাজটি পেশাদারের মতো শেষ করতে পারেননি। ফাহিমের সঙ্গে লিফটে ওঠা ব্যক্তিকে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টেই ঢুকতে দেখা গেছে। অ্যাপার্টমেন্টের দরজা দিয়ে লিফটে করে নেমে আসার কোনো ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়নি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাহিমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ জন্য ‘টেজার’ নামের একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে শুরুতেই ফাহিমকে কাবু করে ফেলেন ঘাতক। তারপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অটোসপি রিপোর্টে দেখা গেছে। পরে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ফাহিমের দেহ টুকরা টুকরা করা হয়েছে। ব্লিচ দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগে ঢোকানোর সময় লবি থেকে বা বাইরে থেকে কেউ ফাহিমের খোঁজ করতে আসেন। হত্যাকারী ফাহিমের মরদেহ টুকরা টুকরা করে ব্যাগে ভর্তি করে। এই ফাঁকে ধুয়েমুছে রক্ত পরিষ্কার করেন। ঘটনাস্থলে তেমন রক্ত পাওয়া যায়নি। কেউ আসছে বা দরজায় বেল দিচ্ছে, এমন ঘটনার পর হত্যাকারী সাত তলা অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যান। এ জন্য তাঁকে চাবি ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে ঘাতকের এ ধরনের আপৎকালীন এক্সিট পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক করাতে ও অন্যত্র আঙুলের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নামলেও নিউইয়র্ক নগরীর সর্বত্র এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়।

এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্র দেখে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। অনেকটা করোনার কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মতো হত্যাকারীর অবস্থান চিহ্নিত করে নিউইয়র্ক পুলিশ। ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কিছু খোয়া যায়নি। ঘরের মালামাল পরিপাটি ছিল। কোনো তছনছের চিহ্নও পায়নি পুলিশ।

নিহত ফাহিম সালেহর পরিবারের পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে এ অপরাধের তদন্তের গভীরে যাওয়া এবং ফাহিমের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি সূত্রমতে, এমন আটক করার ঘটনায় পেশাদার খুনিরা সাধারণত পাগলামোর অভিনয় করে থাকেন। বিচারের সময় আইনগত সুবিধা পাওয়ার জন্যই তাঁরা এ ধরনের আচরণ করে থাকেন। পুলিশ বিভাগের অপরাধ নিয়ে কাজ করা এক কর্মকর্তার মতে, স্বাভাবিক প্রটোকল অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে মনস্তত্ত্ববিদের কাছে নিয়ে যেতে হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এনওয়াইপিডির হাতে আটক ব্যক্তি ফাহিমের পরিচিত ছিলেন। পুলিশের সূত্র ধরে নিউইয়র্কের ‘আই উইটনেস নিউজ চ্যানেল সেভেন’ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ফাহিমের সঙ্গে কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক কোনো লেনদেন ভালো যায়নি বলেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন বলে এর বেশি কিছু জানা যায়নি।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, খুনি খুবই পেশাদার। এ জন্য পাগলের ভান করছেন। তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক ওই ব্যক্তির কাছ থেকে পুরো ঘটনার তথ্য বের করে আনার চেষ্টা করছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

ফাহিম সালেহকে মিলিয়নিয়ার সিইও উল্লেখ করে আমেরিকাসহ বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের টানা সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমেও একজন বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে তাঁর পরিচিতি দিয়ে আলাদা সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। ফাহিমের হত্যাকাণ্ড নিউইয়র্ক পুলিশের জন্য হাইপ্রোফাইল মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফাহিমের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকসহ সব মহলের প্রতি তাঁদের এ কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৬ জুলাই পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিবার, স্বজনের সঙ্গে বা ফাহিমের বন্ধুর সঙ্গেও যোগাযোগ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *