প্রথম কার্যদিবসেই ১৭টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেন বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই ঐক্যের ডাক দিলেন জো বাইডেন। এসময় বিভেদ দূর করে নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ক্ষমতাগ্রহণের পর অভিষেক ভাষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বাইডেন বলেন, এটা আমেরিকার দিন। এটা গণতন্ত্রের দিন। আজ কোনো প্রার্থীর বিজয় নয়, আমরা একটি কারণ উদযাপন করব। কারণটি গণতন্ত্র। মানুষের প্রার্থনা কবুল হয়েছে। মানুষের ইচ্ছার মান রাখা হয়েছে। ক্যাপিটলের অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ লিমুজিনে চড়ে হোয়াইট হাউসের পথে রওয়ানা দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্টের প্রতীক হিসেবে গাড়িটির নম্বর প্লেটেও লেখা হয়েছে ৪৬। এসময় তাদের পেছনে ছিল বিশাল গাড়িবহর। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসা প্রেসিডেন্টের গাড়ির সঙ্গে হেঁটে আসেন মাস্ক পরা ছয়জন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাও। হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি আসলে একসময় নেমে হাঁটা শুরু করেন বাইডেন দম্পতি। এসময় সাংবাদিকদের বাইডেন বলেন, মনে হচ্ছে, বাড়ি যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পর ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে পা রাখেন কমলা হ্যারিসও। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সেকেন্ড জেন্টেলম্যান ডগ এমহফ।
এসময় বাইডেন বলেন, আমি আপনাকে এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবো। একইসঙ্গে এটাও বলছি যে, যারা আমাকে সমর্থন করেননি তাদের হয়েও আমি লড়বো। আমার একটাই আকুতি, আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো। আমি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে আমার সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে একতার। নতুন করে শুরুর ডাক দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। ক্যাপিটল হিলে হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়েন বাইডেন বলেন, কিছু উগ্র জনতা কদিন আগেও সহিংসতা চালিয়ে আমেরিকার ভিতকে কাঁপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তা সম্ভব হয়নি। আমেরিকাকে নতুন করে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১৭টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। অন্য নির্বাহী আদেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের ঠিক উল্টো। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের নতুন শাসকের অভিষেকে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। শপথ গ্রহণের পরপরই তাদের জন্য শুভেচ্ছার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। বাইডেন-হ্যারিসকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও জোটের প্রধানরা। বিশ্ব নেতাদের মধ্যে যারা শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, পোপ ফ্রান্সিস প্রমুখ।
সূত্র : সি এন এন।





