#আন্তর্জাতিক

তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কমিটি অবলুপ্ত।

পশ্চিমবঙ্গের ১০৮টি পৌরসভার নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে দলীয় কোন্দালে জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ কোন্দল মেটাতে গত শনিবার বিকেলে দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে সভানেত্রীর পদ বাদে তিনি দলের জাতীয় স্তরের সকল শীর্ষ পদের অবলুপ্তি ঘটান। সভানেত্রী পদে মমতা নিজে রয়েছেন। এর পরিবর্তে মমতার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতি বা জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আপাতত দলের কাজ চালাবে।

দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটের মমতার বাড়ির দপ্তরে বসে বিশেষ এ বৈঠক। এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মমতার নেতৃত্বে দল সামলাবে ২০ জনের জাতীয় কর্মসমিতি। আপাতত ১৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পরে আরও চারজন সদস্যের নাম জানাবেন মমতা। কমিটিতে জায়গা পাওয়া ১৬ জন হলেন– মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত মিত্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বকসী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বুলুচিক বরাইক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুখেন্দু শেখর রায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অসীমা পাত্র, মলয় ঘটক, রাজীব ত্রিপাঠী, অনুব্রত মন্ডল ও গৌতম দেব। পরবর্তীতে মমতা কমিটির সদস্যদের পদ ও কাজ ভাগ করে দেবেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।

এবারের আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের ১০৮টি পৌরসভার নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় নির্বাচন (লোকসভা, বিধানসভা এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের) দেখভাল করে আসছিল তৃণমূলের নিয়োগ করা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর বা পিকের আইপ্যাক বা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’। তারাই মূলত দলের সঙ্গে আলাপ করে এসব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকা তৈরি করেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী প্রমুখ।

অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োজিত আইপ্যাকও নিয়মমাফিক আরেকটি তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু মমতা স্বীকৃতি দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীর তালিকাকে। কিন্তু তাঁদের সেই তালিকা প্রকাশ পাওয়ার আগেই আইপ্যাকের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ায় এটা নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র বিরোধ শুরু হয়। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মমতার তালিকা গ্রহণ করার জন্য রাজ্যব্যাপী আন্দোলন শুরু করে তৃণমূল।
আর এই আন্দোলনের মুখে মমতা জানিয়ে দেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সীর তালিকাই তৃণমূলের তালিকা। ওই তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরাই পৌর নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে যোগ্য হবেন। ফলে এই ঘটনা নিয়ে আইপ্যাকের সঙ্গে চরম বিরোধ দেখা দেয়। রাজ্যে এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে, এবার আইপ্যাককে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মমতা উত্তর প্রদেশের নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অন্য যে প্রার্থী তালিকা দলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রকাশিত হয়েছে, তা খারিজ করা হয়েছে। দলের নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীর স্বাক্ষরিত তালিকাই দলের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র : এবিপি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *