#আন্তর্জাতিক

তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট।

এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছেন তুরস্ক ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট। এই সপ্তাহেই দুই নেতার বৈঠকের কথা রয়েছে। এমন সময়ে এই বৈঠকের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে আঙ্কারা। গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ।

তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে এক সময় ভালো সম্পর্ক থাকলেও এরদোয়ান আমলে সেই সম্পর্কে ভাড়া পড়ে। ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের ঘোরতর সমালোচক এরদোগান প্রশাসন। অন্যদিকে গাজার ক্ষমতাসীন দল হামাসের প্রতি আঙ্কারার সমর্থন নিয়ে তেল আবিবের উদ্বেগ রয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েনের এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে উভয় দেশ পরস্পরের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে টানাপড়েনের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় তুরস্ক। এর মধ্যেই গত জানুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে আঙ্কারায় আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন এরদোয়ান। সে অনুযায়ী আগামী ৯ মার্চ দুই দিনের সফরে তুরস্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

তার এই সফরে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা গেছে। তুরস্ক হয়ে ইউরোপীয় গ্রাহকদের কাছে ভূমধ্যসাগরীয় গ্যাস সরবরাহের পুরোনো প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করতে চায় আঙ্কারা। এরদোয়ান নিজেও এই প্রকল্পের প্রতি তার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফর নিয়ে এরদোয়ান বলেছেন, এই সফর একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।

তুরস্ক তার জ্বালানি চাহিদার বেশিরভাগই আমদানি করে। তবে দেশটি কৃষ্ণ সাগরে ৫৪০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী বছর নাগাদ এটি উত্তোলনের আশা করছে দেশটি।

ভূমধ্যসাগর থেকে গ্যাস সরবরাহ রাশিয়ান গ্যাসের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমাতে পারে। তবে তুরস্ককে বাদ দিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে ইউরোপে পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে গত জানুয়ারিতে সন্দেহ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নিউমেড এনার্জির প্রধান নির্বাহী ইয়োসি আবু দুই সপ্তাহ আগে বিনিয়োগকারীদের এক সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান সবসময়ই পরিষ্কার। আপনি যদি গ্যাস চান, দারুণ। আমরা দিতে প্রস্তুত। আপনি আমাদের এদিকে পাইপলাইন তৈরি করুন এবং আমরা গ্যাস সরবরাহ করবো।’ ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত অলঙ্কারিক। ফলে সম্পর্কোন্নয়ন কিংবা ইউরোপীয় গ্রাহকদের কাছে ভূমধ্যসাগরীয় গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে একযোগে কাজ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের আঙ্কারা সফর দ্বিপাক্ষিক সফর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৭ সালে ইসরায়েলের কোনও প্রেসিডেন্ট তুরস্ক সফর করেন। ২০০৮ সালে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্ষুব্ধ হয় আঙ্কারা। ২০১০ সালে গাজা অভিমুখে যাত্রা করা তুরস্কের ত্রাণবাহী জাহাজ বহর ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তুর্কি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। পরে অবশ্য ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানায় ইসরায়েল। ওদিকে দেশের অর্থনীতি বিবেচেনায় তুরস্কও পুরনো ক্ষত ভুলে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথে অগ্রসর হয়।

তথ্যসূত্র : সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *