#আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানে যেকোন সময় চীনের সামরিক অভিযান।

তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনও সময় ‘সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে চীন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের জেরেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উইউ কিয়ান বলেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, তারা সামরিক অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাবো। চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখ-তা, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন ও তাইওয়ানের স্বাধীনতার নামে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বাইরের শক্তির বাড়াবাড়ির জবাব হিসেবে পরিচালিত হবে এ অভিযান।’

চীনের তরফে দেয়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এদিন তাইওয়ানে পৌঁছান ন্যান্সি পেলোসি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে তাকে বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজ রাজধানী তাইপে অবতরণ করে। একই সময়ে তাইওয়ান উপত্যকা ও পূর্ব উপকূলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় চীন।

তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বিবেচনা করা বেইজিং এই সফরের ‘মারাত্মক পরিণতির’ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন,‘যুক্তরাষ্ট্র উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাদের অবশ্যই এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের ঘটনায় দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। গতকাল বুধবার ভোরে অঞ্চলটি থেকে বেশ কিছু ফল, দুই ধরনের মাছ ও বালু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে রাতেই এ ধরনের আরেকটি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয়। সেটিতে তাইওয়ান থেকে বিস্কুট ও কনফেকশনারী সামগ্রীসহ আরও বেশ কিছু পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের কথা বলা হয়।

রাজনৈতিক মতবিরোধ সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইপের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ গভীর। তাইওয়ানের রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশই হয়ে থাকে চীনে। দুই পক্ষই পরস্পরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

এদিকে তাইওয়ানে ন্যান্সি পেলোসির ঐতিহাসিক সফরকে চরম বিপজ্জনক আখ্যা দিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার আগুন নিয়ে খেলছেন বলেও অভিযোগ করেছে চীন। দেশটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আগুন নিয়ে যারা খেলবে তারাই নিজেরাই এতে ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তাইওয়ানের পার্লামেন্টে ন্যান্সি পেলোসি: তাইওয়ানের পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। গতকাল বুধবার সকালে সেখানে দেয়া এ ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে সংসদীয় আদানপ্রদান আরও বাড়াতে চান তিনি।

সকালে পার্লামেন্ট ভবনে পৌঁছালে সেখানে মার্কিন স্পিকারকে স্বাগত জানান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাই খাই চং। পরে সেখানে দেয়া ভাষণে তাইওয়ানের সমাজব্যবস্থাকে ‘বিশ্বের অন্যতম মুক্ত সমাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ন্যান্সি পেলোসি।

১৯৮৯ সালে ছাত্র বিক্ষোভে গণহত্যার দুই বছর পর বেইজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কয়ার সফরের স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেন পেলোসি। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে মানবাধিকার বিষয়ে বিবৃতি দিতে গিয়েছিলাম। আমাদের সফরের বিষয়বস্তু ছিলো নিরাপত্তা ইস্যুতে। বহু বছর ধরে নিরাপত্তা, অর্থনীতি আর গভর্ন্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

এর আগে তাইওয়ানে পৌঁছে টুইটারে দেয়া পোস্টে পেলোসি বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল তাইওয়ানের গতিশীল গণতন্ত্রের প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। টুইটে তিনি বলেন, তাইওয়ানের দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের সঙ্গে আমেরিকার সংহতি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বিবেচনা করা বেইজিং এই সফরের ‘মারাত্মক পরিণতির’ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটি তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে পারে। তাদের অবশ্যই এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে। চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষুণœ করার দায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বহন করতে হবে। এর জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।’

তথ্যসূত্র : সংগ্রাম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *