কাজাখস্তানে সহিংসতায় ১৩ পুলিশ নিহত।
সরকার পতনের পরও সহিংসতা অব্যাহত আছে কাজাখস্তানে । একদিকে বিক্ষুব্ধ জনগণ, অপরদিকে বিক্ষোভ দমাতে কঠোর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এতে শতাধিক নিহতের আশংকা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির প্রেসিডেন্টের সহযোগিতায় সৈন্য পাঠিয়েছে রাশিয়া। এদিকে কাজাখস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে রাশিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
খবরে বলা হয়, কাজাখস্তান পুলিশের মুখপাত্র সালটানেট আজিরবেক খবর টুয়েন্টিফোরকে জানিয়েছেন, কট্টরপন্থীরা রাতভর প্রশাসনিক ভবন ও দেশের সবচেয়ে বড় শহর আলমাটির পুলিশ বিভাগের দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি জানান, বহু হামলাকারীকে দমন করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি জেরে শুরু হওয়া সহিংসতাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় ঘটনা বলা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা রাজধানী আলমাটিতে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ভবন ও মেয়রের অফিসের সামনে জড়ো হন। পরে ভাংচুর চালিয়ে আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়।
কাজাখস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সহিংস বিক্ষোভে পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩০০ আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সি কাজাখস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানায়, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১ হাজারে বেশি আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, নিহত ১৩ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দুজনের শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে। দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
এরআগে বুধবার উদ্বেগ বাড়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত সাবেক ৬ রাষ্ট্রের জোট কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অরগানাইজেশনের (সিএসটিও) কাছে সহায়তা চান প্রেসিডেন্ট কাসেম জোমার্ত তোকায়েভ। সহিংসতার পেছনে বিদেশি প্রশিক্ষত দুস্কৃতকারীদের অভিযুক্ত করেন তিনি। রাশিয়া সেনা পাঠানোর পর এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইইউ মুখপাত্র বলেছেন, অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে সকল পক্ষের প্রতি আহবান জানাই। আলোচনাই পারে সমস্যা নিরসন করতে। কাজাখস্তানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি রাশিয়াকে অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানায় ইইউ। রাশিয়া অবশ্য বলছে, সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো দেশটিকে স্থিতিশীল করা। শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।





