ইমরান খানের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ।
শনিবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ৩৪২ জন সদস্যের মধ্যে যদি ১৭২ জন বিরুদ্ধে ভোট দেয় তাহলেই প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাবেন ইমরান খান। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী ইমরান খানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯০ জন ভোট দেবেন। ফলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর গদি ছাড়তে হবে। তবে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শনিবার অনাস্থা ভোটের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন ইমরান খান।
এদিকে পাকিস্তানের রাজনীতি হঠাৎ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। উল্লাসের পরিবর্তে পিটিআই শিবিরে ভর করেছে দুশ্চিন্তা। বিরোধী শিবিরে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। পার্লামেন্ট পুনর্বহালে আজ শনিবার অনাস্থা ভোটে ইমরান খানের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে ধরে নিয়ে সম্ভাব্য নতুন ফেডারেল সরকার গঠনের আলোচনা শেষ করেছে বিরোধী জোট। তারা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীও ঠিক করে ফেলেছে। ফেডারেল সরকারে সব বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টে ইমরান খানের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের আদেশ এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের পর টুইট বার্তায় তিনি বলেন, দেশের জন্য শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় পরিষদ পুনর্বহাল ও অনাস্থা ভোট আয়োজনের নির্দেশ দেওয়ার পর ইমরান খান একটি টুইটে জানান, তিনি শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করবেন। শুক্রবার ইমরান খান তার দলের সদস্যদের নিয়ে জরুরী বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। বৈঠক শেষে তিনি পাকিস্তানে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
অনাস্থা ভোটে ইমরান খানের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে ধরে নিয়ে সম্ভাব্য নতুন ফেডারেল সরকার গঠনের আলোচনা শেষ করেছে বিরোধী জোট। তারা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীও ঠিক করে ফেলেছে। ফেডারেল সরকারে সব বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সুপ্রিম কোর্টে ইমরান খানের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের আদেশ এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের পর টুইট বার্তায় তিনি বলেন, দেশের জন্য শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান টুইটে লিখেন, ‘আমি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছি। সেইসঙ্গে সংসদীয় দলেরও বৈঠক ডেকেছি। গতকাল সন্ধ্যায় (শুক্রবার) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার কথা। তিনি বলেন, আমার বার্তা হলো, আমি সব সময়ই পাকিস্তানের হয়ে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে যাবো’।
বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভির পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বেআইনি এবং ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রী পদে এবং মন্ত্রিসভাকে পুনর্বহালের রায় দেন। আদেশে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভাকে পুনর্বহাল এবং আজ শনিবার (৯ এপ্রিল) পার্লামেন্টে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। পাঁচ দিন শুনানির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় দিয়েছেন।
রায়ে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়াল বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং বাস্তব সম্ভাবনা দেখেই আদালত এগিয়ে এসেছেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়ার অধিকার নেই প্রধানমন্ত্রীর। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, শীর্ষ আদালতের যেকোনও সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত তিনি। ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের যেকোনও সিদ্ধান্ত মেনে নেবো। পিটিআই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং আমরা কোনও বিদেশি ষড়যন্ত্র সফল হতে দিবো না’। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত দেওয়া রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী দলগুলো। আর সরকার দলের প্রতিনিধিরা আদালতের এমন আদেশে অসন্তোষ জানিয়েছে। এই রায়কে দুর্ভাগ্যজনক অ্যাখ্যা দিয়ে দেশকে আরও রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ইমরান খানের সমর্থকরা।
তথ্যসূত্র : পাক নিউজ।





