#আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখবে জাপান।

ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালানোর কারণে অনেক দেশই নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করছে রাশিয়ার ওপর। এতে আমদানি-রফতানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এ সময় জাপান হয়তো তার পশ্চিমা মিত্রদের মতোই রাশিয়ার জ্বালানি প্রকল্প বয়কট করবে। কিন্তু রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছে জাপান।

রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানি করে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়া থেকে অশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধ করবে না তার দেশ। এ বিষয়ে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের পথে হাঁটবে না।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাশিয়া বয়কটের পর বেশ চাপের মুখে পড়ে জাপান। ৯ মার্চ এক আলোচনায় কিশিদা বলেন, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাই জাপানের জাতীয় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ইঙ্গিত দেন, সম্পদের দিক থেকে দরিদ্র জাপান জ্বালানি আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তারা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বহন করতে পারবে না।

কিশিদা এও বলেন, জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে কাজ করছে। সেই সঙ্গে তার সরকার গ্রুপ অব সেভেনের শিল্পোন্নত জাতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউক্রেন সংকটে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে।

জাপানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর ৯৪ শতাংশই আমদানিনির্ভর। যুক্তরাজ্যের তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেলের তথ্যমতে, বিশ্বের এলএনজি বাজারের ৪ শতাংশ সরবরাহ করে রাশিয়ার শাখালিন-২। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন তাদের মূল ক্রেতা।

জাপানে মোট চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ কয়লা আসে রাশিয়া থেকে। তাছাড়া অশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি হয় যথাক্রমে ৬ ও ৮ শতাংশের কাছাকাছি। তাই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস প্রজেক্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে আনা জাপানের জন্য বেশ কঠিন।

তথ্যসূত্র : প্যাসিফিক নিউজ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *