গাজায় সহায়তার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের।
সম্প্রতি ইসরায়েলে সঙ্গে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের অস্ত্রবিরতি আরও দৃঢ় করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্লিংকেনের এই ঘোষণা এলো বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিলো তা প্রশমিত করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন। বন্ধের আগে এই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা রাখতো।
ট্রাম্পের প্রশাসন জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দুই বছর পর ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করে শহরটিতে থাকা মার্কিন কনস্যুলেটকে দূতাবাসের সঙ্গে একীভূত করে ফেলে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ফিলিস্তিনিরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার পূর্বসূরীর ওই পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত পাল্টাতে না চাইলেও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য লাখ লাখ ডলারের সহায়তা পুনর্বহাল করেছেন যা ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় বাতিল করেছিলেন।
মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে ব্লিংকেন বলেন, জরুরি দুর্যোগ ত্রাণ হিসেবে গাজার জন্য ৫৫ লাখ ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তিন কোটি ২০ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়া হবে সেখানকার জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি সহায়তা সংস্থাকে।
এছাড়া ২০২১ সালে ফিলিস্তিনিদের জন্য উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা হিসেবে অতিরিক্ত সাড়ে সাত কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন ব্লিকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় থাকা হামাস যাতে এই সহায়তা তহবিল থেকে কোনভাবেই সুবিধা নিতে না পারে ওয়াশিংটন তা নিশ্চিত করবে বলে ব্লিংকেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সহায়তা তহবিল সঠিকভাবে বিতরণ করা হলে সার্থকভাবেই হাসামকেই দুর্বল করা হবে যারা মানুষের অসহায়ত্ব, দুর্দশা, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া, সুযোগের অভাবকে কাজে লাগিয়ে টিকে আছে।”
মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্লিংকেন জানান, ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র এখনও দুই-রাষ্ট্র সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কিন্তু ইসরায়েল অথবা ফিলিস্তিন আবারও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা এই সমাধান প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।





