আমরা ফালতু কাজে সময় নষ্ট করছি : গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ।
সম্পাদকীয় :
সারাদেশের মতো গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশও কর্মী সংকটে ভুগছে অনেকদিন ধরে। সরকারের বাজেট কাটতির জন্যে গত দশ বছরে যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় দশ হাজার পুলিশ অফিসার ছাটাই করা হয়েছে। শুধু ল্যাঙ্কেশায়ার কাউন্টি থেকে প্রায় ৫০০ অফিসার বিদেয় করা হয়েছে, যা ফোর্সের স্বাভাবিক কর্মকান্ডকে ব্যহত করছে অনেকদিন ধরে। গত পাঁচ বছরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারে ছোট বড় অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে। পুলিশের সূত্র মতে, গড়ে প্রতিদিন ১০৭৭টি রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ছোট খাটো চুরি বা রাহাজানিই বেশি।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের চিফ কনস্টেবল ‘ইয়ান হপকিংস’ বলেন, কর্মী সংকট এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও সময় মতো আমরা উপস্থিত থাকতে পারিনা। ছোট খাটো এমন হাজারো অভিযোগ আসে, যা খাতাতে লিপিবদ্ধ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকেনা। বিগত বছরগুলিতে ক্রমাগত সরকারকে বলার পর, গত বছর প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ২০০০ নতুন অফিসার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৮৯ জন নতুন অফিসার গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশে যোগদান করেছেন, আরো ১০০ জন প্রক্রিয়াধীন আছেন। আগের তুলনায় সংখ্যার বিচারে আমরা কিছুটা ভালো অবস্থানে আছি সত্যি, কিন্তু কাজের বর্ধিত চাপের সাথে এখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘স্পেশাল কনস্টেবল (অবৈতনিক)’ দের দিয়ে কিছুটা চাপ কমানোর চেষ্ঠা আমরা করছি সত্যি, তবে এটা স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক হওয়ায় এদেরকে দিয়ে সব সময় সব কিছু করানো যায়না।
উল্ল্যেখ, গত ৩০শে জুলাই গ্রেটার ম্যানচেস্টার লক ডাউন ঘোষণা করার পর থেকে পুলিশের কাজের চাপ আরো বেড়ে গেছে। আইনকে ফাঁকি দিয়ে যে যার মতো পার্টি, সমাবেশ করে যাচ্ছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দৈনিক গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি অভিযোগ জমা পড়ছে পুলিশের কাছে, তন্মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ টি ঘটনা সরজমিনে তদন্ত করার সুযোগ পায় গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অনেক সময় পুলিশকে জরুরী কাজ ফেলে আসতে হয় অভিযোগকারীর ক্রমাগত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে। এতে করে পুলিশ অনেক জটিল ও স্পর্শকাতর মামলাগুলি ভালো করে খতিয়ে দেখার সুযোগ পায়না। পাশাপাশি অফিসারও অতিরিক্ত কাজের চাপে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্থ থাকেন। বিশেষ বিশেষ দিনে অফিসারদেরকে দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়। ‘এতো সব কর্মযজ্ঞের মধ্যে যখন হাউস পার্টি বন্ধ করার মতো অবাঞ্চিত কলগুলি আসে, তখন সত্যিই বিরক্ত লাগে’- বলছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ‘মনেহয় আমরা ফালতু কাজে কাল ক্ষেপন করছি।’
সত্যিকার অর্থেই, আমরা নগরবাসীরা পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করছি অযথা আইন ভেঙে। বিনোদনের প্রয়োজন আছে সত্যি, তবে তার জন্যে সময় ও প্রেক্ষাপট যথার্থ কিনা সেটা বিবেচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।





