ASDA কিনে নিলেন ব্লাকবার্ন শহরের দুই সহদর !
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বারি এলাকার নিবাসী দুই সহদর মহসিন(৪৯) ও জুবের (৪৮) ঈসার কোটিপতি হওয়ার উপাখ্যান যেকোন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। ছোট্ট একটি পেট্রোল স্টেশন দিয়ে যাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তারা আজ যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ধনীদের একজন। অধুনা তারা ৬.৮ বিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে যুক্তরাজ্যের অন্যতম ব্যবসা সফল আমেরিকান সুপার মার্কেট আজডা (ASDA) কিনে নিয়েছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহসিন ও জুবেরের পিতা – মাতা ১৯৬০ সালে ভাগ্যন্নোষে যুক্তরাজ্যে আসেন। অত্যন্ত সাদা মাটা ভাবেই তাদের শৈশব ও কৈশোর কাটে। শ্রমজীবি বাবার আটপৌর সংসারে আট দশটা এশিয়ান পরিবারের সন্তানদের মতোই ব্ল্যাকবার্ন শহরের ছোট্ট একটি ঘরে বেড়ে উঠতে থাকেন দুই ভাই।
১৯৯০ সালের শেষের দিকে তাদের বাবা কটন মিলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরনো একটি পেট্রোল স্টেশন কেনেন যেখানে অল্প বয়সী এই সহদর বাবাকে সাহায্য করেন জ্বালানি তেল বিক্রি সহ অন্যান্য কাজে। বছর কয়েক পর সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দিয়ে নতুন কিছু করার কথা ভাবেন। কিছুদিন পর মহসিন ও জুবের নতুন আরেকটি পেট্রল স্টেশন ভাড়া নেন যেখানে তারা জ্বালানি তেল বিক্রির পাশাপাশি কফি, স্যান্ডউইচ ও অন্যান্য হালকা খাবার বিক্রি করতে থাকেন। ব্যবসাটি যথেষ্ট লাভজনক হওয়ায় দুই ভাই এর শাখা বিস্তারের কথা ভাবেন। আর এই ভাবনা থেকেই ২০০১ সালে তাদের প্রথম ফোরকোর্টের যাত্রা শুরু হয়। দেড় লক্ষ পাউন্ড দিয়ে বারির ব্রান্ডেলহোম রোডে তাদের প্রথম ফোরকোর্টের যাত্রা শুরু হয় ‘ইউরো গ্যারেজ’ নাম দিয়ে।
এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যবসা ফোলে ফেঁপে রাতারাতি দুই ভাই মিলিনিয়ার বনে যান।
আস্তে আস্তে তাদের ব্যবসা সমস্ত নর্থ ওয়েস্টে ছড়াতে থাকে। প্রতিটি ফোরকোর্টে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি অন্যান্য ছোট ছোট অথচ জনপ্রিয় ব্রান্ডের (স্পার, সাবওয়ে ইত্যাদি ) শাখা খুলতে থাকেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের ফোরকোর্ট গাড়িতে ভ্রমণকারী মানুষদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতেই ইউরো গ্যারেজ ‘ইজি গ্রুপে’ রূপান্তরিত হয়।
আজ ইজি গ্রুপের ব্যবসা যুক্তরাজ্য ছাড়িয়ে ইউরোপ আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বের ১০টি দেশে তাদের ৬০০০ ফোরকোর্ট আছে যেখানে প্রায় ৪৪,০০০ মানুষ কাজ করে। ঈসা সহদরদের বর্তমান সম্পদের পরিমান ৩ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।





