#গ্রেটার ম্যানচেস্টার

করোনা পরিস্থিতির ধোঁয়াশা কাটছেনা ওল্ডহ্যামবাসীর

সম্পাদকীয় :
করোনা সংক্রামনের মাত্রা দিনকে দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে ওল্ডহ্যামে। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আরো ১৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, গড় অনুপাতের যা দাঁড়াচ্ছে ৭৮.৯ প্রতি এক লক্ষজনের মধ্যে।

একদিকে মানুষ যেমন আতংকিত ব্যাধির বিস্তার নিয়ে, ঠিক অন্যদিকে শঙ্কিত সরকারী বিধি নিষেধের প্রয়াগের মাত্রা দেখে। গত পাঁচ মাসে করোনা মহামারীর কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, অনেকের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। যারা এখনো কিছু করে খাবার চেষ্ঠা করছেন, তারাও আতংকে আছেন নতুন করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে। গত ৩০শে জুলাই গ্রেটার ম্যানচেস্টারে সংশোধিত রূপে নতুন করে লক ডাউন ঘোষণার পর থেকে ওল্ডহ্যামের সংক্রামণের অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, এ যাবত কালে ইংল্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রামিতের পর্যায়ে চলে যায়। বার বার স্বাস্থ্যবিধী মেনে চলার তাগিদ দেওয়ার পরও কোন উন্নতি না দেখে ওল্ডহ্যাম বারার কর্তা ব্যক্তিরা লেস্টারের মতো পুরোপুরি লক ডাউন করে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথেও আলোচনা হয় দফায় দফায়। এ সকল খবর গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার অধিবাসীরা আতংকিত হয়ে পড়েন। তারা এই বিভীষিকা থেকে বেরিয়ে আসতে চান। পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধব থেকে দূরে থেকে এ কয়েকমাস যাবত এমনিতেই তারা মানসিক পীড়ায় আছেন, তার উপর যদি সম্পূর্ণ লক ডাউন দেয়া হয় তবে তারা সত্যিকার অর্থেই বিচ্ছিন্ন হবে যাবেন। বারার সাথে নাগরিক আলোচনায় এই বিষয়টি বার বার উঠে এসেছে।

অবশেষে, ওল্ডহ্যাম বারা সিন্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা সম্পূর্ণ লক ডাউন আপাতত দিচ্ছেনা, তবে কিছু বর্ধিত বিধি নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে শনিবার ২২শে আগস্ট মধ্যরাত থেকে। নতুন আরোপিত নিয়মে বলা হয়েছে, এখন থেকে নিজ গৃহে বসবাসরত পরিবারবর্গ ছাড়া অন্য কেউই আসতে পারবেনা। পাব ও রেস্তোরায় বাহিরের কাউকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। জন সম্মুখে সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি পি পি ই ছাড়া প্রবেশাধিকার রোধ করবে।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্নের উদয় হয়েছে, কেউ কেউ বলছেন স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টাকে জটিল করে তুলছে। একদিকে বলা হচ্ছে, আত্মীয় পরিজনের সাথে মেশা যাবেনা, বাইরে যাওয়া যাবেনা অথচ রেস্তোরায় সম্পূর্ণ অচেনা কারোর পাশে বসে খাবার খাওয়া যাবে ? বিষয়টা অনেকটা পরস্পরের সাথে সাংঘর্ষিক ! এই রকম নীতির কারণে মানুষ দ্বিধা দ্বন্দে পড়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তুলবে। তাদের মতে, সরকারের উচিত সবদিক বজায় রেখে সামঞ্জস্যপূর্ন কোন নীতি প্রস্তুত করা।

আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বারার উচিত ত্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা প্রস্তুত করা যা সহজেই পালনীয়। করোনা রোধ কল্পে সামাজিক প্রচারণায় বেশি মনযোগী হওয়া। পাশাপাশি সহনশীল মাত্রায় একটি সুস্ট পালন নির্দেশিকা তৈরী করে জনগণকে মেনে চলার জন্যে উদ্ভুদ্ধ করা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *