হাউস পার্টির কারণেই সংক্রামণের হার উর্ধমুখী
সম্পাদকীয় :
গত ৩০শে জুলাই হতে গ্রেটার ম্যানচেস্টারে লক ডাউন ঘোষণা হলেও বন্ধ হয়নি হাউস পার্টি। ৬ই অগাস্ট থেকে পরিপূর্ন আইন আকারে গ্যাজেট হলেও, ম্যানচেস্টারবাসীর তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই বললেই চলে। বর্তমান আইনে বলা আছে, বাইরের কাউকেই ঘর অথবা আঙিনার কোথাও অবস্থান করতে দেয়া যাবেনা। আইন ভঙ্গকারীকে ১০০ পাউন্ড জরিমানা করার বিধানও রাখা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা জাতীয় গণমাধ্যমে আসায় তোলপাড় চলছে দেশময়। নিজস্ব গার্ডেনে সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে প্রায় ২০০ মানুষকে নিয়ে পার্টি করার থার্মাল চিত্র পুলিশ ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর কর্তৃপক্ষ নড়ে চড়ে বসে। অবৈধ পার্টি করার দায়ে পুলিশ জরিমানাও করেছে কয়েকজনকে। কিন্তু, এতো কিছুর পরও পার্টি বেড়েছে বই কমেনি।
কেনো এমনটি হচ্ছে ? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে গিয়ে দেখা যায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়ার পাশাপাশি, পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে অজ্ঞতাও দায়ী। সমস্ত ইংল্যান্ড জুড়ে যখন লক ডাউন উঠিয়ে দেয়া হয়েছে পর্যায়ক্রমে, তখন লেস্টারের পর ম্যানচেস্টারই একমাত্র শহর যেখানে নতুন করে লক ডাউন জারি করা হলো অনির্দিষ্ট কালের জন্যে। পরিস্থিতির অবনতি বেশিরভাগ মানুষকে ভাবিয়ে তুললেও, গুটি কয়েক জনসংখ্যার অপরিপক্ক কার্য কলাপের ফল সমস্ত ম্যানচেস্টারবাসীকে ভুগাচ্ছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মধ্যে ওল্ডহ্যাম বারায় সংক্রামিতের সংখ্যা সর্বোচ্চ এবং দিন দিন তা বেড়েই চলছে। অন্যান্য নয়টি বারার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির অবস্থান মাঝামাঝি হলেও, এখন আবার তা উর্ধমুখী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন লক ডাউন আইনে ঘরের মধ্যে এবং আঙিনায় কাউকে ঢুকতে দেয়া নিষেধ উল্লেখ করা থাকলেও কেউ মানছেনা। রেস্তোরা এবং পাবে শুধু মাত্র পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবতা ভিন্ন। পুলিশের অপ্রতুলতাও কিছু মানুষকে আইন ভাঙতে উৎসাহী করে তুলছে। এমনটি চলতে থাকলে দ্বিতীয়বার মহামারীতে পড়তে খুব একটা সময় লাগবেনা।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অধিবাসীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে এবং স্বাস্থ্যবিধী মেনে না চললে আগামীতে কঠিনতর পদক্ষেপের দিকেই তারা এগুবেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।





