#গ্রেটার ম্যানচেস্টার

ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টের ৪৬৫ জন কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষণা !

করোনা মহামারীতে সমগ্র বিশ্বের মতো যুক্তরাজ্যেও অর্থনৈতিক ধস নেমে এসেছে। গত ছয় মাসে এখানে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে।
বিগত দিনগুলিতে অনেক বড় বড় কোম্পানি কর্মী ছাটাই থেকে শুরু করে, শোরুম বন্ধ, শাখা অফিস প্রত্যাহার সহ নানান উদ্যোগ নেয় খরচ কমিয়ে আনার জন্যে। ক্রমাগত ব্যবসায় লোকসান দিয়ে অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শুরুতে যুক্তরাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসলেও এখন তা শেষের পথে। এই অবস্থায় করোনা মহামারীর দ্বিতীয় তরঙ্গ আরম্ভের লক্ষণ দেখা দেয়ায় টিকে থাকা বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিও নতুন করে সংকটের মুখে পড়ছে।

ব্যতিক্রম হয়নি ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টের ক্ষেত্রেও। যুক্তরাজ্যে ৩য় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হিসেবে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্ট গত ৮০ বছর ধরে সগৌরবে যাত্রী সেবা দিয়ে আসছিলো। অভ্যন্তরীন – আন্তর্জাতিক মিলিয়ে এই এয়ারপোর্ট বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন যাত্রীকে সেবা দিয়ে আসছে। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ ব্যবসা হারিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লক ডাউন নীতি, পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকারের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে অধিকাংশ এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম সীমিত করে নিয়ে এসেছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে কোম্পানিটি যাত্রী পরিসেবা দিয়ে যে আয় করতো, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টের বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী রয়েছে। এতদিন যুক্তরাজ্য সরকারের ফারলো স্কিমের আওতায় কর্মীদের মূল বেতনের ৮০ শতাংশ দিয়ে কোন রকম টিকেয়ে রাখলেও অক্টোবরের পর তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্তায় কোম্পানিটি মরিয়া হয়ে ব্যয় সংকোচনের বিভিন্ন পথ খোঁজছে যার একটি হচ্ছে কর্মী ছাটাই।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর ) ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ‘কারান স্মার্ট’ এক ভিডিও বার্তায় সকল কর্মীদের বাজেট সংকোচনের বিষয়টি তুলে ধরেন যার মধ্যে কর্মী ছাটাইয়ের কথাও ছিলো। পরবর্তীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৪৬৫ জন কর্মী ছাটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *