#দেশের খবর

হরতালে হেফাজতের তাণ্ডব দেশ জুড়ে।

হরতাল ডেকে হেফাজতে ইসলাম রবিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা তৃতীয় দিনের মতো তাণ্ডব চালিয়েছে মাদরাসাছাত্ররা। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আগুন দিয়েছে তারা। এ ছাড়া জেলার সরাইলেও হামলা-ভাঙচুর চালান হেফাজতের কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া রাজধানীর উপকণ্ঠ নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে শুক্রবার থেকে হেফাজতে ইসলাম তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। গত শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষোভের সময় সংঘাতের ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হামলা-ভাঙচুর চালায় হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা।

সেখানে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত হয়। এর প্রতিবাদ জানাতে ওই দিন বিকেলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় নামেন হেফাজতের কর্মীরা। তাঁরা রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং শহরে ব্যাপক তাণ্ডব চালান। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় একজন। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণাবাড়িয়ার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল হরতাল ডাকে হেফাজত। এর আগে শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর চালান সংগঠনের কর্মীরা।

ওই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাইরে চারজন এবং শহরে একজন নিহত হয়। গত তিন দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীতে সংঘাতের ঘটনায় ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রানা নুরুল শামস গতকাল তিনজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে আছে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে হাদিস মিয়া ওরফে কালন মিয়া (২৩) ও সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামের সুফি আলীর ছেলে আল আমীন (১২)। এ দুজন সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে সংঘর্ষে মারা যায়। জেলা সদরে নিহত অন্য আরেক যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া দুপুর পর্যন্ত ২৭ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় বলে জানা গেছে।

গতকাল সারা দেশে হেফাজতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচিতে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। দিনের শুরুতে যানবাহন কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে রাজপথে ফিরে আসে স্বাভাবিক চিত্র। পুলিশ, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল সবখানে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় হরতালের বিপক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। বিরোধী অবস্থানেও তৈরি হয় উত্তেজনা।

হরতালের নামে তাণ্ডব চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, হরতালে জানমাল রক্ষার্থে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি-গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

হেফাজতের আমির জুনাইদ বাবুনগরী দাবি করে বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। সারা দেশের জনগণ ও আলেমরা এতে সাড়া দিয়েছেন।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *