#দেশের খবর

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে গণপরিবহন।

দেশে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের আদলে ঘোষিত সাত দিনের নিষেধাজ্ঞায় ঢিলেঢালা অবস্থা কাটিয়ে কড়াকড়িভাবে তা কার্যকরের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছিল দুই দিন ধরে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরা এই তাগিদ দিচ্ছিলেন। লোকজনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ নজরদারির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে সরকার হঠাৎ করেই আজ বুধবার থেকে উল্টো ঢাকাসহ সব মহানগরীর ভেতরে গণপরিবহন তথা বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে প্রথম দিনের মতো গতকালও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঢিলেঢালা ভাব যাচ্ছে না। বাস বন্ধ থাকায় সড়কে চাপ ও মানুষের ভিড় অনেকাংশে কম ছিল, দোকানপাট বন্ধ থাকায় জনসমাগমও কিছুটা কম দেখা যায়। কিন্তু আজ থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হলে সরকারের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বা নিষেধাজ্ঞার ফল কী হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে যে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন, সেটা আবারও প্রমাণিত হচ্ছে। আমাদের এখন প্রয়োজন হলো পরিবহন, অফিস-আদালত বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে সরকারের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা দরকার হলে তাই করতে হবে। কারণ মানুষ মরবে আর আমরা তামাশা করব, সেটা হতে পারে না। পরিবহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং প্রতি পরিবহনে যাতে করে অর্ধেক যাত্রী চলাচল নিশ্চিত হয়, সেটা মনিটর করতে হবে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘মানুষকে কষ্ট দেওয়া লকডাউনের বা নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য নয়, মূল লক্ষ্য হচ্ছে সংক্রমণ ঠেকানো। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে অফিসগুলো তাদের কর্মীদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেনি বলেই অফিসগামী কর্মীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ হয়েছে, এখন পরিবহন চালু করা ছাড়া হয়তো সরকারের সামনে আর কিছু নেই। তাই সব কিছু সীমিত রেখেও যদি স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা যায়, সেটাও সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখবে। আর যদি দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই, তবে প্রয়োজনে সব কিছু বন্ধ করে দিতে হবে মানুষকে বাঁচানোর স্বার্থে।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে (আজ বুধবার) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করবে।’ তিনি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও জনসাধারণের যাতায়াতে দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার গণপরিবহনে চলাচলের বিষয়টি শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে পুনর্বিবেচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।’
গণপরিবহন চালানোর প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতি ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লায় গণপরিবহন চলাচল যথারীতি বন্ধ থাকবে। ৭ এপ্রিল বুধবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’

এদিকে সরকার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উদ্যোগ নিলে দেশের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ, গাড়ি ভাঙচুর, প্রশাসনের লোকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন অবস্থায় সতর্কভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে মাঠ প্রশাসন। সরকারের কেন্দ্র থেকে দেশব্যাপী করোনাসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা যাতে পালিত হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষ যাতে বিরক্ত না হয়, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। চারটি জেলার চারজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), একাধিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এবং কয়েকটি উপজেলার ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ফরিদপুর, পটুয়াখালী, পঞ্চগড়সহ বেশ কয়েকটি জেলায় অফিসারদের ওপর লোকজনের চড়াও হওয়ার অভিযোগ জানা গেছে। অনেক জেলা-উপজেলায় নির্দেশনা ভেঙে বিক্ষোভও হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *