#দেশের খবর

সৌদি প্রবাসীদের আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশী প্রবাসীদের আকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। আগামী রোববার থেকে নতুন ভিসা ইস্যু করা যাবে। এ ছাড়া আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতিও দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। এর আগে দেশে আটকেপড়াদের জন্য মোট তিন দফায় বাংলাদেশীদের আকামার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদী সরকার।

ড. আব্দুল মোমেন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘ আমাদের রাষ্ট্রদূত আমাকে ইতিবাচক ফলাফল জানাতে ফোন করেছিলেন।’ যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া রোববার থেকে শুরু হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের আকামা আরও ২৪ দিন বৈধ থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

ড. মোমেন বলেন, সৌদি সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অবতরণের অনুমতি দিয়েছে যা বাংলাদেশীদের সুষ্ঠুভাবে সেখানে ফেরাতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ সরকারও সমস্ত সৌদী এয়ারলাইনসকে এদেশে অবতরণ এবং বাংলাদেশীদের সৌদি আরবে নেয়ার অনুমতিও দিয়েছে। এর আগে দেশে আটকাপড়াদের জন্য মোট তিন দফায় বাংলাদেশীদের আকামার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদী সরকার।

আকামার সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এমন পরিস্থিতিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর আকামার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠায় দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস। সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানো এবং বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করার দাবিতে বুধবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। বুধবার সকালে কারওয়ান বাজারে সৌদি অ্যারাবিয়া এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা এবং সাড়ে ৯টার দিকে সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে অবস্থান নেন বলে জানান হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রশিদ। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ছেড়ে গেলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা প্রবাসী কল্যাণ ভবনের দিকে যান। সেখানে মন্ত্রণালয়ের ভবনের বাইরের রাস্তা দখলে নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের অন্য একটি দল জাতীয় প্রেসক্লাব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

প্রবাসী শ্রমিকরা জানান, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি আরবে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে না পারলে চাকরি হারাবেন। সৌদি আরবের চাকরিতে যোগ দিতে দেশটিতে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিটের দাবিতে মঙ্গলবার ও বুধবার কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকরা। করোনা ভাইরাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় সাত মাস পর ১ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে ঢাকা থেকে বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ঢাকা কার্যালয় বিমানের টিকিট দেয়া স্থগিত করায় প্রবাসী শ্রমিকদের এ বিক্ষোভের সূচনা হয়। গত সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকব্বির হোসেন জানিয়েছিলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে সৌদীতে ফ্লাইট পরিচালনা করার অনুমোদন পেয়েছেন তারা। তবে, তিনি আরও জানান যে বিমানের আসন বরাদ্দের সুযোগ দেয়ার আগে সে দেশে বিমান অবতরণের অনুমতি পেতে হবে। সৌদি আরবের কাছ থেকে এখনও তারা এ অনুমোদন পাননি। ‘ফলে, যাত্রীদের মাঝে এখনই আসন বরাদ্দ শুরু করা সম্ভব না। দেশটি থেকে বিমান অবতরণের অনুমতি পেলে সাথে সাথেই ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দেয়া হবে,’ বলেন বিমানের এমডি।

এদিকে বুধবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সৌদি আরবে ফিরে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশৃঙ্খলা করার পরিবর্তে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে এবং সবাই মিলে কাজ করছি।’

সৌদি সরকার শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কার্যক্রম সমর্থন করে না এবং এ ধরনের বিক্ষোভ কর্মীদের পক্ষে নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া বৈধ ভিসা এবং আকামার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার সৌদি সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছে বলেও জানান তিনি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত মঙ্গলবার অনুরোধ জানিয়েছি।’

এরআগে গতকাল বুধবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর জন্য সৌদি আরব সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে সরকারি ছুটি থাকায় সিদ্ধান্তের জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। গত দু’দিন ধরে প্রবাসীদের অনেকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ করছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর একটি বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, এ ধরনের বিক্ষোভ বা আন্দোলন করলে সৌদি আরবের কাছে ভুল বার্তা যাবে। সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসে যারা আটকা পড়েছেন তাদের অনেকে আজ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাছে এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজে ফেরত যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট না পাওয়া এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, সৌদি আরবের সব ধরনের বিমান যেনো ঢাকায় আসে এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশীদের যাওয়ার সুযোগ দেয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে সৌদি আরবকে। দু’জন মন্ত্রীই আটকেপড়া প্রবাসীদের দু’দিন ধৈর্য্য ধরার আহবান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর যে বিষয় এসেছে, তা নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ৮০ সালে সৌদি আরব ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অনেকের সেখানেই জন্ম এবং তারা আরবিতে কথা বলে।

মন্ত্রী মোমেন বলেছেন, ‘সৌদী সরকার এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায়। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করতে বলেছে। আমরা বলেছি, তাদের কাছে যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট বা কোন কিছু থাকে, তাহলে আমরা ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেবো। কিন্তু অন্য জায়গা থেকে গেলে আমরা দায়িত্ব নেবো না। সেটা তাদের জানিয়েছি।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে এ বিষয়ে সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *