বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ।
ভারতের সঙ্গে আজ সোমবার থেকে স্থল পথে চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই ঘোষণা ১৪ দিনের জন্য বলবৎ থাকবে। এর আগে থেকেই দেশটির সঙ্গে আকাশপথে চলাচল বন্ধ হয়েছে।
ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বড় ধরনের অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ১৪ দিন মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী যানবাহন চলবে।
ভারতে গত তিন দিনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৬ জনের। এই সময়ে এ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ জন। ভারতের রাজধানী দিল্লির হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মার্চের শেষে এসে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ভারতের সঙ্গে ৩০ দিন সীমান্ত বন্ধের দাবিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ভারতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ও ভারতের পশ্চিম বাংলায় করোনাভাইরাসের ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট ই.১.১৬৮ (বেঙ্গল স্ট্রেইন) আবির্ভাব ঘটার সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ।
মারাত্মক সংক্রমক এই বেঙ্গল স্ট্রেইনের বাংলাদেশে প্রবেশ প্রতিরোধ লক্ষ্যে ভারত থেকে আগমন ও প্রস্থান বাতিল করতে আগামী ৩০ দিন সীমান্ত বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ আহবায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা হারুন অর রশিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা রওশন আরা, জনস্বাস্থ্যসেবা সংগঠক অনুপ কুণ্ডু ও সামিউল আলম এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, মহামারি কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রথম থেকেই জনগণকে সম্পৃক্ত করার নীতি গ্রহণ না করে শেখ হাসিনা সরকার আমলা নির্ভর ভ্রান্ত নীতি গ্রহণ করায় দেশের জনস্বাস্থ্য আজ এক হুমকির মুখে পড়েছে। কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ না হয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ বিস্তার স্থায়ী হতে চলেছে। বিবৃতিতে দৈনিক টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, করোনা প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করার নীতি গ্রহণ করা , আগামী বাজেটে কোভিড-১৯ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামরিকখাতসহ অনুৎপাদক খাতে বরাদ্দ হ্রাস করে স্বাস্থ্যখাত, শিল্প ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।





